স্বর্ণের দাম ২০২৬

দেশের বাজারে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম; ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা

দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হ্রাস পেলো মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম কমার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন নির্ধারিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা

শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এদিন সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।

ক্যারেট অনুযায়ী স্বর্ণের নতুন মূল্যতালিকা

বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের নতুন দাম (প্রতি ভরি বা ১১.৬৬৪ গ্রাম) নিচে দেওয়া হলো:

  • ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,৩৮,১২১ টাকা (পূর্বমূল্য: ২,৪২,৪৯৫ টাকা)

  • ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,২৭,৩৩১ টাকা (পূর্বমূল্য: ২,৩১,৪৭২ টাকা)

  • ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১,৯৪,৮৪৭ টাকা (পূর্বমূল্য: ১,৯৮,৪০৫ টাকা)

  • সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১,৫৮,৬৮৯ টাকা (পূর্বমূল্য: ১,৬১,৬০৫ টাকা)

বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাজুস নির্ধারিত এই মূল্যের সাথে ক্রেতাদের বাধ্যতামূলকভাবে সরকারের ৫% ভ্যাট এবং ন্যূনতম ৬% মজুরি যোগ করে অলংকার ক্রয় করতে হবে। জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের অলংকারের নকশাভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

কেন কমলো দাম?

বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে পাকা স্বর্ণ বা তেজাবী স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক বাজার পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় রেখে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ কমিটি এই মূল্য পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাত্র একদিন আগে, অর্থাৎ ১৫ মে-ও ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ২,২১৬ টাকা কমানো হয়েছিল। ফলে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টাকা কমেছে।

চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রৌপ্যের ব্যাপক ওঠানামার কারণে দেশের বাজারেও এর ধারাবাহিক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্বর্ণের পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও কিছুটা কমানো হয়েছে, যেখানে ২২ ক্যারেট রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ৫,৬৫৭ টাকা।

স্বর্ণের এই ধারাবাহিক দাম কমে যাওয়াতে স্থানীয় জুয়েলারি বাজারে সাধারণ ক্রেতা ও অলংকার প্রেমীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *