৯ম পে-স্কেলে উচ্চতর গ্রেড নিয়ে বড় হিসাব: ৮ বছরেই প্রথম সুবিধা, পুরোনো টাইম স্কেল ও আইবাস++ ফিক্সেশনে যত জটিলতা
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ কার্যকরের পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উচ্চতর গ্রেড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে একই পদে ৮ বছর চাকরি পূর্ণ হলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড, পরবর্তী ৬ বছর পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড এবং পদোন্নতিবিহীন ব্লকড পদে নির্দিষ্ট শর্তে তৃতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
তবে নতুন বেতনস্কেলে উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ তৈরি হলেও বাস্তবে কে কতবার এই সুবিধা পাবেন, আগের বেতনস্কেলে টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পাওয়া থাকলে নতুন করে সুবিধা মিলবে কি না এবং আইবাস++-এ বেতন নির্ধারণ কীভাবে সম্পন্ন হবে—এসব প্রশ্নের এখনো অনেক কর্মচারী সুনির্দিষ্ট উত্তর খুঁজছেন।
বিশেষ করে ২০১৫ সালের বেতনস্কেল অনুযায়ী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা তৈরি হলেও যাঁদের ফিক্সেশন সম্পন্ন হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর অনুচ্ছেদ ৬-এর বিধান অনুযায়ী উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা নির্ধারণে চাকরির মেয়াদ, পূর্ববর্তী আর্থিক সুবিধা, পদোন্নতি এবং পদের প্রকৃতি—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।
৮ বছর চাকরি পূর্ণ হলেই প্রথম উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ
নতুন বেতনস্কেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে একই পদে পদোন্নতি ছাড়া ৮ বছর চাকরি পূর্ণ হলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান।
প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী সরকারি কর্মচারী একই পদে পদোন্নতি ছাড়া ৮ বছর চাকরি পূর্ণ করলে এবং তাঁর চাকরি সন্তোষজনক হলে নবম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাওয়ার যোগ্য হবেন।
এখানে উচ্চতর গ্রেডকে পদোন্নতি হিসেবে গণ্য করা হবে না। অর্থাৎ, কর্মচারী আগের পদেই দায়িত্ব পালন করবেন, কিন্তু তাঁর বেতন নির্ধারিত হবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডের স্কেল অনুযায়ী।
এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাঁদের জন্য, যাঁরা দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত থাকলেও পদোন্নতির সুযোগ পাননি।
১ জুলাই ২০২৬-এ যাঁদের ৮ বছর পূর্ণ, তাঁদের জন্য বিশেষ সুবিধা
নতুন বেতনস্কেলের বিশেষ বিধানের কারণে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের আগে একই পদে ৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, কিন্তু ১০ বছর পূর্ণ হয়নি—এমন স্থায়ী কর্মচারীরাও নির্ধারিত শর্তে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রথম উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা পাবেন।
অর্থাৎ, তাঁদের নতুন করে ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হবে না।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো কর্মচারী ১ জুলাই ২০১৭ তারিখে একই পদে যোগদান করলে ১ জুলাই ২০২৫ তারিখে তাঁর ৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। প্রদত্ত বিশেষ বিধান অনুযায়ী, অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তিনি ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে প্রথম উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা বিবেচনা করতে পারবেন।
তবে চাকরির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে একই পদে কর্মরত থাকার বিষয়টি এবং স্থায়ী কর্মচারী হওয়ার শর্ত অবশ্যই যাচাই করতে হবে।
প্রথম উচ্চতর গ্রেডের পর আরও ৬ বছর: দ্বিতীয়বার সুবিধার হিসাব
প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের জন্য নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে পদোন্নতি ছাড়া আরও ৬ বছর চাকরি পূর্ণ করতে হবে। এরপর সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা তৈরি হবে।
ধরা যাক, একজন কর্মচারী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পেলেন। তিনি একই পদে কর্মরত থাকলে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে ১ জুলাই ২০৩২ তারিখে পরবর্তী ৬ বছর পূর্ণ হবে। সে অনুযায়ী দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা ওই তারিখ থেকে বিবেচিত হতে পারে।
অর্থাৎ, প্রথম ও দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের হিসাব একই নিয়মে হবে না। প্রথমটির ক্ষেত্রে ৮ বছর এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর আরও ৬ বছর বিবেচনা করতে হবে।
একই পদে দুইবার সুবিধা: আগের বেতনস্কেলের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ
উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে পূর্ববর্তী বেতনস্কেলে পাওয়া সুবিধা নিয়ে।
প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী, সাধারণভাবে একই পদে সর্বোচ্চ দুইবার উচ্চতর গ্রেডের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আগের বেতনস্কেলে একই পদে দুই বা ততোধিকবার সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন বেতনস্কেলে আবার একই পদে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
অন্যদিকে, কোনো কর্মচারী আগে মাত্র একবার উচ্চতর স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত পূর্ববর্তী সুবিধার ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মচারীদের তাই শুধু বর্তমান বেতন গ্রেড দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। আগের বেতন নির্ধারণী বিবরণী, টাইম স্কেল মঞ্জুরের আদেশ এবং সিলেকশন গ্রেডের তথ্যও যাচাই করতে হবে।
ব্লকড পদে কর্মরতদের জন্য তৃতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ
নতুন বেতনস্কেলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে নির্দিষ্ট ব্লকড পদে কর্মরত কর্মচারীদের তৃতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান।
যেসব পদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ব্লকড পদ হিসেবে ঘোষিত এবং যেসব পদে পদোন্নতির কোনো বিধান নেই, সেসব পদে কর্মরত কর্মচারীরা প্রথম ও দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা পাওয়ার পর নির্ধারিত শর্তে তৃতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ পাবেন।
এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর আরও ৮ বছর চাকরি পূর্ণ করতে হবে। এরপর নবম বছরে তৃতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা প্রাপ্য হওয়ার বিধান রয়েছে।
তবে এই সুবিধা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট পদটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্লকড হিসেবে ঘোষিত হতে হবে। শুধু পদোন্নতি না হওয়া কিংবা দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত থাকার কারণে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধার যোগ্য হবেন না।
এ ছাড়া একই পদে সমগ্র চাকরিজীবনে তিনবারের বেশি উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা পাওয়া যাবে না এবং তৃতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে কার্যকর হবে না।
চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত সীমাবদ্ধতা: উচ্চতর গ্রেডে বড় শর্ত
উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, অনুচ্ছেদ ৬(৩) অনুসারে প্রথম ও দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের আর্থিক সুবিধা চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে।
অর্থাৎ, উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা নিয়ে কর্মচারীরা সীমাহীনভাবে উচ্চতর গ্রেডে যেতে পারবেন না। চতুর্থ গ্রেড বা তার ওপরের গ্রেডে কর্মরতদের ক্ষেত্রে এ সুবিধার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তাই উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা নির্ধারণের সময় কর্মচারীর বর্তমান গ্রেড এবং পরবর্তী গ্রেডের অবস্থান বিবেচনা করা জরুরি।
চাকরি সন্তোষজনক না হলে উচ্চতর গ্রেড আটকে যেতে পারে
নতুন বিধানে শুধু চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করাকে যথেষ্ট মনে করা হয়নি। চাকরি সন্তোষজনক হওয়ার শর্তও রাখা হয়েছে।
প্রদত্ত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পদোন্নতির ক্ষেত্রে যেভাবে সন্তোষজনক চাকরির বিধান অনুসরণ করা হয়, উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রেও অনুরূপ নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
এ কারণে চাকরির রেকর্ড, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন, বিভাগীয় কার্যক্রম এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
উচ্চতর গ্রেড স্বয়ংক্রিয় হলেও অফিস আদেশ প্রয়োজন
উচ্চতর গ্রেডকে স্বয়ংক্রিয় সুবিধা বলা হলেও এর অর্থ এই নয় যে কোনো প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই কর্মচারীর বেতন পরিবর্তন হয়ে যাবে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, উচ্চতর গ্রেড প্রদানের জন্য বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সুপারিশ প্রয়োজন হবে না। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব কিংবা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করে অফিস আদেশ জারি করতে হবে।
অর্থাৎ, যোগ্যতা অর্জন, অনুমোদন, অফিস আদেশ এবং আইবাস++-এ বেতন নির্ধারণ—এই ধাপগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।
আইবাস++-এ ফিক্সেশন অপশন থাকলেও বাস্তবে সমস্যা কোথায়?
উচ্চতর গ্রেডের বিধান নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই আইবাস++-এ বেতন নির্ধারণের বিষয়টি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত সময়ে প্রাপ্য উচ্চতর গ্রেডের ফিক্সেশন অপশন চালু রয়েছে বলে জানানো হচ্ছে। কিন্তু অপশন দেখা গেলেই যে প্রত্যেক কর্মচারী সফলভাবে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে পারছেন, এমন নিশ্চয়তা নেই।
কিছু কর্মচারীর অভিযোগ, তাঁদের প্রাপ্যতা থাকা সত্ত্বেও বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে না। আবার যাঁরা আগের বেতনস্কেলে উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, তাঁদের পুরোনো ফিক্সেশন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতনস্কেলের অনুচ্ছেদ ৭(১) ও ৭(২) অনুযায়ী প্রাপ্য উচ্চতর গ্রেডের বেতন নির্ধারণ যাঁদের অসম্পূর্ণ রয়েছে, তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা।
তবে আইবাস++-এর মডিউল বন্ধ থাকা বা ফিক্সেশন ব্যর্থ হওয়ার কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট কারিগরি কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
পুরোনো বেতনস্কেলের উচ্চতর গ্রেড নিষ্পত্তি না হলে কী হবে?
