ড্রাইভারদের গ্রেড পরিবর্তন ও প্রশাসনিক জটিলতা ২০২৬ । সার্ভিস বুকের রেকর্ডই কি যথেষ্ট নয়? - Technical Alamin
BRTA Information

ড্রাইভারদের গ্রেড পরিবর্তন ও প্রশাসনিক জটিলতা ২০২৬ । সার্ভিস বুকের রেকর্ডই কি যথেষ্ট নয়?

সরকারি চাকরিতে ড্রাইভারদের ভারী লাইসেন্স প্রাপ্তির পর গ্রেড পরিবর্তন একটি নিয়মিত এবং বিধিসম্মত প্রক্রিয়া। তবে সম্প্রতি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় একজন ড্রাইভারের পিআরএল (PRL) সংক্রান্ত ল্যাম্পগ্রান্ট (LPC) অনুমোদনের ক্ষেত্রে কয়েক দশকের পুরনো ‘প্রশাসনিক মঞ্জুরী আদেশ’ চাওয়ায় এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর দাবি, ২০-২৫ বছর আগে নিয়ম মেনেই সার্ভিস বুকে এই গ্রেড কোড করা হয়েছিল, যার প্রমাণ বিদ্যমান।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়, গোবিন্দগঞ্জ থেকে গত ১১/০৩/২০২৬ তারিখে ইস্যু করা এক পত্রে জানানো হয়েছে যে, ড্রাইভার জনাব মোঃ গোলাম মোস্তফা-র পিআরএল আদেশ মঞ্জুরীর জন্য এলপিসি প্রতিস্বাক্ষরের ক্ষেত্রে ১৫ নং গ্রেড প্রাপ্যতার স্বপক্ষে প্রশাসনিক মঞ্জুরী আদেশ, প্রতিষ্ঠানের TO&E এবং নিয়োগ আদেশ প্রয়োজন।

মূল সংকট

ভুক্তভোগী এবং সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০০১ সালে যখন ড্রাইভারদের ভারী লাইসেন্সের ভিত্তিতে গ্রেড পরিবর্তন করা হয়েছিল, তখন তৎকালীন ডিডিও (DDO) এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সকল বৈধ কাগজপত্র যাচাই করেই সার্ভিস বুকে তা অন্তর্ভুক্ত বা কোড করেছিলেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারী অন্য স্টেশন থেকে বদলি হয়ে আসায় এখন সেই পুরনো মূল আদেশটি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের অভিমত

আইন ও বিধি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি কর্মচারীর সার্ভিস বুক বা সেবা বহি হচ্ছে তার চাকরির সবচেয়ে শক্তিশালী দালিলিক প্রমাণ। যদি সার্ভিস বুকে তৎকালীন কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরসহ গ্রেড পরিবর্তনের তথ্য যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ থাকে, তবে সেটিই বৈধতার প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত।

বর্তমানে সৃষ্ট জটিলতার সম্ভাব্য সমাধান:

  • সার্ভিস বুক অনুসরণ: যদি সার্ভিস বুকে গ্রেড পরিবর্তনের রেফারেন্স বা স্মারক নম্বর উল্লেখ থাকে, তবে সেটিকেই ভিত্তি হিসেবে ধরা যেতে পারে।

  • বিভাগীয় প্রত্যয়ন: বর্তমান কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট পুরাতন স্টেশনে যোগাযোগ করে নথিপত্রের অনুলিপি সংগ্রহের চেষ্টা করা যেতে পারে।

  • উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা: যদি কোনোভাবেই আদেশটি পাওয়া না যায়, তবে মানবিক ও বাস্তবসম্মত কারণে সার্ভিস বুকের এন্ট্রি অনুযায়ী পূর্ববর্তী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে সঠিক ধরে নিয়ে বিশেষ বিবেচনায় এটি নিষ্পত্তি করা সম্ভব।

উপসংহার

অবসরকালীন সময়ে একজন কর্মচারীকে দুই যুগ আগের কাগজের জন্য হয়রানির শিকার হতে হওয়া দুঃখজনক। ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে পুরনো নথিপত্রের অভাবে প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া ঠেকাতে প্রশাসনিক নমনীয়তা এবং সার্ভিস বুকের তথ্যের ওপর গুরুত্ব প্রদান জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


পরামর্শ: আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু ২০০১ সালে সার্ভিস বুক কোড করা হয়েছিল, তাই আপনি তৎকালীন সময়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের রেফারেন্স দিয়ে বর্তমান ডিডিও-র মাধ্যমে একটি ‘সনাক্তকরণ বা প্রত্যয়ন পত্র’ (Certifying the entries in the Service Book) ইস্যু করিয়ে হিসাবরক্ষণ অফিসে জমা দিতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *