নবম জাতীয় পে-স্কেলে চিকিৎসা ভাতায় বড় সুখবর, সর্বনিম্ন ৪ হাজার টাকা; বয়সভেদে পেনশনভোগীদের জন্য ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার প্রস্তাব
বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী কর্মচারীদের জন্য চিকিৎসা ভাতার ন্যূনতম হার ৪,০০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি পেনশনভোগীদের জন্য বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতার পরিমাণও বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীরা মাসিক ৫,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেতে পারেন। ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের জন্য এই ভাতা মাসিক ৮,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ১০,০০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির এই প্রস্তাব সরকারি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্তদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে প্রবীণ পেনশনভোগীরা স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপে থাকেন, ফলে তাদের জন্য বাড়তি চিকিৎসা ভাতা বাস্তবসম্মত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে নবম জাতীয় পে-স্কেলে ন্যূনতম মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধি করার প্রস্তাব রয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে এবং আগামী অর্থবছর থেকেই এর বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে এখন প্রত্যাশা, দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ করা হবে। বিশেষ করে চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি ও বেতন কাঠামোর উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে লাখো পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