নতুন বেতনস্কেল কার্যকরের আগে অনেক কর্মচারীর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তাঁদের কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ে বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন করতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এখন তাঁদের সামনে প্রধান প্রশ্ন হচ্ছে, পুরোনো বেতনস্কেলের প্রাপ্য সুবিধা কীভাবে নিষ্পত্তি হবে?
এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রথমত, কর্মচারী ২০১৫ সালের বেতনস্কেল অনুযায়ী কোন তারিখে উচ্চতর গ্রেডের যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন।
দ্বিতীয়ত, তাঁর অনুকূলে উচ্চতর গ্রেড মঞ্জুরের কোনো অফিস আদেশ জারি হয়েছিল কি না।
তৃতীয়ত, অফিস আদেশ জারি হওয়ার পরও শুধু আইবাস++-এর সমস্যার কারণে ফিক্সেশন অসম্পূর্ণ রয়েছে কি না।
এই তিনটি পরিস্থিতির প্রশাসনিক সমাধান এক নয়। তাই পুরোনো বেতনস্কেলের অসম্পূর্ণ ফিক্সেশন নিষ্পত্তিতে অর্থ বিভাগ ও হিসাবরক্ষণ কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।
কর্মচারীদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি করণীয়
উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা নিয়ে ভুল হিসাব এড়াতে কর্মচারীদের কয়েকটি তথ্য প্রস্তুত রাখা উচিত।
১. চাকরিতে যোগদানের তারিখ ও একই পদে চাকরির মেয়াদ।
২. স্থায়ীকরণের আদেশ ও কার্যকর তারিখ।
৩. পূর্বে পাওয়া টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেডের অফিস আদেশ।
৪. পদোন্নতির ইতিহাস।
৫. বর্তমান মূল বেতন ও গ্রেড।
৬. চাকরির সন্তোষজনকতার প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় রেকর্ড।
৭. আইবাস++-এ পূর্ববর্তী ও বর্তমান বেতন নির্ধারণের বিবরণী।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে কর্মচারীর প্রকৃত প্রাপ্যতা নির্ধারণ করা তুলনামূলক সহজ হবে।
কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
উচ্চতর গ্রেডের বিধান থাকলেও ফিক্সেশন নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
- ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত প্রাপ্য উচ্চতর গ্রেডের ফিক্সেশন কি সব দপ্তরে সম্পন্ন হচ্ছে?
- ২০১৫ সালের বেতনস্কেলে প্রাপ্য কিন্তু অসম্পূর্ণ থাকা উচ্চতর গ্রেডের ফিক্সেশন কীভাবে নিষ্পত্তি হবে?
- আগে একবার টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড নির্ধারণের জন্য কি আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হবে?
- ব্লকড পদের তালিকা ও তৃতীয় উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা যাচাইয়ের পদ্ধতি কী হবে?
- আইবাস++-এ ফিক্সেশন সম্পন্ন না হলে বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা কী?
- উচ্চতর গ্রেডের অফিস আদেশ জারি ও বেতন নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে কি?
শেষ কথা
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ উচ্চতর গ্রেডের বিধান সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতনসংক্রান্ত প্রত্যাশার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একই পদে ৮ বছর চাকরির পর প্রথম উচ্চতর গ্রেড, পরবর্তী ৬ বছর পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড এবং নির্দিষ্ট ব্লকড পদে তৃতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু এই সুবিধা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বেতনস্কেলের সুবিধা, চাকরির মেয়াদ, পদোন্নতির ইতিহাস এবং প্রশাসনিক অনুমোদন সঠিকভাবে যাচাই করা জরুরি।
বিশেষ করে আইবাস++-এ ফিক্সেশন নিয়ে যে প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে আসছে, সেগুলোর দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। কারণ বিধিতে সুবিধা থাকলেও বাস্তবে বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন না হলে কর্মচারীরা তাঁদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা বুঝে পেতে সমস্যায় পড়বেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা, উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা ও ফিক্সেশন নিয়ে একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে, যাতে কর্মচারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর হয় এবং যোগ্য ব্যক্তিরা নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা পান।

মন্তব্য (০)