জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর চাকরি প্রবিধানমালা ২০২৫: নিয়োগ ও সেবার নতুন দিগন্ত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও বীরত্বগাথা সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর প্রশাসনিক কাঠামো ও জনবল পরিচালনার জন্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে । গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয় । সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত এই প্রবিধানমালার মাধ্যমে জাদুঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি, বেতন-ভাতা এবং ছুটির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে ।
নিয়োগ ও পদোন্নতি পদ্ধতি
প্রবিধানমালা অনুযায়ী, জাদুঘরের শূন্য পদগুলো মূলত তিনটি পদ্ধতিতে পূরণ করা হবে: ১. সরাসরি নিয়োগ ২. পদোন্নতির মাধ্যমে ৩. প্রেষণে বদলির মাধ্যমে
সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে । পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতা উভয়কেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার বিধান রাখা হয়েছে । বিশেষায়িত জাদুঘর বিধায় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে বিশেষ যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিয়োগের শর্ত শিথিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে ।
শিক্ষানবিশকাল ও স্থায়ীত্ব
সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য ২ বছর এবং পদোন্নতিপ্রাপ্তদের জন্য ১ বছর শিক্ষানবিশকাল নির্ধারণ করা হয়েছে । এই সময়ে সন্তোষজনক দক্ষতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ চাকরির অবসান ঘটাতে বা আগের পদে ফেরত পাঠাতে পারবেন । তবে ৫০ বছর বয়সোর্ধ্ব কর্মচারীদের ক্ষেত্রে স্থায়ী হওয়ার জন্য বিশেষ পরীক্ষা বা প্রশিক্ষণ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি ।
বেতন ও আর্থিক সুবিধা
জাদুঘরের কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সরকার কর্তৃক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী পরিচালিত হবে । প্রতি বছর ১লা জুলাই বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) কার্যকর হবে । এছাড়া বিশেষ বা কষ্টসাধ্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবে কর্মচারীদের ‘সম্মানী’ প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ।
ছুটির বিধানসমূহ
কর্মচারীদের জন্য বিভিন্ন ধরণের ছুটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
-
অর্জিত ছুটি: দায়িত্ব পালনের প্রতি ১১ দিনের জন্য ১ দিন পূর্ণ গড় বেতনে ছুটি পাওয়া যাবে 。
-
প্রসূতি ছুটি: নারী কর্মচারীরা তাদের চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ দুইবার ৬ মাস করে পূর্ণ গড় বেতনে প্রসূতি ছুটি পাবেন ।
-
অধ্যয়ন ছুটি: কারিগরি বা বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর করা যাবে ।
-
বিশেষ অক্ষমতাজনিত ছুটি: দায়িত্ব পালনকালে কোনো দুর্ঘটনাবশত আঘাতপ্রাপ্ত হলে সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত এই ছুটি পাওয়া সম্ভব ।
শৃংখলা ও আচরণ
প্রবিধানমালায় ‘অসদাচরণ’ এবং ‘পলায়ন’-এর সংজ্ঞা স্পষ্ট করা হয়েছে । কোনো কর্মচারী বিনা অনুমতিতে ৬০ দিন বা তার বেশি অনুপস্থিত থাকলে তাকে ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য করা হবে । এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ অমান্য করা বা কর্তব্যে অবহেলাকেও অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ।
এই প্রবিধানমালা কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল এবং সুশৃঙ্খল হবে বলে আশা করা হচ্ছে । সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও দক্ষ জনবল কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২৫

