সরকারি আপডেট নিউজ

১০০% পেনশন সমর্পণকারীর মৃত্যু হলে পুনঃস্থাপিত পেনশন কি পরিবার পাবে? ৯ম পে-স্কেল ঘিরে নতুন প্রশ্ন

সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ১০০ শতাংশ পেনশন সমর্পণ (Commutation) করে এককালীন আর্থিক সুবিধা গ্রহণের পর পুনঃস্থাপিত পেনশন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বহুল আলোচিত ৯ম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রাক্কালে অনেক পেনশনার ও তাদের পরিবার জানতে চাইছেন—পেনশন পুনঃস্থাপনের নির্ধারিত সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগেই কোনো পেনশনার মারা গেলে তার স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যরা কি পুনঃস্থাপিত পেনশনের সুবিধা পাবেন?

পেনশন বিশেষজ্ঞ ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে কার্যকর বিধান অনুযায়ী ১০০ শতাংশ পেনশন সমর্পণকারী কোনো পেনশনার পুনঃস্থাপনের নির্ধারিত সময়ের আগে মারা গেলে তার পরিবার পুনঃস্থাপিত পেনশন পাওয়ার অধিকারী হয় না। কারণ পুনঃস্থাপনের সুবিধা মূলত জীবিত পেনশনারের জন্য প্রযোজ্য।

কী বলে বর্তমান বিধান?

সরকারি চাকরি থেকে অবসরের সময় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের মাসিক পেনশনের সম্পূর্ণ বা একটি অংশ সমর্পণ করে এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেন। এর বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের মাসিক পেনশন হ্রাসপ্রাপ্ত থাকে বা বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলে সেই পেনশন পুনঃস্থাপিত হয়।

তবে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, পেনশন পুনঃস্থাপনের সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগেই পেনশনার মৃত্যুবরণ করলে পুনঃস্থাপনের সুবিধা কার্যকর হয় না। সে ক্ষেত্রে পরিবার কেবল প্রচলিত পারিবারিক পেনশন এবং অন্যান্য প্রাপ্য ভাতা বা সুবিধা পেয়ে থাকে।

পারিবারিক পেনশন ও পুনঃস্থাপিত পেনশন এক নয়

সংশ্লিষ্টদের মতে, অনেকেই পারিবারিক পেনশন এবং পুনঃস্থাপিত পেনশনকে এক বিষয় মনে করলেও বাস্তবে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সুবিধা।

পেনশন হচ্ছে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর নিজস্ব আর্থিক অধিকার। অন্যদিকে পারিবারিক পেনশন সরকার কর্তৃক মানবিক ও সামাজিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নির্দিষ্ট শর্তে স্বামী, স্ত্রী বা নির্ভরশীল সদস্যদের দেওয়া হয়।

ফলে পেনশনার জীবিত অবস্থায় পুনঃস্থাপন কার্যকর না হলে তার পরিবার সাধারণত সেই পুনঃস্থাপিত পেনশনের সুবিধা দাবি করতে পারে না।

৯ম পে-স্কেলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কতটুকু?

বর্তমানে আলোচনায় থাকা ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের বিভিন্ন প্রস্তাবে বেতন, ভাতা, পেনশন ও অবসর সুবিধা বৃদ্ধির বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা কোনো খসড়া, সুপারিশ বা আলোচনায় ১০০ শতাংশ পেনশন সমর্পণকারীর মৃত্যুর পর পরিবারকে পুনঃস্থাপিত পেনশন দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, ৯ম পে-স্কেল কার্যকর হলেও এই বিষয়ে বিশেষ কোনো পরিবর্তন না এলে বিদ্যমান নিয়মই বহাল থাকতে পারে।

পেনশনারদের মধ্যে অসন্তোষ

অনেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী মনে করেন, যেহেতু সরকার নির্দিষ্ট সময় পর পেনশন পুনঃস্থাপনের সুযোগ দিয়ে থাকে, তাই পেনশনার মৃত্যুবরণ করলেও তার পরিবারকে সেই সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তাদের যুক্তি, পেনশন সমর্পণের মাধ্যমে সরকার আগেই আর্থিক দায়ের একটি অংশ নিষ্পত্তি করেছে। তাই পুনঃস্থাপনের নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলে পরিবারকেও সুবিধাটি দেওয়ার সুযোগ রাখা যেতে পারে।

অন্যদিকে প্রশাসনিক মহলের একটি অংশ মনে করে, বর্তমান বিধান অনুযায়ী পুনঃস্থাপন ব্যক্তিগত সুবিধা হওয়ায় এটি উত্তরাধিকার সূত্রে স্থানান্তরের সুযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

পেনশন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের পরিবর্তন আনতে হলে বিদ্যমান পেনশন বিধিমালায় সংশোধন প্রয়োজন হবে। কেবল নতুন পে-স্কেল ঘোষণার মাধ্যমে এমন সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না।

তারা বলছেন, সরকার যদি ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণে নতুন কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাহলে বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। তবে বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পেনশন পুনঃস্থাপনের আগে পেনশনার মারা গেলে তার পরিবার পুনঃস্থাপিত পেনশনের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই।

উপসংহার

সার্বিকভাবে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, ১০০ শতাংশ পেনশন সমর্পণকারী কোনো পেনশনার পুনঃস্থাপনের সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করলে তার স্ত্রী বা পরিবার পুনঃস্থাপিত পেনশন পান না। তারা কেবল প্রচলিত পারিবারিক পেনশন ও অন্যান্য অনুমোদিত ভাতা-সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। ৯ম জাতীয় পে-স্কেলে এ বিষয়ে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাব প্রকাশিত হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *