স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কঠোর বার্তা ২০২৬ । পাইলট প্রকল্পের আওতায় নারী প্রধানরা পাচ্ছেন ‘ফ্যামিলি কার্ড’?
দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করতে সরকারি উদ্যোগে চালু হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশের সকল নারী পরিবার প্রধানদের অর্থনৈতিক সহায়তা ও স্বাবলম্বী করে তোলা। সম্প্রতি এ কার্ড বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ৫ দফা নির্দেশনা সংবলিত একটি জরুরি বার্তা জারি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দেশের সকল নারী যারা পরিবারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা পর্যায়ক্রমে এবং ধাপে ধাপে এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন। বর্তমানের এই উদ্যোগটিকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত রাখা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে সুবিধা পৌঁছে দেওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ৫টি প্রধান পদক্ষেপ:
১. ধাপে ধাপে নারী প্রধানদের অন্তর্ভুক্তি: দেশের সকল নারী পরিবার প্রধান এই কার্ড পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং ধাপে ধাপে সকল যোগ্য পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে। ২. পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে যাচাই: বিতরণ প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ধরণের ত্রুটি বা দুর্নীতি না থাকে, সেজন্য বর্তমানে একটি পরীক্ষামূলক বা পাইলট কর্মসূচির কাজ চলছে। এর মাধ্যমে সিস্টেমের সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। ৩. শুধুমাত্র সরকারি অফিসের মাধ্যমে বিতরণ: ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি মাধ্যমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এটি সম্পূর্ণভাবে সরকারি অফিসের মাধ্যমে সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছাবে। ৪. রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থাপনা: কার্ডের প্রাপক তালিকা তৈরিতে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করার কোনো সুযোগ থাকবে না। সুবিধাভোগী নির্বাচনে কেবল যোগ্যতাকে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হবে। ৫. সরাসরি পেমেন্ট গেটওয়ে: এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো অর্থ লেনদেনের আধুনিকায়ন। নির্ধারিত পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে সহায়তার অর্থ সরাসরি উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে যাবে। ফলে টাকা সংগ্রহের জন্য কোনো অফিসে যাওয়া বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার প্রয়োজন হবে না।
সতর্কতা ও সচেতনতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে কোনো ধরণের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ডের নাম করে কেউ যদি আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে, তবে তাদের প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ এখন সরকারি পযার্য়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহারের ফলে এই প্রকল্পে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


