প্রতিবন্ধী ভাতা বিতরণ ২০২৬ । ইতিমধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতা নগদ বিকাশে বিতরণ শুরু হয়েছে - Technical Alamin
সরকারি আদেশ ও তথ্য

প্রতিবন্ধী ভাতা বিতরণ ২০২৬ । ইতিমধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতা নগদ বিকাশে বিতরণ শুরু হয়েছে

বাংলাদেশের বিশাল প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনতে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৩২.৩৪ লাখ থেকে বৃদ্ধি করে ৩৪.৫০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। একই সাথে ভাতার মাসিক হার ৯০০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেট ও বাস্তবায়ন: চলতি অর্থবছরে এই কর্মসূচির জন্য মোট ৩৭৫২.০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যখন এই কর্মসূচি শুরু হয়, তখন উপকারভোগী ছিল মাত্র ১.০৪ লাখ এবং মাসিক ভাতার হার ছিল ২০০ টাকা। বিগত ২০ বছরে উপকারভোগীর সংখ্যা এবং বাজেট বরাদ্দে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে নগদ, বিকাশ এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে ভাতার অর্থ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যা শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে।

সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫: সরকার সম্প্রতি “প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫” প্রণয়ন করেছে আগে এই দুটি কার্যক্রম আলাদা নীতিমালার অধীনে থাকলেও জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের (NSSS) আলোকে এখন এগুলোকে একীভূত করা হয়েছে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ (DIS) এ অন্তর্ভুক্ত সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতার আওতায় আসবেন বিশেষ ক্ষেত্রে, ভাতাপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষার্থী যদি শিক্ষা উপবৃত্তি পাওয়ার যোগ্য হন, তবে তিনি ভাতার পাশাপাশি নির্ধারিত স্তরের উপবৃত্তির অতিরিক্ত অর্থও পাবেন

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান এবং তাদের সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করা । এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের সুবর্ণ নাগরিক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।

আবেদন ও সেবা প্রাপ্তি: আগ্রহী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। যারা অনলাইন আবেদনে পারদর্শী নন, তাদের স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে । এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবন্ধী ভাতা কি জেলা ভিত্তিক বিতরণ করা হয়? ফলে একই সাথে সবাই পায় না

প্রতিবন্ধী ভাতা বিতরণের ক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক বা জেলাভিত্তিক একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। আপনার প্রশ্নের উত্তরগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: এটি কি জেলা ভিত্তিক বিতরণ করা হয়? হ্যাঁ, প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রম সমগ্র বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার সকল পৌরসভা, পল্লী এলাকার ইউনিয়ন এবং সিটি কর্পোরেশনের থানাসমূহ জুড়ে বিস্তৃত । তবে এটি সরাসরি জেলা প্রশাসন নয়, বরং সমাজসেবা অধিদপ্তর তার স্থানীয় কার্যালয়গুলোর (উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়) মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে । সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও স্থানীয় এলাকা বা স্থায়ী ঠিকানাকে প্রাধান্য দেওয়া হয় । সবাই কেন একই সাথে ভাতা পায় না? সবাই একই সময়ে ভাতা না পাওয়ার পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে: পে-রোল (Payroll) প্রস্তুতকরণ: ভাতা প্রেরণের আগে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা অফিসারকে প্রতিটি এলাকার সুবিধাভোগীদের তথ্য যাচাই করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি ‘পে-রোল’ বা তালিকা প্রস্তুত করতে হয় । যেহেতু বিভিন্ন এলাকার অফিসাররা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এই তালিকা পূর্ণাঙ্গ করে সমাজসেবা অধিদপ্তরে পাঠান, তাই এলাকাভেদে সময়ের পার্থক্য হয় ।

বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রতিবন্ধী ভাতার মাসিক হার ৯০০ টাকা।

প্রতিবন্ধী ভাতার বিস্তারিত তথ্য এখানে পাবেন।

প্রতিবন্ধী ভাতার হার কত?

বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রতিবন্ধী ভাতার মাসিক হার ৯০০ টাকা

প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমের তথ্যানুযায়ী এই ভাতার বিবর্তনের উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

  • চলতি হার: ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে মাসিক ভাতার হার বাড়িয়ে ৯০০ টাকা করা হয়েছে।

  • পূর্ববর্তী হার: এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত এই ভাতার হার ছিল মাসিক ৮৫০ টাকা।

  • সূচনাকালীন হার: ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যখন এই কার্যক্রম শুরু হয়, তখন মাসিক ভাতার হার ছিল মাত্র ২০০ টাকা।

  • পরিশোধ পদ্ধতি: এই ভাতার অর্থ বর্তমানে জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (নগদ, বিকাশ) অথবা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য যে, কোনো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী যদি সাধারণ ভাতার পাশাপাশি শিক্ষা উপবৃত্তি পাওয়ার যোগ্য হন, তবে তিনি স্তরভিত্তিক নির্ধারিত উপবৃত্তি ও সাধারণ ভাতার পার্থক্যের সমপরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত হিসেবে পাবেন

প্রতিবন্ধী ভাতা বিতরণ কি শুরু হয়েছে?

হ্যাঁ, বাংলাদেশে ২০০৫-০৬ অর্থবছর থেকেই প্রতিবন্ধী ভাতা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে এটি একটি নিয়মিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হিসেবে চলমান রয়েছে।

বর্তমানে এই কার্যক্রমের সর্বশেষ অবস্থা ও তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

  • চলমান কর্মসূচি: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও এই ভাতা বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মাসিক ভাতার হার ৯০০ টাকা এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৩৪.৫০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।

  • ভাতা প্রদানের পদ্ধতি: বর্তমানে জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (যেমন- নগদ, বিকাশ) এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে ভাতার অর্থ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

  • আবেদন প্রক্রিয়া: যারা এখনো ভাতার আওতায় আসেননি, তারা সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়সীমায় (সাধারণত আগস্ট মাসে) নতুন আবেদন গ্রহণ করা হয়।

  • নীতিমালা ২০২৫: কার্যক্রমটিকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে সরকার ‘প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ প্রণয়ন করেছে, যার মাধ্যমে ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমকে একীভূত করা হয়েছে।

সংক্ষেপে, প্রতিবন্ধী ভাতা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত কার্যক্রম যা বর্তমানে আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেশব্যাপী সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) পদ্ধতি: বর্তমানে ভাতা প্রদানের জন্য ডিজিটাল জিটুপি (G2P) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে বিল অনুমোদনের পর তা অর্থ বিভাগে যায়, সেখান থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে নির্দিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (যেমন: নগদ, বিকাশ বা ব্যাংক) সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয় । এই দীর্ঘ ডিজিটাল চেইনের কোনো এক জায়গায় কারিগরি জটিলতা বা তথ্য বিভ্রাট থাকলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকার পেমেন্ট দেরি হতে পারে । কিস্তিভিত্তিক বরাদ্দ: ভাতা সাধারণত নির্দিষ্ট সময় অন্তর বা কিস্তিতে প্রদান করা হয় । অনেক সময় বাজেটের প্রাপ্যতা বা নতুন সুবিধাভোগী প্রতিস্থাপনের (যেমন: কেউ মারা গেলে তার বদলে নতুন কাউকে যুক্ত করা) কারণেও পেমেন্ট সাইকেলে সামান্য বিলম্ব হতে পারে । হিসাব নম্বর সংক্রান্ত সমস্যা: কোনো সুবিধাভোগীর মোবাইল বা ব্যাংক হিসাব নম্বরে ভুল থাকলে অথবা হিসাবটি সচল না থাকলে তার টাকা পেমেন্ট সিস্টেম থেকে আটকে যায়, যা পরবর্তীতে সংশোধন সাপেক্ষে প্রদান করা হয় । সংক্ষেপে, এটি একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্রক্রিয়া হলেও স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য হালনাগাদ এবং ব্যাংকিং সিস্টেমের ধাপগুলোর কারণে বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে টাকা পেয়ে থাকেন। তবে সরকার বর্তমানে সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫-এর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করার চেষ্টা করছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *