নতুন জন্ম নিবন্ধন: কোন বয়সে কী কী কাগজ লাগবে? জেনে নিন বিস্তারিত
বাংলাদেশে নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণের প্রথম ধাপ হলো জন্ম নিবন্ধন। বর্তমানে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী, জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করতে বয়সভিত্তিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে ৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে নিয়মে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
আপনার সুবিধার্থে কোন বয়সসীমায় আবেদন করতে কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন, তার একটি বিস্তারিত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. ০ থেকে ৪৫ দিন বয়সী শিশুদের জন্য
নবজাতকের জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করা সবচাইতে সহজ। এক্ষেত্রে প্রয়োজন:
-
ইপিআই (টিকা) কার্ড অথবা হাসপাতাল থেকে দেওয়া ছাড়পত্র।
-
পিতা ও মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।
-
পিতা ও মাতার এনআইডি (NID) কার্ডের ফটোকপি।
-
বাসার হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ অথবা সর্বশেষ বিদ্যুৎ বিলের কপি (ঠিকানা প্রমাণের জন্য)।
২. ৪৬ দিন থেকে ৫ বছর বয়সীদের জন্য
শিশুর বয়স ৪৫ দিন পার হয়ে গেলে ৫ বছর পর্যন্ত নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন:
-
ইপিআই (টিকা) কার্ড অথবা স্বাস্থ্যকর্মীর প্রত্যয়নপত্র।
-
পিতা ও মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।
-
পিতা ও মাতার এনআইডি (NID) কার্ডের ফটোকপি।
-
বাসার হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ অথবা বিদ্যুৎ বিলের কপি।
৩. ৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য
যাদের বয়স ৫ বছর অতিক্রম করেছে, তাদের ক্ষেত্রে কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তা কিছুটা ভিন্ন:
-
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ: পিএসসি, জেএসসি বা এসএসসি সনদ (যদি থাকে)।
-
চিকিৎসকের প্রত্যয়ন: যদি শিক্ষাগত সনদ না থাকে, তবে সরকারি হাসপাতালের এমবিবিএস ডাক্তারের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হবে।
-
পিতা ও মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।
-
পিতা ও মাতার এনআইডি (NID) কার্ডের ফটোকপি।
আবেদনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কবার্তা
-
অনলাইন জন্ম নিবন্ধন: বর্তমানে পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন অনলাইন থাকা বাধ্যতামূলক। যদি তাদের সনদ ডিজিটাল বা অনলাইন না থাকে, তবে আগে তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
-
ঠিকানা যাচাই: স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা প্রমাণের জন্য হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ বা বিদ্যুৎ বিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
-
আবেদন প্রক্রিয়া: সকল কাগজপত্র সংগ্রহের পর bdris.gov.bd পোর্টালে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন শেষে ফর্মটি প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
সঠিক সময়ে জন্ম নিবন্ধন করা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি শিশুর শিক্ষা, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তির প্রধান চাবিকাঠি। তাই দেরি না করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে আজই নিবন্ধনের উদ্যোগ নিন।

