লোড শেডিং প্রক্রিয়া ২০২৬ । কেন কখন এবং কিভাবে লোড শেডিং দেয়া হয়? - Technical Alamin
Latest News

লোড শেডিং প্রক্রিয়া ২০২৬ । কেন কখন এবং কিভাবে লোড শেডিং দেয়া হয়?

২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে লোডশেডিংয়ের একটি বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তীব্র দাবদাহ এবং জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হওয়ায় এই লোডশেডিং করা হচ্ছে। আপনার জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে লোডশেডিংয়ের কারণ, সময় এবং প্রক্রিয়া নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

কেন লোডশেডিং দেয়া হয়?

মূলত তিনটি প্রধান কারণে বর্তমানে লোডশেডিং হচ্ছে:

  • চাহিদা ও জোগানের পার্থক্য: এপ্রিল ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৭,০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছেছে, কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ১৩,০০০ থেকে ১৪,০০০ মেগাওয়াটের মধ্যে। এই ৩,০০০ মেগাওয়াট ঘাটতি মেটাতেই লোডশেডিং করা হয়।

  • জ্বালানি সংকট: কয়লা ও গ্যাস আমদানিতে সমস্যা এবং ডলার সংকটের কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারছে না। এছাড়া আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকায় সরবরাহ আরও কমেছে।

  • সেচ মৌসুমে বাড়তি চাহিদা: বর্তমানে বোরো চাষের সেচ মৌসুম চলায় কৃষি খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে আবাসিক এলাকায় সরবরাহ কমিয়ে সমন্বয় করা হচ্ছে।

কখন লোডশেডিং দেয়া হয়?

বিদ্যুতের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দিন ও রাতকে দুটি ভাগে ভাগ করে লোডশেডিং বণ্টন করা হয়:

  • পিক আওয়ার (Peak Hours): সাধারণত বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চাহিদাও সর্বোচ্চ থাকে। এই সময়েই লোডশেডিংয়ের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

  • অফ-পিক আওয়ার (Off-Peak): রাত ১১টার পর থেকে পরের দিন বিকেল পর্যন্ত চাহিদা কিছুটা কম থাকলেও, বর্তমানে সরবরাহ ঘাটতি এতটাই বেশি যে দিনের বেলাতেও ৮-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে (বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে)।

কিভাবে লোডশেডিং দেয়া হয়? (প্রক্রিয়া)

বিদ্যুৎ বিভাগ একটি নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে:

  • এলাকাভিত্তিক রেশনিং: ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টার (NLDC) থেকে প্রতিটি গ্রিড উপকেন্দ্রকে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দ কম হলে সংশ্লিষ্ট ফিডার বা এলাকাগুলো বন্ধ রেখে চাহিদা সামাল দেওয়া হয়।

  • শহর বনাম গ্রাম বিভাজন: গত কয়েক দিনের সংবাদ অনুযায়ী, ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে লোডশেডিং তুলনামূলক কম রাখা হলেও গ্রামাঞ্চলে (পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায়) এর প্রভাব বেশি পড়ছে। তবে ২৩ এপ্রিল ২০২৬-এ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শহরের মানুষের আরাম আর গ্রামের মানুষের কষ্ট—এই বৈষম্য কমাতে এখন রাজধানী ঢাকাতেও পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং শুরু হয়েছে।

  • প্রযুক্তিগত লোডশেডিং: অনেক সময় ঝড়-বৃষ্টি বা কারিগরি ত্রুটির কারণেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে, যা সাধারণ মানুষ লোডশেডিং হিসেবেই অনুভব করেন।

তথ্যসূত্র: সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলের ২৬ থেকে ২৮ তারিখের মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কারণ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেরামত কাজ শেষ হবে এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে কয়লার নতুন চালান আসার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *