মাসে ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা ২০২৬ । আগামী জুন মাসে টিসিবি কার্ড রুপ নিবে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডে?
দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ১০ মার্চ, ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ ও নগদ অর্থ সহায়তা কার্যক্রম। এই প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা সরাসরি তাদের মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (বিকাশ, নগদ বা রকেট) প্রাপ্ত হবেন।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও সুবিধা
এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে সুফল পৌঁছে দেওয়া।
-
সরাসরি অর্থ সহায়তা: উপকারভোগী পরিবারগুলো প্রতি মাসে নগদ অর্থ পাবেন যা তাদের খাদ্য ও মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক হবে।
-
ভর্তুকি মূল্যে পণ্য: নগদ অর্থের পাশাপাশি এই কার্ড ব্যবহার করে টিসিবি-র (TCB) নির্ধারিত ডিলারদের কাছ থেকে চিনি, তেল ও ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে কেনা যাবে।
-
নারী ক্ষমতায়ন: কার্ডগুলো মূলত পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহিণীদের নামে ইস্যু করা হচ্ছে, যাতে পরিবারের অভ্যন্তরীণ আর্থিক সিদ্ধান্তে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়।
কারা পাবেন এই সুবিধা? (যোগ্যতার মাপকাঠি)
প্রকল্পের খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট কিছু শর্তের ভিত্তিতে এই কার্ড বিতরণ করা হবে:
-
যাদের পরিবারের নিজস্ব আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার কম।
-
ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী (যেমন: বেদে, হিজড়া বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী)।
-
যাদের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী বা নিয়মিত পেনশনভোগী নন।
-
যাদের বড় কোনো ব্যবসা বা বিলাসদ্রব্য (যেমন: গাড়ি বা এসি) নেই।
বিতরণ ও স্বচ্ছতা প্রক্রিয়া
সরকার এই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) তথ্যের ভিত্তিতে ‘সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেম’ ব্যবহার করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে, যাতে একই ব্যক্তি একাধিক সুযোগ সুবিধা না পেতে পারেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, শুরুতে দেশের ১৪টি নির্বাচিত উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে (Piloting) এই কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের প্রায় ২ কোটি পরিবারের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য পরবর্তী ধাপ
আপনি যদি এই সুবিধার আওতাভুক্ত হতে চান, তবে আপনার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে তথ্যাদি যাচাই করে নিন। নিবন্ধনের সময় অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সক্রিয় মোবাইল নম্বর সাথে রাখতে হবে।


