২৭তম বিসিএসের প্রথম পর্যায়ে সুপারিশপ্রাপ্তদের চাকরিকাল, বেতন ও পদমর্যাদা নির্ধারণে অর্থ বিভাগের স্পষ্টীকরণ
২৭তম বিসিএস পরীক্ষা-২০০৫-এর প্রথম পর্যায়ে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ নতুন করে একটি স্পষ্টীকরণ জারি করেছে। এতে চাকরিতে যোগদান কার্যকরের তারিখ, চাকরিকাল গণনা, বেতন সংরক্ষণ, জ্যেষ্ঠতা এবং পদমর্যাদা নির্ধারণের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-২ অধিশাখা থেকে ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা এ স্মারকে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের প্রজ্ঞাপনের আলোকে ২৭তম বিসিএসের প্রথম ধাপের ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক সুবিধা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অস্পষ্টতা দূর করতেই এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
যোগদান কার্যকরের তারিখ নির্ধারণে নতুন নির্দেশনা
স্মারকে উল্লেখ করা হয়, ২৭তম বিসিএসের প্রথম ধাপের ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রকৃত যোগদানের তারিখ ছিল ১ জানুয়ারি ২০২৬। তবে আদালতের নির্দেশনা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিভিন্ন সময়ে যোগদান সংক্রান্ত পরিস্থিতির কারণে এ বিষয়ে নতুন করে একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দেয়।
এ অবস্থায় অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, প্রথম ধাপের ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যোগদান কার্যকরের তারিখ দ্বিতীয় ধাপে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদানের জন্য নির্ধারিত সর্বশেষ সময়সীমার শেষ দিন অর্থাৎ ৩০ নভেম্বর ২০০৮ অথবা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্ধারিত অন্য কোনো তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
চাকরিকাল গণনা ও বেতন সংরক্ষণে সুবিধা
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যারা ১০ নভেম্বর ২০০৮-এর পূর্বে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বেতন সংরক্ষণের আবেদনসহ প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছেন, তারা বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী বেতন সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি তাদের পূর্ববর্তী চাকরিকালও গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ১০ নভেম্বর ২০০৮-এর পূর্বে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত এবং পরবর্তীতে বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী চাকরি স্থায়ী বা নিয়মিত হলে চাকরিকাল গণনায় তা বিবেচিত হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চাকরির ধারাবাহিকতা ও পেনশন সুবিধার ক্ষেত্রে উপকৃত হবেন।
তবে নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণির নিয়মিত পদে কর্মরত ছিলেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চাকরিকাল শুধুমাত্র পেনশন গণনার উদ্দেশ্যে বিবেচিত হবে; বেতন সংরক্ষণের সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
পূর্ববর্তী সময়ের আর্থিক সুবিধা মিলবে না
অর্থ বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, উল্লিখিত তিনটি শ্রেণির কোনো কর্মকর্তাই ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর পূর্ববর্তী সময়ের জন্য কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা দাবি করতে পারবেন না। অর্থাৎ চাকরিকাল গণনা বা বেতন নির্ধারণে সুবিধা পেলেও অতীত সময়ের বকেয়া বেতন বা আর্থিক প্রাপ্যতা সৃষ্টি হবে না।
বেতন নির্ধারণের বিস্তারিত পদ্ধতি
স্মারকে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
প্রথম ধাপের ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য—
- ৩০ জুন ২০০৯ পর্যন্ত জাতীয় বেতনস্কেল ২০০৫,
- ১ জুলাই ২০০৯ থেকে ৩০ জুন ২০১৫ পর্যন্ত জাতীয় বেতনস্কেল ২০০৯,
- এবং ১ জুলাই ২০১৫ থেকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫
অনুযায়ী বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট গণনা করে বেতন নির্ধারণ করা যাবে।
এছাড়া ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর যোগদানের পরিবর্তে ৩০ নভেম্বর ২০০৮ বা নির্ধারিত অন্য কোনো তারিখকে যোগদান কার্যকরের তারিখ হিসেবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নবম গ্রেডের মূল বেতন নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে এ ইনক্রিমেন্ট গণনা কেবল মূল বেতন নির্ধারণের জন্য বিবেচিত হবে। অতীত সময়ের কোনো বেতন, ভাতা বা আর্থিক সুবিধা এ কারণে প্রদান করা হবে না।
জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতা সংরক্ষণ
অর্থ বিভাগের ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো কর্মকর্তা পূর্ববর্তী ক্যাডারভিত্তিক চাকরিতে স্থায়ী হওয়ার সব শর্ত পূরণ করে থাকেন এবং সেখান থেকে একই ক্যাডারে ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে যোগদান করে থাকেন, তাহলে তার অর্জিত যোগ্যতা সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
এতে পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ, সিনিয়রিটি ও ক্যাডারভিত্তিক অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।
পদমর্যাদা নির্ধারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত
স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, পদমর্যাদা সংক্রান্ত বিষয়ে বিদ্যমান সরকারি বিধি-বিধান অনুসারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অর্থাৎ সিনিয়রিটি, ব্যাচভিত্তিক অবস্থান এবং পদমর্যাদার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারেই থাকবে।
দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনের পথ খুলল
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ২৭তম বিসিএসের প্রথম ধাপে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ, চাকরিকাল, বেতন নির্ধারণ এবং জ্যেষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতা ছিল, অর্থ বিভাগের এ স্পষ্টীকরণ তার অনেকটাই দূর করবে।
বিশেষ করে চাকরিকাল গণনা, বেতন সংরক্ষণ এবং পেনশন সুবিধা বিষয়ে নতুন নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে পূর্ববর্তী সময়ের কোনো আর্থিক সুবিধা বা বকেয়া প্রাপ্যতা না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

