১১-২০ তম গ্রেডে চরম বৈষম্য: তবুও জানুয়ারিতেই গেজেট ও কার্যকরের দাবি সরকারি কর্মচারীদের
বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বেতন স্কেল বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের কর্মচারীরা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি প্রস্তাবিত বেতন তালিকার তথ্যানুযায়ী, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্নধাপের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হারে বড় ধরনের বৈষম্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে এই বৈষম্য থাকা সত্ত্বেও, ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে টিকে থাকতে আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যে গেজেট প্রকাশ এবং জানুয়ারি মাস থেকেই তা কার্যকরের জোরালো দাবি জানিয়েছেন সাধারণ কর্মচারীরা।
বৈষম্যের চিত্র ও কর্মচারীদের অবস্থান
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-১০ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের বেতন যেভাবে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, সেই তুলনায় ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতনের পার্থক্য অনেক বেশি। কর্মচারীদের অভিযোগ, এই বৈষম্য তাদের জীবনযাত্রার মানকে আরও কঠিন করে তুলবে।
সংশ্লিষ্ট গ্রেডের কর্মচারীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের ফাঁক থাকলেও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বেতন বৃদ্ধি পাওয়াটা এখন সময়ের দাবি। তারা বলছেন, “আমরা জানি বৈষম্য আছে, কিন্তু এই মুহূর্তে কোনো প্রকার আপত্তি তুলে প্রক্রিয়াটি আর দীর্ঘায়িত করতে চাই না। আমরা চাই দ্রুত গেজেট প্রকাশ হোক।”
মূল দাবিগুলো হলো:
-
দ্রুত গেজেট প্রকাশ: আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করতে হবে।
-
জানুয়ারি থেকেই কার্যকর: ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের সাথে যেন বর্ধিত অংশ বা নতুন স্কেল কার্যকর করা হয়।
-
বকেয়া সুবিধা: যদি গেজেট জানুয়ারিতে হয়, তবে এর আর্থিক সুবিধা জানুয়ারি মাস থেকেই গণনা করতে হবে।
তীব্র হচ্ছে জনমত
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই দাবি এখন তুঙ্গে। ১১-২০ তম গ্রেডের হাজার হাজার কর্মচারী একাত্মতা প্রকাশ করে পোস্ট করছেন। তারা বলছেন, “আর কোনো অজুহাত নয়, জানুয়ারি থেকেই কার্যকর চাই।” বৈষম্যের প্রতিবাদ করার চেয়ে এখন পকেটে টাকা আসাটাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা, কারণ বাজারের আগুনে তাদের নাভিশ্বাস উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতামত
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নিচের দিকের গ্রেডগুলোতে বেতন বৃদ্ধির হার কম হলে তা কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। তবে সরকার যদি দ্রুত গেজেট প্রকাশ করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমাধান দেয়, তবে সাময়িকভাবে এই ক্ষোভ প্রশমিত হতে পারে।
সরকারি কর্মচারীদের এই গণদাবি প্রশাসন কীভাবে নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। ২৬ জানুয়ারির সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছে, কর্মচারীদের প্রত্যাশার পারদ ততই বাড়ছে।


