১৫ লাখের সুবিধা, অথচ মাঠে নেই ১৫শ জনও: পে-স্কেল আন্দোলনে ক্ষুব্ধ কর্মচারী নেতারা - Technical Alamin
Latest News

১৫ লাখের সুবিধা, অথচ মাঠে নেই ১৫শ জনও: পে-স্কেল আন্দোলনে ক্ষুব্ধ কর্মচারী নেতারা

“নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরাসরি সুফল ভোগ করবেন দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী। কিন্তু এই ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নামা তো দূরের কথা, নুন্যতম আওয়াজ তোলার জন্য ১৫শ জনকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই নীরবতা শুধু দুঃখজনক নয়, হাস্যকরও বটে।”

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এভাবেই নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. আব্দুর মালেক। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস উঠলেও কর্মচারীদের এই নিষ্ক্রিয়তাকে তিনি নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা নাকি চরম উদাসীনতা—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

আন্দোলনের ডাক ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। এর মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বাড়লেও সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়েনি আনুপাতিক হারে। গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দিলেও তা এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

এই প্রেক্ষাপটে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ৬৪ জেলায় স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব।

কেন এই নীরবতা?

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৫ লাখ কর্মচারীর স্বার্থ যেখানে জড়িত, সেখানে আন্দোলনের মাঠে জনবলের অভাবের পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে: ১. ভয় ও শঙ্কা: শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ বা প্রশাসনিক শাস্তির ভয়ে অনেক কর্মচারী প্রকাশ্যে আন্দোলনে আসতে দ্বিধাবোধ করেন। ২. বিভক্তি: কর্মচারী সংগঠনগুলোর মধ্যে বহুমুখী রাজনৈতিক মেরুকরণ ও অনৈক্য সাধারণ কর্মচারীদের বিভ্রান্ত করছে। ৩. আশার চেয়ে হতাশা বেশি: দীর্ঘ সময় ধরে শুধু ‘আশ্বাস’ পাওয়ায় কর্মচারীদের একটি বড় অংশ মনে করছে, আওয়াজ তুলেও হয়তো লাভ হবে না।

কল্যাণ সমিতির ১০ দফা দাবি

মো. আব্দুর মালেকের নেতৃত্বাধীন কল্যাণ সমিতি যে দাবিগুলো সামনে রেখে লড়াই করছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • অবিলম্বে ৯ম পে-স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন।

  • বাতিলকৃত টাইম স্কেলসিলেকশন গ্রেড পুনরায় চালু করা।

  • সচিবালয়ের ন্যায় পদবি ও গ্রেড পরিবর্তন করা (১১-২০ গ্রেডের জন্য)।

  • বাজারমূল্যের সাথে সংগতি রেখে চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতা বৃদ্ধি।

  • ব্লক পোস্টে কর্মরতদের পদোন্নতির জটিলতা নিরসন।

আহ্বায়কের হুঁশিয়ারি

আব্দুর মালেক স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন পে-স্কেলের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “সুবিধা সবাই নেবেন, কিন্তু হকের কথা কেউ বলবেন না—এই মানসিকতা পরিহার করতে হবে। ১৫ লাখ কর্মচারী ঐক্যবদ্ধ না হলে সরকার আমাদের দাবিকে গুরুত্ব দেবে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *