টিসিবি ফ্যামিলি কার্ড এখন ‘স্মার্ট’: অনলাইন আবেদন ও যাচাইকরণ শুরু
দেশের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের দেওয়া টিসিবি (ট্রডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) পণ্যপ্রাপ্তি আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে স্মার্ট কার্ডে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া জোরালোভাবে শুরু হয়েছে। এখন থেকে কার্ডের যাবতীয় তথ্য এবং নতুন নিবন্ধনের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে।
যাদের আগে থেকেই টিসিবি কার্ডে নাম অন্তর্ভুক্ত আছে, তাদের দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
আবেদন ও কার্ড রূপান্তরের নিয়মাবলি
বর্তমানে টিসিবির সেবাকে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে যাতে একই ব্যক্তি একাধিক কার্ড ব্যবহার করতে না পারেন এবং প্রকৃত দুস্থরা এই সুবিধা পান। নিচে ধাপে ধাপে আবেদনের প্রক্রিয়া ও করণীয় দেওয়া হলো:
১. ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ (বিদ্যমান কার্ডধারীদের জন্য)
যাদের কাছে ইতিমধ্যে হাতে লেখা বা পুরাতন টিসিবি কার্ড রয়েছে, তাদের প্রথম কাজ হলো সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা। সেখানে দায়িত্বরত প্রতিনিধিরা আপনার কার্ডের তথ্য যাচাই করে স্মার্ট কার্ডের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবেন।
২. প্রয়োজনীয় নথিপত্র
আবেদন বা তথ্য হালনাগাদের জন্য সাধারণত নিচের কাগজপত্র প্রয়োজন হচ্ছে:
-
জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ফটোকপি।
-
সচল একটি মোবাইল নম্বর।
-
পাসপোর্ট সাইজের ছবি (প্রয়োজন সাপেক্ষে)।
-
পরিবারের সদস্য সংখ্যা ও আয়ের বিবরণ।
৩. অনলাইন ডাটাবেজ এন্ট্রি
সরকার নির্ধারিত পোর্টালে তথ্যগুলো আপলোড করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (UDC) থেকে এই এন্ট্রি সম্পন্ন করা হচ্ছে। অনলাইন ডাটাবেজে নাম ওঠার পর প্রতিটি কার্ডের জন্য একটি ইউনিক কিউআর (QR) কোড জেনারেট হবে।
কেন এই স্মার্ট কার্ড?
-
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা: এক কার্ড দিয়ে একাধিকবার পণ্য তোলা বন্ধ হবে।
-
সঠিক তালিকা প্রণয়ন: একই পরিবারের একাধিক সদস্য যাতে সুবিধা না পায় এবং প্রকৃত দরিদ্ররা যাতে বাদ না পড়ে তা নিশ্চিত করা।
-
সহজ বিতরণ: স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করেই দ্রুত পণ্য দেওয়া সম্ভব হবে, ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি কমবে।
জরুরি নির্দেশনা
যাদের নাম তালিকায় আছে কিন্তু এখনো অনলাইন ভেরিফিকেশন বা স্মার্ট কার্ডের জন্য তথ্য জমা দেননি, তাদের বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দেরি না করে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র ও পুরাতন কার্ডটি নিয়ে নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদে আজই যোগাযোগ করুন।
সতর্কবার্তা: টিসিবি কার্ডের জন্য কোনো প্রকার অতিরিক্ত টাকা বা ঘুষ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এটি সরকারের একটি জনকল্যাণমূলক সেবা। কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে সরাসরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) কার্যালয়ে অভিযোগ জানান।

