সরকারি আপডেট নিউজ

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর: নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে ২১ মে চূড়ান্ত বৈঠক, সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার করার সুপারিশ

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। বহুল প্রত্যাশিত নতুন বেতনকাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত বৈঠকে বসছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এই বৈঠক থেকেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এর আগে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন,

“আগামী অর্থবছর অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামোর বাস্তবায়ন হবে। কীভাবে তা উত্তম উপায়ে করা যায়, তা নিয়ে এখন কাজ চলছে।”


সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের প্রস্তাবনা

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি আগামী বৃহস্পতিবারের বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামোর সম্ভাব্য রূপরেখা, মূল বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা ও বাস্তবায়নের সময়সূচি চূড়ান্ত করবে। প্রস্তাবিত বেতনকাঠামোতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বা ধাপ বহাল রেখেই মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

নিচে বর্তমান ও প্রস্তাবিত পে স্কেলের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:

বিবরণ বর্তমান কাঠামো (২০১৫ সালের পে স্কেল) প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো
সর্বনিম্ন বেতন (২০তম গ্রেড) ৮,২৫০ টাকা ২০,০০০ টাকা
সর্বোচ্চ বেতন (১ম গ্রেড) ৭৮,০০০ টাকা (নির্ধারিত) ১,৬০,০০০ টাকা (নির্ধারিত)
বিশেষ ধাপ নেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব ও সিনিয়র সচিবদের জন্য ২০টি ধাপের বাইরে নতুন একটি বিশেষ ধাপ তৈরি করবে অর্থ বিভাগ।

ভাতা ও অন্যান্য সুবিধায় বড় পরিবর্তন

মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে কমিশন:

  • বৈশাখী ভাতা বৃদ্ধি: সরকারি চাকরিজীবীরা বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতা পেয়ে থাকেন। নতুনcommissions এটিকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে।

  • যাতায়াত ভাতার পরিধি সম্প্রসারণ: আগে কেবল ১১তম থেকে ২০তম ধাপের কর্মচারীরা যাতায়াত ভাতা পেতেন। নতুন কাঠামোতে এটি বাড়িয়ে ১০ম থেকে ২০তম ধাপ পর্যন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

  • স্বয়ংক্রিয় অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি: মূল বেতন বৃদ্ধির ফলে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতার পরিমাণও আনুপাতিক হারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে।


এক দশক পর নতুন পে স্কেল

সর্বশেষ ২০১৫ সালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অষ্টম পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ এক দশক ধরে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নতুন বেতনকাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন সরকারি চাকুরিজীবীরা।

এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন নির্দিষ্ট সময়ের তিন সপ্তাহ আগেই (১৪ ফেব্রুয়ারির পূর্বে) সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করে। প্রতিবেদনটি তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য, পুঞ্জীভূত মূল্যস্ফীতি, মানুষের জীবনমান এবং বেসরকারি খাতের বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়গুলো গভীরভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের চূড়ান্ত বৈঠকের পর সরকার যেকোনো সময় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *