মৃত পেনশনারের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হলে করণীয় ও আইনি বিধান - Technical Alamin
সরকারি আদেশ ও তথ্য

মৃত পেনশনারের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হলে করণীয় ও আইনি বিধান

সরকারি কর্মচারী বা পেনশনারের মৃত্যুর পর তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত পেনশনের টাকা জমা হওয়া এবং পরবর্তীতে সেই টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকের মধ্যেই অস্পষ্টতা রয়েছে। সম্প্রতি এক ঘটনায় দেখা গেছে, পেনশনারের মৃত্যুর ৩ মাস পরেও অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়েছে, যা নিয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে আইনি জটিলতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

১. মৃত্যুর তথ্য গোপন করা কি আইনত দণ্ডনীয়?

পেনশন বিধি মোতাবেক, কোনো পেনশনার মৃত্যুবরণ করলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে (হিসাব রক্ষণ অফিস ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক) অবহিত করা বাধ্যতামূলক। মৃত্যুর তথ্য গোপন করে পেনশনের টাকা গ্রহণ করা বা অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হতে দেওয়া বিধিসম্মত নয়। কারণ, সরকারি কর্মচারী মারা যাওয়ার সাথে সাথেই তাঁর ব্যক্তিগত পেনশন বন্ধ হয়ে যায় এবং বিধি মোতাবেক ‘পারিবারিক পেনশন’ কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

২. অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া ৩ মাসের টাকা কি মা পাবেন?

পেনশনারের মৃত্যুর পর পেনশনের বই বা অ্যাকাউন্টে যে টাকা জমা হয়, তা ব্যক্তিগত পেনশন হিসেবে গণ্য। আইন অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির ব্যক্তিগত পেনশনের টাকা তাঁর মৃত্যুর দিন পর্যন্ত প্রাপ্য। মৃত্যুর পরের সময়কার জমা হওয়া টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য। তবে মা যদি নমিনি হিসেবে থাকেন, তবুও তিনি সরাসরি ওই টাকা ভোগ করতে পারবেন না যতক্ষণ না পারিবারিক পেনশনের প্রশাসনিক আদেশ জারি হচ্ছে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ ওই টাকা সমন্বয় করে পারিবারিক পেনশনের বকেয়া হিসেবে প্রদানের ব্যবস্থা নিতে পারে।

৩. পারিবারিক পেনশন চালুর সঠিক পদ্ধতি

মৃত কর্মচারীর স্ত্রী বা যোগ্য ওয়ারিশগণ পারিবারিক পেনশন পাওয়ার অধিকারী। এটি কার্যকর করতে দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে মৃত্যু সনদসহ অবহিত করতে হবে। পারিবারিক পেনশন চালু করতে নিম্নোক্ত নথিপত্র প্রয়োজন হবে:

  • প্রশাসনিক আদেশ: মৃত বাবার নামে পেনশন চালুর মূল প্রশাসনিক আদেশের কপি।

  • পেনশন বই: মূল পেনশন পেমেন্ট অর্ডার (PPO) বা পেনশনের বই।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র: আবেদনকারীর (মায়ের) এনআইডি কার্ডের কপি।

  • ওয়ারিশ সনদ: স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন কাউন্সিলর বা ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত ওয়ারিশান সনদ।

  • নন-ম্যারেজ সার্টিফিকেট: মা পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি—মর্মে কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র।

  • ছবি: সকল ওয়ারিশানদের সত্যায়িত ছবি।

৪. বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

পেনশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, “পেনশনার মারা গেলে দেরি না করে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করা উচিত। তথ্য গোপন করলে পরবর্তীতে আইনি জটিলতা বা অডিট আপত্তি আসতে পারে। দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী আজীবন পারিবারিক পেনশন এবং আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।”

সতর্কবার্তা: সরকারি অর্থ বিধিবহির্ভূতভাবে উত্তোলন বা জমা রাখা থেকে বিরত থাকুন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় পারিবারিক পেনশন নিশ্চিত করুন।


আপনার জন্য পরামর্শ: যেহেতু ইতিমধ্যে ৩ মাস অতিবাহিত হয়েছে, তাই দেরি না করে দ্রুত আপনার এলাকার সংশ্লিষ্ট হিসাব রক্ষণ অফিস (Account Office) এবং যে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হতো, সেখানে যোগাযোগ করুন। আপনার কাছে থাকা কাগজপত্রগুলো নিয়ে গেলেই তারা বকেয়া সমন্বয় এবং মায়ের নামে নতুন পেনশন চালুর প্রক্রিয়া শুরু করে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *