শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রযুক্তি, জাতীয় সেবা, ভাতা ও চাকরি তথ্যের নির্ভরযোগ্য সাইট

সর্বশেষ
বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের নতুন আবেদন থেকে নবায়ন: ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনলাইন প্রক্রিয়া জানুন শনিবার সরকারি অফিস, ব্যাংক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ? সাপ্তাহিক ছুটি নিয়ে যেসব নিয়ম জানা জরুরি নবম পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণে নতুন অসংগতি, ইনক্রিমেন্ট যোগ করেও কমছে মূল বেতন! ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির পূর্ণাঙ্গ ক্যালেন্ডার: ঈদ, পূজা ও জাতীয় দিবস মিলিয়ে থাকছে দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ সন্তানের নাম রাখার আগে জেনে নিন সরকারি নির্দেশনা, জন্মনিবন্ধনে এক শব্দের নাম নিয়ে সতর্কতা মোবাইল ইন্টারনেট ও মিনিট প্যাক বাছাইয়ে নতুন সুবিধা: পাঁচ অপারেটরের অফার তুলনা করে সাশ্রয়ী প্যাক খুঁজে দেবে অনলাইন টুল নবম পে-স্কেলের বকেয়া টাকা পেতে নতুন প্রক্রিয়া, গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মীদের জন্য পৃথক নির্দেশনা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে সতর্কতা, ডিএসইর উত্থান-পতনের ইতিহাস থেকে নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা Electricity Bill Calculator: সহজেই বিদ্যুৎ বিলের হিসাব করুন নবম পে স্কেলের বকেয়া বিল দাখিল হবে অফলাইনে, প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য আলাদা বিল প্রস্তুতের নিয়ম

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের নতুন আবেদন থেকে নবায়ন: ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনলাইন প্রক্রিয়া জানুন

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের নতুন আবেদন থেকে নবায়ন
বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের নতুন আবেদন থেকে নবায়ন: ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনলাইন প্রক্রিয়া জানুন ছবি: টেকনিক্যাল আলামিন

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা কর্মসংস্থানের জন্য ই-পাসপোর্ট এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি। প্রথমবার পাসপোর্ট তৈরি থেকে শুরু করে পুরোনো পাসপোর্ট নবায়ন, হারানো পাসপোর্ট পুনরায় সংগ্রহ কিংবা বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট রি-ইস্যু—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।

অনেক আবেদনকারী অনলাইনে আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পাসপোর্টের মেয়াদ, পৃষ্ঠাসংখ্যা, ফি পরিশোধ এবং বায়োমেট্রিক কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। আবার কেউ কেউ জানতে চান, ৫ বছর ও ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে, জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট পেতে কত দিন সময় প্রয়োজন এবং আবেদন জমা দেওয়ার পর কীভাবে অগ্রগতি জানা যাবে।

এসব বিষয় বিবেচনায় ই-পাসপোর্টের আবেদন, ফি, নবায়ন, বিদেশ থেকে আবেদন এবং হারিয়ে গেলে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।

ই-পাসপোর্টের ধরন ও মেয়াদ সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট সাধারণত পৃষ্ঠাসংখ্যা এবং মেয়াদের ভিত্তিতে নির্বাচন করা যায়। আবেদনকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী ৪৮ পৃষ্ঠা অথবা ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মেয়াদের ক্ষেত্রে রয়েছে ৫ বছর ও ১০ বছর।

এ ছাড়া পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় অনুযায়ী তিন ধরনের ডেলিভারি সেবা রয়েছে:

  • রেগুলার: সাধারণ প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট সংগ্রহ।
  • এক্সপ্রেস: তুলনামূলক দ্রুত পাসপোর্ট সংগ্রহ।
  • সুপার এক্সপ্রেস: জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট সংগ্রহের ব্যবস্থা।

যারা নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ করেন, তাদের জন্য পৃষ্ঠাসংখ্যা নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে যাদের দীর্ঘমেয়াদি পাসপোর্ট প্রয়োজন, তারা যোগ্যতা ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট নির্বাচন করতে পারেন।

ই-পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজপত্র লাগবে?

পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়স অনুযায়ী কাগজপত্রের পার্থক্য রয়েছে।

১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী আবেদনকারীদের সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ, পুরোনো পাসপোর্ট এবং চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনাপত্তিপত্র (NOC) বা পেশার প্রমাণ লাগতে পারে।

অন্যদিকে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ এবং বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্টের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। এ বয়সীদের ক্ষেত্রে সাধারণত ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ব্যবস্থা রয়েছে।

আবেদন করার আগে নিজের সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে নামের বানান, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম এবং ঠিকানা যেন সংশ্লিষ্ট পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন করবেন যেভাবে

ই-পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে। আবেদনকারীদের জন্য নির্ধারিত ঠিকানা হলো https://www.epassport.gov.bd/।

আবেদনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা যায়।

১. ওয়েবসাইটে নিবন্ধন: প্রথমে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।

২. আবেদন ফর্ম পূরণ: লগইন করে ব্যক্তিগত পরিচয়, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং পেশাসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে।

৩. পাসপোর্ট নির্বাচন: ৪৮ অথবা ৬৪ পৃষ্ঠা এবং ৫ অথবা ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট নির্বাচন করতে হবে। পাশাপাশি ডেলিভারির ধরন নির্ধারণ করতে হবে।

৪. ফি পরিশোধ: নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন ফি জমা দিতে হবে এবং পেমেন্টের রসিদ সংরক্ষণ করতে হবে।

৫. অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ: প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুসারে পাসপোর্ট অফিস ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য নিশ্চিত করতে হবে।

৬. বায়োমেট্রিক প্রদান: নির্ধারিত দিনে মূল কাগজপত্র নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে ছবি ও আঙুলের ছাপসহ প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হবে।

৭. যাচাই ও পাসপোর্ট সংগ্রহ: আবেদন যাচাই এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংগ্রহ করতে হবে।

২০২৬ সালে ই-পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগবে?

ই-পাসপোর্টের ফি নির্ভর করে পাসপোর্টের পৃষ্ঠা, মেয়াদ এবং ডেলিভারির ধরনের ওপর। সরবরাহ করা গাইডে উল্লেখিত ভ্যাটসহ ফি অনুযায়ী তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

পাসপোর্টের ধরন রেগুলার এক্সপ্রেস সুপার এক্সপ্রেস
৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর ৪,০২৫ টাকা ৬,৩২৫ টাকা ৮,৬২৫ টাকা
৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর ৫,৭৫০ টাকা ৮,০৫০ টাকা ১০,৩৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর পোর্টালে যাচাই ৮,৬২৫ টাকা পোর্টালে যাচাই
৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর ৮,০৫০ টাকা ১০,৩৫০ টাকা ১৩,৮০০ টাকা

উল্লেখিত ফি আবেদনকারীদের প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার জন্য। বিশেষ করে ৬৪ পৃষ্ঠা ও ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের অসম্পূর্ণ ফি-তথ্য সরকারি পোর্টাল থেকে যাচাই করতে হবে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ ফি নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

পাসপোর্ট পেতে কত দিন সময় লাগতে পারে?

আবেদনের সময় নির্বাচিত ডেলিভারি পদ্ধতি অনুযায়ী সম্ভাব্য সময় ভিন্ন হতে পারে।

ডেলিভারি পদ্ধতি সম্ভাব্য সময়
রেগুলার প্রায় ২১ কর্মদিবস
এক্সপ্রেস প্রায় ১০ দিন
সুপার এক্সপ্রেস প্রায় ২ দিন

তবে আবেদন যাচাই, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য জটিলতার কারণে পাসপোর্ট পেতে বেশি সময় লাগতে পারে। তাই বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে শেষ মুহূর্তে আবেদন না করে আগেভাগে প্রক্রিয়া শুরু করা ভালো।

ই-পাসপোর্টের ফি কীভাবে জমা দেবেন?

অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত পদ্ধতিতে ফি পরিশোধ করতে হয়। পোর্টালে সমর্থিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা, কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং অথবা নির্ধারিত ব্যাংক শাখার মাধ্যমে পেমেন্টের সুযোগ থাকতে পারে।

ফি জমা দেওয়ার পর অবশ্যই রসিদ বা ভাউচার সংরক্ষণ করতে হবে। বায়োমেট্রিকের সময় এটি প্রয়োজন হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের সতর্ক থাকতে হবে, কোনো দালাল বা অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া লিংকে অর্থ পাঠানো যাবে না। সরকারি ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত পেমেন্ট নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপদ।

পুরোনো পাসপোর্ট নবায়নের নিয়ম

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে অথবা নতুন পাসপোর্ট প্রয়োজন হলে রি-ইস্যুর জন্য আবেদন করতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য ব্যবহার করে নতুন পাসপোর্টের আবেদন সম্পন্ন করা যায়।

নবায়নের জন্য প্রথমে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রি-ইস্যু অপশন নির্বাচন করতে হবে। এরপর পুরোনো পাসপোর্ট নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে।

পরবর্তী সময়ে নতুন পাসপোর্টের মেয়াদ, পৃষ্ঠাসংখ্যা ও ডেলিভারির ধরন নির্বাচন করে ফি পরিশোধ করতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনুযায়ী পুরোনো পাসপোর্টের মূল কপিসহ অফিসে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

নতুন পাসপোর্ট ইস্যু হলে পুরোনো পাসপোর্টটি বাতিল হয়ে যাবে। তবে পুরোনো পাসপোর্টে বৈধ ভিসা থাকলে সেটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা নেওয়া প্রয়োজন।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা যেভাবে পাসপোর্ট নবায়ন করবেন

প্রবাসী বাংলাদেশিরা সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের মাধ্যমে ই-পাসপোর্টের আবেদন ও নবায়ন করতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে প্রথমে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনের ওয়েবসাইট থেকে আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা জানতে হবে। এরপর অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করে মিশনের নির্ধারিত নিয়মে ফি জমা দিতে হবে।

সাধারণত প্রয়োজন হতে পারে:

  • বর্তমান বা পুরোনো পাসপোর্ট।
  • ভিসা অথবা রেসিডেন্স পারমিট।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন।
  • অনলাইন আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি।
  • নির্ধারিত ফি পরিশোধের রসিদ।
  • মিশনের চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য কাগজপত্র।

গাইডে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য বিদেশ থেকে পাসপোর্ট করার যে ফি উল্লেখ করা হয়েছে, তা হলো:

পাসপোর্টের ধরন রেগুলার জরুরি
৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর ১০০ ডলার ১৫০ ডলার
৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর ১২৫ ডলার ১৭৫ ডলার
৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর ১৫০ ডলার ২০০ ডলার
৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর ১৭৫ ডলার ২২৫ ডলার

তবে প্রবাসী শ্রমিক, শিক্ষার্থী এবং বিশেষ শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য ফি ভিন্ন হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিরা পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু অতিরিক্ত নিয়ম অনুসরণ করবেন। সরবরাহ করা গাইডে ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনলাইন আবেদনে বর্তমান ঠিকানার দেশ হিসেবে KOREA, REPUBLIC OF নির্বাচন করতে হবে। স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে বাংলাদেশের ঠিকানা দিতে হবে।

আবেদনের সঙ্গে বর্তমান পাসপোর্ট, কোরিয়ান রেসিডেন্স কার্ডের উভয় পাশের রঙিন কপি, NID অথবা যাচাইকৃত জন্মনিবন্ধন এবং অনলাইন আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি প্রয়োজন হতে পারে।

শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে Student ID অথবা Enrollment Certificate-এর মূল ইংরেজি কপি চাওয়া হতে পারে। পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে জিডির কপি ও পুরোনো পাসপোর্টের কপিও প্রয়োজন হতে পারে।

গাইডে উল্লেখ রয়েছে, এই মিশনে ব্যাংক বা ATM রসিদ গ্রহণযোগ্য; অনলাইন পেমেন্ট গ্রহণ করা হয় না। ডাকযোগে পাসপোর্ট পেতে নির্দিষ্ট মাপের খাম, ডেলিভারি স্টিকার এবং Passport Delivery Form প্রয়োজন হতে পারে।

অনলাইনে পাসপোর্টের স্ট্যাটাস যাচাই করার নিয়ম

আবেদন জমা দেওয়ার পর পাসপোর্ট কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা অনলাইনে যাচাই করা যায়।

এজন্য সরকারি ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে স্ট্যাটাস চেকের অপশন নির্বাচন করতে হবে। এরপর Application ID অথবা Online Registration ID এবং জন্মতারিখ প্রদান করতে হবে।

প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিলে আবেদন যাচাই, প্রিন্টিং কিংবা ডেলিভারির কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে সম্পর্কে জানা যাবে। পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে সাধারণত মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানো হয়।

স্ট্যাটাস যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা উচিত। অপরিচিত ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার উপায়

পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে প্রথমেই নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করতে হবে। এরপর জিডির কপি সংগ্রহ করে সরকারি ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে হারানো পাসপোর্টের রি-ইস্যু আবেদন করতে হবে।

আবেদনের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন, জিডির কপি এবং পুরোনো পাসপোর্টের ফটোকপি বা নম্বর থাকলে তা সংযুক্ত করতে হবে।

হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই বা বিশেষ ফি প্রযোজ্য হতে পারে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে বায়োমেট্রিক প্রদান করতে হবে।

বিদেশে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে স্থানীয় পুলিশের কাছে রিপোর্ট করার পাশাপাশি দ্রুত বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফেরার জন্য Emergency Travel Document (ETD) পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে কী করবেন?

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নতুন করে প্রথমবারের আবেদন করার প্রয়োজন হয় না। পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য ব্যবহার করে রি-ইস্যুর আবেদন করা যায়।

তবে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনেক দেশ পাসপোর্টে অন্তত ছয় মাসের মেয়াদ থাকার শর্ত আরোপ করে। এ কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।

বিশেষ করে যাদের বিদেশে চাকরি, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।

ই-পাসপোর্ট আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

আবেদন প্রক্রিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা এড়াতে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন।

১. NID বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে আবেদন ফর্মের তথ্য মিলিয়ে নিন।

২. নাম ও জন্মতারিখের বানান ভুল করবেন না।

৩. স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা সঠিকভাবে উল্লেখ করুন।

৪. প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র এবং ফটোকপি প্রস্তুত রাখুন।

৫. পেমেন্ট রসিদ ও আবেদনপত্রের কপি সংরক্ষণ করুন।

৬. নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হন।

৭. পাসপোর্টের ফি ও নিয়ম সম্পর্কে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করুন।

শেষ কথা

ই-পাসপোর্টের আবেদন, নবায়ন কিংবা হারানো পাসপোর্ট পুনরায় সংগ্রহের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম জানা থাকলে আবেদনকারীদের সময় ও ভোগান্তি কমানো সম্ভব। বিশেষ করে অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণের সময় ব্যক্তিগত তথ্যের নির্ভুলতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

পাসপোর্টের ফি, ডেলিভারির সময় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো আবেদন বা অর্থ পরিশোধের আগে সরকারি পোর্টালে সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত।

ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত সরকারি তথ্য ও আবেদন: https://www.epassport.gov.bd/

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য প্রকাশের আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।