সরকারি আদেশ ও তথ্য

দিবস পালনে নতুন নির্দেশনা ২০২৬ । ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ ও ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত হবে

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনয়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সাশ্রয় নিশ্চিত করতে নতুন এক পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এই নির্দেশনায় দিবসগুলোকে তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট নতুন দুটি দিবস তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে

দিবস পালনের তিনটি শ্রেণিবিভাগ

সরকার দিবসগুলোকে গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী ‘ক’, ‘খ’ এবং ‘গ’—এই তিনটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করেছে:

  • ‘ক’ শ্রেণি (যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিতব্য): এই তালিকায় মোট ১৭টি দিবস রয়েছে, যা জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে পালিত হবে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (২১ ফেব্রুয়ারি), স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস (২৬ মার্চ), বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর), বাংলা নববর্ষ (১ বৈশাখ) এবং নবসংযুক্ত ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ এছাড়াও ধর্মীয় উৎসবসমূহ যেমন ঈদ, দুর্গাপূজা ও বড়দিন এই তালিকায় স্থান পেয়েছে

  • ‘খ’ শ্রেণি (বিশেষ সহায়ক দিবস): পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণের জন্য সহায়ক ৩৭টি দিবস এই তালিকায় রাখা হয়েছে এ পর্যায়ে ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এসব দিবস পালনে সরকারি তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা বরাদ্দ দেওয়া যাবে

  • ‘গ’ শ্রেণি (প্রতীকী দিবস): বিশেষ বিশেষ খাতের ৩৫টি প্রতীকী দিবস সীমিত পরিসরে পালিত হবে তবে এই দিবসগুলো পালনের জন্য উন্নয়ন খাত থেকে কোনো বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না

ব্যয় সাশ্রয় ও কার্যক্রমে বিশেষ কড়াকড়ি

রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাতে এবং অফিসের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে পরিপত্রে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:

  • সমাবেশ ও শোভাযাত্রা বর্জন: কর্মদিবসে কোনো ধরনের সমাবেশ বা শোভাযাত্রা করা যাবে না সাজসজ্জা এবং বড় ধরনের বিচিত্রানুষ্ঠান যথাসম্ভব পরিহার করতে বলা হয়েছে

  • ছুটির দিনে আয়োজন: আলোচনা সভা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো ছুটির দিনে অথবা অফিসের সময়ের পরে আয়োজন করার চেষ্টা করতে হবে

  • কর্মকর্তাদের ঢাকায় আনা বন্ধ: কোনো দিবস বা সপ্তাহ পালন উপলক্ষ্যে জেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকায় আনা যাবে না

  • একত্রীকরণ: সমধর্মী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসগুলোকে একই তারিখে একত্রে পালন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে

বিশেষ সপ্তাহ পালনে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি

শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, সশস্ত্র বাহিনী দিবস, পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ এবং আনসার সপ্তাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোর কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রহণ করবে

এই নতুন পরিপত্র জারির ফলে ১৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে জারিকৃত আগের পরিপত্রটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে

‘ক’ শ্রেণি (যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিতব্য) এই তালিকায় মোট ১৭টি দিবস রয়েছে। কি কি?

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী, ‘ক’ শ্রেণিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন বা পালন করার জন্য নিম্নলিখিত ১৭টি দিবস বা উৎসবের তালিকা দেওয়া হয়েছে:

১. শহীদ দিবস/আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: ২১ ফেব্রুয়ারি । ২. জাতীয় বীমা দিবস: ১ মার্চ । ৩. গণহত্যা দিবস: ২৫ মার্চ । ৪. স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস: ২৬ মার্চ । ৫. মে দিবস: ১ মে । ৬. বৌদ্ধ পূর্ণিমা: মে মাসে । ৭. জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস: ৫ আগস্ট । ৮. লালন সাঁই-তিরোধান দিবস: ১৭ অক্টোবর । ৯. বিজয় দিবস: ১৬ ডিসেম্বর । ১০. বড়দিন: ২৫ ডিসেম্বর । ১১. বাংলা নববর্ষ: ১ বৈশাখ । ১২. রবীন্দ্র জয়ন্তী: ২৫ বৈশাখ । ১৩. নজরুল জয়ন্তী: ১১ জ্যৈষ্ঠ । ১৪. ঈদ-উল-ফিতর: ১ শাওয়াল । ১৫. ঈদ-উল-আযহা: ১০ জিলহজ । ১৬. ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.): ১২ রবিউল আউয়াল । ১৭. দুর্গাপূজা: পঞ্জিকা অনুযায়ী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *