ভুল নম্বরে বিকাশে টাকা পাঠিয়েছেন? দ্রুত যা করবেন, জানুন টাকা ফেরত পাওয়ার উপায়
বর্তমানে দেশের কোটি কোটি মানুষ দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করছেন। টাকা পাঠানো, মোবাইল রিচার্জ, বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধ কিংবা অনলাইন কেনাকাটা—সবকিছুই এখন মুহূর্তেই সম্পন্ন হচ্ছে বিকাশসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে।
তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই সুবিধার পাশাপাশি একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাও প্রায়ই দেখা যায়—ভুল নম্বরে টাকা পাঠানো। তাড়াহুড়া, অসাবধানতা কিংবা নম্বর ভুল টাইপ করার কারণে অনেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এমন অবস্থায় কী করতে হবে, তা না জানার কারণে অনেক গ্রাহক দুশ্চিন্তায় পড়ে যান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুল নম্বরে টাকা চলে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। কারণ, প্রাপক টাকা উত্তোলন বা অন্যত্র স্থানান্তর করার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারলে টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
নম্বরে বিকাশ অ্যাকাউন্ট না থাকলে করণীয়
যে মোবাইল নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছে সেটিতে যদি কোনো বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা না থাকে, তাহলে টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।
এ ক্ষেত্রে বিকাশ অ্যাপে প্রবেশ করে ‘সেন্ড মানি’ অপশনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের পাশে ‘ক্যানসেল’ অপশন দেখা গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেটিতে ক্লিক করলেই টাকা ফেরত নেওয়া সম্ভব।
অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাতিল করা না হলেও, যদি নম্বরটিতে বিকাশ অ্যাকাউন্ট না থাকে, তাহলে লেনদেনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে টাকা প্রেরকের অ্যাকাউন্টে ফিরে আসে।
নম্বরে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকলে কী করবেন?
যদি ভুলবশত এমন একটি নম্বরে টাকা পাঠানো হয় যেখানে আগে থেকেই বিকাশ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে, তাহলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রথমেই নিকটস্থ থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। জিডিতে অবশ্যই নিম্নোক্ত তথ্যগুলো উল্লেখ করতে হবে—
- ট্রানজেকশন আইডি
- লেনদেনের তারিখ
- লেনদেনের সময়
- টাকার পরিমাণ
- ভুল নম্বরের তথ্য
এরপর বিকাশের কাস্টমার কেয়ার হেল্পলাইন ১৬২৪৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে অথবা বিকাশের লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে।
প্রয়োজনে জিডির কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে।
প্রাপককে ফোন করা কি নিরাপদ?
ভুল নম্বরে টাকা পাঠানোর পর অনেকেই প্রথমেই প্রাপককে ফোন করে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সবসময় নিরাপদ নয়।
কারণ, প্রাপক বিষয়টি জেনে গেলে তিনি দ্রুত টাকা উত্তোলন করে ফেলতে পারেন অথবা অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে পারেন। এতে টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে যেতে পারে।
তাই প্রথমে বিকাশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করাই অধিক নিরাপদ ও কার্যকর পদক্ষেপ।
কীভাবে টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব?
বিকাশের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি কোনো গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে একতরফাভাবে টাকা কেটে অন্য গ্রাহককে ফেরত দিতে পারে না।
ফলে টাকা ফেরত পেতে সাধারণত প্রাপকের সম্মতি প্রয়োজন হয়।
যদি প্রাপক ভুল লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করে টাকা ফেরত দিতে সম্মত হন, তাহলে বিকাশের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব।
অন্যদিকে, প্রাপক যদি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে হতে পারে।
ভুল লেনদেন এড়াতে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
ভুল নম্বরে টাকা পাঠানোর ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই অনুসরণ করা উচিত—
- টাকা পাঠানোর আগে মোবাইল নম্বর অন্তত দুই থেকে তিনবার মিলিয়ে নিন।
- প্রাপকের নাম সঠিকভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে কি না নিশ্চিত করুন।
- নিশ্চিত হওয়ার পরই পিন নম্বর ব্যবহার করে লেনদেন সম্পন্ন করুন।
- বড় অঙ্কের টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং প্রয়োজন হলে প্রথমে অল্প পরিমাণ অর্থ পাঠিয়ে নম্বর যাচাই করুন।
দ্রুত পদক্ষেপই সবচেয়ে কার্যকর
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ভুল লেনদেনের ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে বড় বিষয়। যত দ্রুত অভিযোগ জানানো এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে, টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি থাকবে।
তাই ভুল নম্বরে টাকা পাঠানোর পর আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন। সচেতনতা, সতর্কতা এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণই এ ধরনের পরিস্থিতিতে অর্থ উদ্ধারের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

