ক্যাডেট কলেজে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ: ২০০ নম্বরের পরীক্ষা, আবেদনের শেষ সময় ৫ ডিসেম্বর
দেশের ১২টি ক্যাডেট কলেজে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সপ্তম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করা যাবে আগামী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভর্তির জন্য ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মৌখিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। আগামী ২৬ ডিসেম্বর দেশব্যাপী নির্ধারিত কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্যাডেট কলেজগুলোতে পড়াশোনার সুযোগ পেতে আগ্রহী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ক্যাডেট কলেজ পরিচালনা পরিষদ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল শাখার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তম শ্রেণিতে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ৮টা থেকে অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ৫ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন ফি পরিশোধ, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান এবং আবেদনপত্র সম্পন্ন করতে হবে।
ক্যাডেট কলেজগুলোতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের দক্ষতা, শৃঙ্খলাবোধ, শারীরিক সক্ষমতা এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আবাসিক পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ছাড়াও সহশিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলা, প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ এবং নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়।
৯টি ছেলেদের ও ৩টি মেয়েদের ক্যাডেট কলেজে ভর্তি
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ১২টি ক্যাডেট কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি ছেলেদের এবং ৩টি মেয়েদের জন্য নির্ধারিত।
ছেলেদের ক্যাডেট কলেজগুলো হলো ফৌজদারহাট, ঝিনাইদহ, মির্জাপুর, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, বরিশাল, পাবনা ও কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ।
অন্যদিকে মেয়েদের জন্য রয়েছে ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ এবং জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ।
এসব প্রতিষ্ঠানে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে কলেজভিত্তিক আসনসংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
ভর্তির জন্য বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা
ক্যাডেট কলেজে ভর্তির জন্য আবেদনকারীকে ষষ্ঠ শ্রেণি অথবা সমমানের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
বয়সের ক্ষেত্রে নির্ধারণ করা হয়েছে বিশেষ সীমা। ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ১৩ বছর ৬ মাস হতে পারবে। অর্থাৎ ১ জুলাই ২০১৩ সালের আগে জন্মগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে না।
এ ছাড়া প্রার্থী এবং তার বাবা-মা উভয়কেই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও ভর্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
উচ্চতা ও দৃষ্টিশক্তির জন্য কঠোর শর্ত
ক্যাডেট কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে উভয় প্রার্থীর ন্যূনতম উচ্চতা হতে হবে ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি।
দৃষ্টিশক্তির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চশমা ছাড়া এক চোখে ৬/১২ এবং অন্য চোখে ৬/১৮ দৃষ্টিশক্তির মান উল্লেখ রয়েছে। চশমাসহ উভয় চোখে ৬/৬ দৃষ্টিশক্তির শর্ত রয়েছে।
চশমার পাওয়ার কোনো চোখেই মাইনাস ২ ডায়োপ্টারের বেশি হতে পারবে না। অ্যাস্টিগম্যাটিজমের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতিতে Spherical Equivalent হিসাব করা হবে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গ্রস নক নি, ফ্ল্যাট ফুট, বর্ণান্ধতা, অতিরিক্ত ওজনসহ নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যা পাওয়া গেলে প্রার্থীকে অযোগ্য বিবেচনা করা হতে পারে।
এ ছাড়া অ্যাজমা, মৃগী, হৃদরোগ, যক্ষ্মা, ডায়াবেটিস, হেপাটাইটিস, হিমোফিলিয়াসহ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত রোগের ক্ষেত্রেও অযোগ্যতার বিধান রয়েছে।
লিখিত পরীক্ষায় কোন বিষয়ে কত নম্বর?
ক্যাডেট কলেজে ভর্তির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে লিখিত পরীক্ষা। আগামী ২৬ ডিসেম্বর ২০২৬, শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টাব্যাপী এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মোট ২০০ নম্বরের পরীক্ষায় চারটি বিষয়ের ওপর প্রশ্ন করা হবে।
| বিষয় | নম্বর |
|---|---|
| গণিত | ৭০ |
| ইংরেজি | ৬৫ |
| বাংলা | ৪৫ |
| সাধারণ জ্ঞান | ২০ |
| সর্বমোট | ২০০ |
নম্বর বণ্টন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গণিত ও ইংরেজি মিলিয়ে মোট ১৩৫ নম্বর, যা পূর্ণ নম্বরের ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলা ও সাধারণ জ্ঞান মিলিয়ে রয়েছে ৬৫ নম্বর।
ফলে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গণিত ও ইংরেজির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তবে ভালো ফলাফলের জন্য চারটি বিষয়েই সমান মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
প্রার্থীরা বাংলা অথবা ইংরেজি—যেকোনো একটি মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।
লিখিত পরীক্ষার পর মৌখিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা
ক্যাডেট কলেজে ভর্তি শুধু লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে না। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মৌখিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলাফল প্রকাশের সময় মৌখিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়সূচি এবং পরীক্ষার স্থান জানিয়ে দেওয়া হবে।
সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সামগ্রিক মেধাতালিকা অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
আবেদন ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা, ফেরতযোগ্য নয়
ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রত্যেক প্রার্থীকে ২ হাজার ৫০০ টাকা আবেদন ফি দিতে হবে।
অনলাইনে বিকাশ, নগদ, রকেট, ট্রাস্ট ব্যাংকের ট্যাপ এবং SSL Commerz-এর মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদন ফি ফেরতযোগ্য নয়।
সফলভাবে ফি জমা দেওয়ার পর আবেদন ফরম পূরণের সুযোগ পাওয়া যাবে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে ফি জমা না হলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না এবং প্রবেশপত্রও পাওয়া যাবে না।
ছয় ধাপে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে
ভর্তি আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। এজন্য প্রার্থীকে প্রথমে ক্যাডেট কলেজের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
ওয়েবসাইটের Admission Menu থেকে Apply Now অপশনে ক্লিক করে নিবন্ধন করতে হবে।
নিবন্ধনের সময় প্রার্থীর নাম, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা এবং পাসওয়ার্ড দিতে হবে।
নিবন্ধন সম্পন্ন হলে প্রাপ্ত User ID ও Password ব্যবহার করে লগইন করতে হবে।
এরপর নির্ধারিত আবেদন ফি পরিশোধ করে ছয়টি ধাপে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র আপলোড করতে হবে।
সব তথ্য পূরণ শেষে Application Preview অপশনে গিয়ে আবেদনপত্র যাচাই করতে হবে। এরপর Final Submit করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, Final Submit করার পর আবেদনপত্রের তথ্য সংশোধনের সুযোগ থাকবে না। তাই জন্মতারিখ, পরীক্ষার মাধ্যম, পরীক্ষাকেন্দ্র, লিঙ্গ এবং ব্যক্তিগত তথ্য সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করতে হবে।
১০ ডিসেম্বরের মধ্যে কাগজপত্র পৌঁছাতে হবে
শুধু অনলাইনে আবেদন করলেই ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনলাইন আবেদন শেষে নির্ধারিত কাগজপত্র ১৫×১০ ইঞ্চি খামে পাঠাতে হবে।
খামের ওপর আবেদনকারীর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও নির্বাচিত পরীক্ষাকেন্দ্রের নাম উল্লেখ করতে হবে।
আগামী ১০ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে এসব কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাডেট কলেজে পৌঁছাতে হবে।
ডাক, কুরিয়ার অথবা বাহকের মাধ্যমে কাগজপত্র পাঠানো যাবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিলে অথবা কাগজপত্রে অসংগতি থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
আবেদনকারীদের যেসব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে
আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রয়োজন হবে।
প্রার্থীর জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত অনুলিপি, ষষ্ঠ শ্রেণি বা সমমানের পরীক্ষার সনদ, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী বা সমমানের সনদ এবং প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
এ ছাড়া বাবা-মা বা অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট থাকলে তার অনুলিপি এবং মাসিক আয়ের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।
অনলাইনে আপলোড করার জন্য প্রার্থীর সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবিও প্রয়োজন হবে।
যেসব শিক্ষার্থীর ষষ্ঠ শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকের নির্ধারিত প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
১৫ ডিসেম্বর থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ
ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আগামী ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে অনলাইনে পাওয়া যাবে।
আবেদনকারীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে User ID ও Password দিয়ে লগইন করে প্রবেশপত্র ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে পারবে।
পরীক্ষার দিন সকাল ৮টার মধ্যে পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে।
প্রবেশপত্র ছাড়া কাউকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে একজন অভিভাবক আসার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র
ভর্তি পরীক্ষার জন্য দেশের বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজ ও নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, ঝিনাইদহ, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, বরিশাল, পাবনা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, ফেনী ও বগুড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
পরীক্ষাকেন্দ্র নির্বাচনের সময় প্রার্থীকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আবেদন চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার পর কেন্দ্র পরিবর্তন করা যাবে না।
এ ছাড়া যে কেন্দ্র নির্বাচন করা হবে, সেই কেন্দ্র ছাড়া অন্য কোথাও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।
আবেদন সহায়তায় ই-বুথ সুবিধা
যেসব শিক্ষার্থী বা অভিভাবক অনলাইনে আবেদন করতে সমস্যায় পড়বেন, তাদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
দেশের প্রতিটি ক্যাডেট কলেজে একটি করে এবং ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে একটি E-booth Outlet চালু রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এসব ই-বুথে গিয়ে অনলাইনে আবেদন, ফি পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে সহায়তা পাওয়া যাবে।
১ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসব সেবা চালু থাকবে।
মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত পরিচয়ের ভিত্তিতে আবেদনকারী প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ই-বুথের মাধ্যমে আবেদন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই
বিজ্ঞপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, আগে ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কোনো প্রার্থী পুনরায় আবেদন করতে পারবে না।
কোনো শিক্ষার্থী দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে বলে প্রমাণিত হলে যেকোনো পর্যায়ে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে।
এমনকি ভর্তি সম্পন্ন হওয়ার পরও বিষয়টি শনাক্ত হলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এ কারণে আবেদনকারীদের পূর্ববর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের তথ্যসহ সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনার বিশেষত্ব
বাংলাদেশের ক্যাডেট কলেজগুলো অন্যান্য সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় ভিন্নধর্মী আবাসিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণব্যবস্থার জন্য পরিচিত।
এখানে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শারীরিক প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ এবং শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য হচ্ছে এমন শিক্ষার্থী তৈরি করা, যারা ভবিষ্যতে সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারবে।
ক্যাডেট কলেজে অধ্যয়ন শেষে সশস্ত্র বাহিনীর কমিশন্ড অফিসার পদে নির্বাচনী পরীক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে নির্ধারিত নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও আইএসএসবি পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার শর্ত প্রযোজ্য।
অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণে দেখা যায়, আবেদন প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, প্রার্থীর বয়স ও জন্মতারিখ সঠিক হতে হবে। জন্মনিবন্ধনের তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
দ্বিতীয়ত, আবেদন ফি পরিশোধের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।
তৃতীয়ত, Final Submit করার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। ভুল তথ্যের কারণে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
চতুর্থত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত ঠিকানায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
পঞ্চমত, প্রবেশপত্র সংগ্রহ এবং পরীক্ষার দিন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অথবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে লিখিত পরীক্ষার তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে। ফলে পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ এক নজরে
| কার্যক্রম | নির্ধারিত তারিখ |
|---|---|
| অনলাইন আবেদন শুরু | ১ নভেম্বর ২০২৬ |
| আবেদন শেষ | ৫ ডিসেম্বর ২০২৬ |
| প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার শেষ সময় | ১০ ডিসেম্বর ২০২৬ |
| প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ |
| লিখিত পরীক্ষা | ২৬ ডিসেম্বর ২০২৬ |
| লিখিত পরীক্ষার ফলাফল | জানুয়ারি ২০২৭-এর তৃতীয় সপ্তাহ (সম্ভাব্য) |
যেখান থেকে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে
ক্যাডেট কলেজে ভর্তি-সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা, পরীক্ষার সিলেবাস, প্রবেশপত্র, ফলাফল এবং পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি জানতে প্রার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে।
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট: https://cadetcollege.army.mil.bd
ভর্তি আবেদন: https://cadetcollegeadmission.army.bd
ভর্তি সিলেবাস: https://cadetcollege.army.mil.bd/notice/show/275
সার্বিকভাবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ক্যাডেট কলেজ ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি বয়স, শারীরিক সক্ষমতা, স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা এবং পরীক্ষার ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজিতে মোট নম্বরের বড় অংশ থাকায় এসব বিষয়ে প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ।
আগ্রহী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে আবেদন সম্পন্ন করা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া এবং লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

মন্তব্য (০)