নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকুরেদের পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধনের নির্দেশ - Technical Alamin
Latest News

নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকুরেদের পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধনের নির্দেশ

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটদানের সুবিধার্থে নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধনের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশী ভোটারদের পাশাপাশি যারা চাকরির কারণে নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোটদানের সুযোগ রাখা হয়েছে।

কারা এই সুবিধা পাবেন: দেশের অভ্যন্তরে নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী (সামরিক ও বেসামরিক), নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররা আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন।

নিবন্ধনের প্রক্রিয়া ও সময়সীমা: পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটারদের আগামী ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের মধ্যে ‘Postal Vote BD’ নামক মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে নির্ধারিত পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে সকল সিনিয়র সচিব, সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রবর্তিত এই অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন এবং উদ্বুদ্ধকরণের বিষয়ে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করতেই এই ‘Postal Vote BD’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

পোস্টাল ভোট বিডি তে কিভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়?

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ‘Postal Vote BD’ অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করার ধাপগুলো নিচে সহজভাবে দেওয়া হলো:

১. অ্যাপ ডাউনলোড ও ভাষা নির্বাচন

  • প্রথমে গুগল প্লে-স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে ‘Postal Vote BD’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করুন।

  • অ্যাপটি ওপেন করে আপনার সুবিধামতো বাংলা বা ইংরেজি ভাষা নির্বাচন করুন।

২. প্রোফাইল তৈরি ও মোবাইল যাচাই

  • আপনার সচল মোবাইল নম্বর প্রদান করুন।

  • নম্বরে একটি OTP (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) আসবে, সেটি অ্যাপে বসিয়ে নম্বরটি যাচাই বা ভেরিফাই করে নিন।

৩. পরিচয় যাচাই (e-KYC)

  • আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সামনের এবং পেছনের দিকের পরিষ্কার ছবি তুলুন।

  • এরপর নিজের একটি সেলফি তুলতে হবে। এসময় অ্যাপের নির্দেশনা অনুযায়ী মাথা নাড়ানো বা চোখের পলক ফেলার মাধ্যমে ‘Liveliness Detection’ (আপনি জীবিত মানুষ কি না তা নিশ্চিত করা) সম্পন্ন হবে।

৪. প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান

  • আপনার পেশাগত তথ্য এবং বর্তমান কর্মস্থলের সঠিক ঠিকানা প্রদান করুন। যেহেতু এই ঠিকানায় আপনার ব্যালট পেপারটি পাঠানো হবে, তাই ঠিকানাটি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে দেওয়া জরুরি।

  • প্রয়োজনে পাসপোর্ট নম্বর দিতে পারেন (এটি বাধ্যতামূলক নয়, তবে প্রবাসীদের জন্য সহায়ক)।

৫. রেজিস্ট্রেশন সম্পন্নকরণ

  • সব তথ্য দেওয়া হয়ে গেলে সাবমিট করুন। আপনার তথ্যগুলো নির্বাচন কমিশনের ডেটাবেজের সাথে মিলে গেলে স্ক্রিনে ‘আপনি এখন নিবন্ধিত’ বা এই জাতীয় বার্তা দেখতে পাবেন।


কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • শেষ সময়: সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য নিবন্ধনের শেষ তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

  • ঠিকানা: ঠিকানা অবশ্যই ইংরেজিতে পূরণ করার চেষ্টা করবেন এবং কোনো বিশেষ চিহ্ন (#, @) ব্যবহার করবেন না।

  • ভোটদান: রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে আপনার ঠিকানায় ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। ব্যালট হাতে পাওয়ার পর অ্যাপের মাধ্যমে কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে আপনি ভোট প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *