শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রযুক্তি, জাতীয় সেবা, ভাতা ও চাকরি তথ্যের নির্ভরযোগ্য সাইট

সর্বশেষ
নবম পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণে নতুন অসংগতি, ইনক্রিমেন্ট যোগ করেও কমছে মূল বেতন! ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির পূর্ণাঙ্গ ক্যালেন্ডার: ঈদ, পূজা ও জাতীয় দিবস মিলিয়ে থাকছে দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ সন্তানের নাম রাখার আগে জেনে নিন সরকারি নির্দেশনা, জন্মনিবন্ধনে এক শব্দের নাম নিয়ে সতর্কতা মোবাইল ইন্টারনেট ও মিনিট প্যাক বাছাইয়ে নতুন সুবিধা: পাঁচ অপারেটরের অফার তুলনা করে সাশ্রয়ী প্যাক খুঁজে দেবে অনলাইন টুল নবম পে-স্কেলের বকেয়া টাকা পেতে নতুন প্রক্রিয়া, গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মীদের জন্য পৃথক নির্দেশনা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে সতর্কতা, ডিএসইর উত্থান-পতনের ইতিহাস থেকে নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা Electricity Bill Calculator: সহজেই বিদ্যুৎ বিলের হিসাব করুন নবম পে স্কেলের বকেয়া বিল দাখিল হবে অফলাইনে, প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য আলাদা বিল প্রস্তুতের নিয়ম সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া বেতন উত্তোলনে নতুন প্রস্তুতি, হিসাবরক্ষণ অফিসে বিল জমার আগে রাখুন ৩টি কাগজ নবম গ্রেডে বেতন নির্ধারণে ক্যাডার-ননক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য গেজেটে পৃথক বিধান

নবম পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণে নতুন অসংগতি, ইনক্রিমেন্ট যোগ করেও কমছে মূল বেতন!

ইনক্রিমেন্ট যোগ করেও কমছে মূল বেতন!
নবম পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণে নতুন অসংগতি, ইনক্রিমেন্ট যোগ করেও কমছে মূল বেতন! ছবি: টেকনিক্যাল আলামিন

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিকেশন নিয়ে নতুন একটি অসংগতি সামনে এসেছে। এবার প্রশ্ন উঠেছে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টের হিসাব নিয়ে। নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী ইনক্রিমেন্ট যোগ করার পর যে মূল বেতন হওয়ার কথা, পে-ফিকেশন বিবরণীতে তার চেয়ে কম বেতন দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি হিসাবের উদাহরণে ২৫ টাকা কম নির্ধারণের বিষয়টি সামনে এসেছে।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধাপের হিসাব, বেতন নির্ধারণ এবং ইনক্রিমেন্টের সমন্বয় নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যখন নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই এই নতুন বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সমস্যাটি যদি সফটওয়্যারের সাধারণ কোনো ত্রুটি না হয়ে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতিগত অসংগতি হয়, তাহলে একই পরিস্থিতিতে থাকা অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

ইনক্রিমেন্টসহ বেতন হওয়ার কথা ২৭,৮২৫ টাকা, দেখাচ্ছে ২৭,৮০০ টাকা

সরবরাহ করা পে-ফিকেশন বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের পর পরবর্তী সময়ে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হিসাব যুক্ত করা হয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জুলাই ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন দাঁড়ানোর কথা ২৭ হাজার ৮২৫ টাকা। কিন্তু পে-ফিকেশন বিবরণীতে নির্ধারিত মূল বেতন দেখানো হয়েছে ২৭ হাজার ৮০০ টাকা।

অর্থাৎ, ইনক্রিমেন্টের হিসাব অনুযায়ী প্রাপ্য অঙ্কের তুলনায় ২৫ টাকা কম দেখানো হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, ইনক্রিমেন্ট যোগ করার পর প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ নির্ধারিত বেতন ধাপের সঙ্গে না মিললে কেন নিচের অঙ্কে বেতন নির্ধারণ করা হচ্ছে? সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় এর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।

আগের পে-স্কেলে নিয়ম ছিল এক রকম, নতুন স্কেলে ভিন্নতা কেন?

নতুন এই অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে আগের জাতীয় বেতন স্কেলের সঙ্গে তুলনা।

অভিযোগকারীর দেওয়া উদাহরণ অনুযায়ী, আগের পে-স্কেলে ইনক্রিমেন্ট যোগ করার পর বেতন যদি ২৭ হাজার ৮২৫ টাকা হতো এবং নির্ধারিত বেতন ধাপের সঙ্গে তা না মিলত, তাহলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে সমন্বয় করে ২৭ হাজার ৮৪০ টাকা নির্ধারণ করা হতো।

কিন্তু নতুন পে-ফিকেশন বিবরণীতে একই ধরনের পরিস্থিতিতে ২৭ হাজার ৮২৫ টাকার পরিবর্তে ২৭ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

এখানে মূল পার্থক্য হচ্ছে, আগের ব্যবস্থায় পরবর্তী উচ্চতর ধাপে সমন্বয়ের দাবি করা হলেও নতুন ব্যবস্থায় নিচের ধাপে বেতন নির্ধারণের চিত্র দেখা যাচ্ছে।

অবশ্য আগের পে-স্কেলের নিয়ম নতুন বেতন কাঠামোয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট বিধিমালা দেখে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কারণ নতুন বেতন স্কেলে বেতন ধাপ, ইনক্রিমেন্টের হার এবং সমন্বয়ের নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।

কেন ২৫ টাকার পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ?

অনেকের কাছে ২৫ টাকা খুবই সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু সরকারি বেতন কাঠামোয় মূল বেতনের প্রতিটি ধাপের নির্দিষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।

মূল বেতন নির্ধারণের ওপর ভিত্তি করেই সাধারণত বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা, অবসর-সুবিধা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার হিসাব তৈরি হয়। ফলে মূল বেতন নির্ধারণে কোনো ভুল বা অসংগতি থাকলে তার প্রভাব পরবর্তী আর্থিক হিসাবেও পড়তে পারে।

তবে ২৫ টাকা কম নির্ধারণের কারণে অন্য ভাতাগুলোতেও সরাসরি কতটা প্রভাব পড়বে, তা সংশ্লিষ্ট বিধি ও হিসাবের পদ্ধতির ওপর নির্ভর করবে।

এ কারণে বিষয়টি শুধু ২৫ টাকার হিসাব হিসেবে না দেখে বেতন নির্ধারণের সঠিকতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর পে-ফিকেশন যাচাই করা প্রয়োজন

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, যাঁদের ইনক্রিমেন্ট যোগ করার পর প্রাপ্ত বেতন নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে মেলে না, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অসংগতি থাকতে পারে।

বিশেষ করে যাঁদের মূল বেতন ইনক্রিমেন্টের পর ভগ্নাংশ বা মধ্যবর্তী অঙ্কে পৌঁছায়, তাঁদের পে-ফিকেশন বিবরণী ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করতে পারেন—

1. পে-ফিকেশনে নির্ধারিত মূল বেতন সঠিকভাবে দেখানো হয়েছে কি না।

2. বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের পর মূল বেতনের হিসাব সঠিক হয়েছে কি না।

3. ইনক্রিমেন্ট যোগ করার পর প্রাপ্ত অঙ্ক এবং পরবর্তী নির্ধারিত বেতন ধাপের মধ্যে কোনো পার্থক্য রয়েছে কি না।

4. নতুন বেতন স্কেলের বিধান অনুযায়ী বেতন ধাপ সমন্বয় করা হয়েছে কি না।

5. পে-ফিকেশন বিবরণীতে প্রদর্শিত অঙ্কের সঙ্গে মূল বেতনের হিসাবের কোনো গরমিল রয়েছে কি না।

সংশোধনের উদ্যোগে ইনক্রিমেন্টের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পে-ফিকেশন প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নতুন মূল বেতন নির্ধারিত হচ্ছে।

তাই পে-ফিকেশনে বিভিন্ন ধরনের ভুল, অসংগতি কিংবা সফটওয়্যারজনিত সমস্যা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে ইনক্রিমেন্টের ধাপসংক্রান্ত বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে অর্থ বিভাগ এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে।

কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা, নতুন বেতন কাঠামোর বিধান অনুযায়ী ইনক্রিমেন্ট যোগ করার পর বেতন নির্ধারণের সঠিক পদ্ধতি কী হবে, তা স্পষ্ট করা হবে। একই সঙ্গে iBAS++ সফটওয়্যারে ব্যবহৃত বেতন নির্ধারণের সূত্রও যাচাই করা হবে।

কর্তৃপক্ষের কাছে যেসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন

এই অসংগতি দূর করতে কয়েকটি প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন:

  • ইনক্রিমেন্ট যোগ করার পর প্রাপ্ত বেতন নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে না মিললে কোন ধাপ অনুসরণ করতে হবে?

  • প্রাপ্ত অঙ্কের চেয়ে কম মূল বেতন নির্ধারণের বিধান রয়েছে কি না?

  • পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন সমন্বয়ের কোনো নিয়ম নতুন পে-স্কেলে রাখা হয়েছে কি না?

  • iBAS++ সফটওয়্যারে ইনক্রিমেন্টের হিসাব সঠিক সূত্রে করা হচ্ছে কি না?

  • যাঁদের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে কম বেতন নির্ধারণ হয়েছে, তাঁদের পে-ফিকেশন সংশোধনের ব্যবস্থা থাকবে কি না?

শেষ কথা

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা হলো, প্রত্যেকের বেতন যেন নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা হয়। পে-ফিকেশনের ছোট কোনো অসংগতিও ভবিষ্যতে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে।

২৭ হাজার ৮২৫ টাকার পরিবর্তে ২৭ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণের এই উদাহরণটি তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা জরুরি। বিশেষ করে পে-ফিকেশন সংশোধনের উদ্যোগ চলমান থাকলে ইনক্রিমেন্টের ধাপের বিষয়টি এখনই যাচাই করা উচিত।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান—নিজ নিজ পে-ফিকেশন বিবরণীতে ইনক্রিমেন্টের হিসাব ভালোভাবে যাচাই করুন। একই ধরনের পার্থক্য পাওয়া গেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানান।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য প্রকাশের আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।