বিবিধ তথ্য দেখুন

অফিস সহায়কদের দায়িত্ব সচেতন করতে কঠোর নির্দেশনা ২০২৬ : নিয়ম ভাঙলেই আইনি ব্যবস্থা

সরকারি কাজে গতিশীলতা, নিয়মানুবর্তিতা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ। সম্প্রতি বিভাগের বিভিন্ন শাখা, অধিশাখা ও দপ্তরে কর্মরত অফিস সহায়কদের (সাবেক এমএলএসএস) মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি এক ধরনের অসচেতনতা ও শিথিলতা লক্ষ্য করায় এই কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

গত ২৩ নভেম্বর ২০২২ (৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯) তারিখে বিভাগের প্রশাসন-২ অধিশাখা থেকে প্রকাশিত এক জরুরি দাপ্তরিক স্মারকে (স্মারক নম্বর: ৫৫.০০.০০০০.০০৬.৩১.৩০০.১২-৩৭৩) এ বিষয়ে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা ও একগুচ্ছ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। প্রশাসন-২ অধিশাখার উপসচিব মোঃ ফরিদ হোসেন স্বাক্ষরিত এই আদেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্ধারিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে কোনো ধরনের ব্যতয় বা অবহেলা পরিলক্ষিত হলে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক প্রশাসনিক বিধিমালার আলোকে নির্দেশনা

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৯ সালের সরকারি চাকুরী এবং সাধারণ প্রশাসন বিভাগ নিয়ন্ত্রণ শাখার এক ঐতিহাসিক বিধিমালা (নম্বর এস.জি. এ/আর আই/আই এস-১৩৫/৬৯/২৫২(৩৫০), তারিখ: ২৯ অক্টোবর ১৯৬৯) মোতাবেক অফিস সহায়কদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো এই বিধিমালা পুনরায় স্মরণ করানোর মূল উদ্দেশ্য হলো বর্তমান যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

অফিস সহায়কদের জন্য নির্ধারিত ১২ দফা নির্দেশনা:

নতুন করে জারি করা নির্দেশনায় অফিস সহায়কদের জন্য ১২টি নির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক কর্তব্য অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

১. আসবাবপত্র ও রেকর্ড সংরক্ষণ: অফিসের সমস্ত আসবাবপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডসমূহ সুন্দরভাবে বিন্যাস সাধন করতে হবে এবং সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ২. নথি স্থানান্তর: নির্দেশ মোতাবেক অফিসের ফাইল এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একস্থান হতে অন্যস্থানে কিংবা অন্য অফিসে দক্ষতার সাথে স্থানান্তর করতে হবে। ৩. অভ্যন্তরীণ সজ্জা: অফিসের প্রয়োজনে হালকা আসবাবপত্রসমূহ কক্ষের ভেতরে একস্থান হতে অন্যস্থানে সরাতে হবে। ৪. গোপন ফাইলের নিরাপত্তা: অত্যন্ত গোপন বা গুরুত্বপূর্ণ ফাইলসমূহ সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখার স্বার্থে স্টিলের বাক্স বন্দী করে নির্দেশানুযায়ী এক অফিস থেকে অন্য অফিসে বহন করতে হবে। ৫. সেবা ও আপ্যায়ন: অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত পানীয় জল পান করানোর দায়িত্ব পালন করতে হবে। ৬. মনিহারী দ্রব্যাদি রক্ষণাবেক্ষণ: অফিসের সমস্ত মনিহারী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য তারা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন। ৭. নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরা: প্রতিটি অফিস সহায়ককে অবশ্যই তাদের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অফিশিয়াল ইউনিফর্ম পরিধান করে অফিসে আসতে হবে। ৮. আদেশ প্রতিপালন: স্ব স্ব শাখা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশিত সকল বৈধ কাজ সনিষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে হবে। ৯. গণমুখী আচরণ: অফিসে আগত দর্শনার্থী এবং সাধারণ পাবলিকের (জনসাধারণের) সহিত সর্বোচ্চ ভদ্রতা, নম্রতা ও সৌজন্য বজায় রেখে ব্যবহার করতে হবে। ১০. ব্যাংকিং কার্যক্রম: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পক্ষে ব্যাংকে চেক জমা দেওয়া এবং দাপ্তরিক প্রয়োজনে টাকা তোলার কাজ করতে হবে। ১১. সময়ানুবর্তিতা: অফিস সময় শুরু হওয়ার ন্যূনতম ১৫ মিনিট পূর্বে অফিসে আগমন করতে হবে এবং সহকারী সচিব অথবা প্রধান সহকারীর নিকট উপস্থিতির রিপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে। ১২. অনুমতি ব্যতিরেকে ত্যাগ নিষিদ্ধ: কোনো অবস্থাতেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা ছাড়পত্র ছাড়া অফিস চলাকালীন সময়ে অফিস কক্ষ বা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করা যাবে না।

নিয়ম অমান্য করলেই বিভাগীয় ব্যবস্থা

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রশাসন বিভাগ জানিয়েছে, এই নির্দেশনা অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। উপসচিব মোঃ ফরিদ হোসেনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিভাগের ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার সকল কর্মকর্তাদের এই আদেশ বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে আদেশের অনুলিপি যুগ্মসচিব (প্রশাসন), সচিবের একান্ত সচিবসহ বিভাগের সকল অফিস সহায়কদের সদয় অবগতি ও প্রতিপালনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অফিস সহায়করা হলেন একটি দপ্তরের প্রাণশক্তি। তাদের কাজের অবহেলার কারণে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আটকে থাকে বা ফাইল হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। এই আদেশের পর আশা করা যাচ্ছে দাপ্তরিক কাজে গতি আসবে এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে কাজের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।”

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *