মাসিক মুনাফা সঞ্চয় স্কিমে কোন ব্যাংক কত দিচ্ছে? ১ লাখ টাকা বিনিয়োগে মাসিক আয় ৬৬৭ থেকে ৮৭৫ টাকা
এককালীন একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে প্রতি মাসে নিয়মিত মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকায় দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের মাসিক মুনাফা সঞ্চয় স্কিম দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, গৃহিণী, প্রবাসী পরিবারের সদস্য এবং যাদের নিয়মিত মাসিক আয়ের একটি বিকল্প উৎস প্রয়োজন—তাদের কাছে এ ধরনের স্কিম বেশ আকর্ষণীয়।
সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংকের প্রচলিত মাসিক মুনাফা সঞ্চয় স্কিমের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে ব্যাংকভেদে প্রতি মাসে প্রায় ৬৬৭ টাকা থেকে ৮৭৫ টাকা পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যেতে পারে। তবে মুনাফার হার, বিনিয়োগের মেয়াদ, ন্যূনতম বিনিয়োগ এবং অন্যান্য শর্ত ব্যাংকভেদে ভিন্ন হওয়ায় বিনিয়োগের আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা জরুরি।
বিভিন্ন ব্যাংকের মাসিক মুনাফা স্কিম
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী—
| ব্যাংক | স্কিম | মুনাফার হার ও মেয়াদ | ১ লাখ টাকায় মাসিক মুনাফা* |
|---|---|---|---|
| সোনালী ব্যাংক | সোনালী মাসিক মুনাফা সঞ্চয় প্রকল্প | ৮.২৫% (৩ বছর) | প্রায় ৬৮৭ টাকা |
| জনতা ব্যাংক | আমার সঞ্চয়, আমার মুনাফা | ৯.৭৫% (৩ বছর), ১০% (৫ বছর) | প্রায় ৮১৩–৮৩৩ টাকা |
| রূপালী ব্যাংক | রূপালী শ্রদ্ধা | ১০.৫০% (৩ বছর) | প্রায় ৮৭৫ টাকা |
| অগ্রণী ব্যাংক | মাসিক মুনাফা সঞ্চয় প্রকল্প | ৮% (৩ বছর) | প্রায় ৬৬৭ টাকা |
| বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক | বিবিধ মাসিক মুনাফা প্রকল্প | ৯% (৬ বছর) | প্রায় ৭৫০ টাকা |
| বেসিক ব্যাংক | গেইনার মাসিক স্কিম | ৯.৭৫% (১ বছর) | হার ৯.৭৫% |
| বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) | মাসিক মুনাফা স্কিম | ৯% (৩ বছর), ১০% (৫ বছর) | প্রায় ৭৫০–৮৩৩ টাকা |
| রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক | মাসিক মুনাফা প্রকল্প | ৯% (৩ বছর) | প্রায় ৭৫০ টাকা |
*ছবিতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী আনুমানিক হিসাব।
কোন ব্যাংক তুলনামূলক বেশি মুনাফা দিচ্ছে?
উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, রূপালী ব্যাংকের ১০.৫০ শতাংশ হারে পরিচালিত স্কিমে ১ লাখ টাকায় মাসিক প্রায় ৮৭৫ টাকা মুনাফা পাওয়া যেতে পারে, যা তালিকাভুক্ত স্কিমগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে জনতা ব্যাংক এবং বিডিবিএল পাঁচ বছরের মেয়াদে ১০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফার সুযোগ দিচ্ছে, যেখানে মাসিক আয় প্রায় ৮৩৩ টাকা হতে পারে।
সবচেয়ে কম মাসিক মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে অগ্রণী ব্যাংকের ৮ শতাংশ হারের স্কিমে, যেখানে ১ লাখ টাকায় মাসিক প্রায় ৬৬৭ টাকা পাওয়া যেতে পারে।
বিনিয়োগের আগে যেসব বিষয় অবশ্যই বিবেচনা করবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র বেশি মুনাফার হার দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বরং নিচের বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন—
- মুনাফার হার সময়ে সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
- উৎসে কর (Tax) ও আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হতে পারে।
- প্রতিটি স্কিমে ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ বিনিয়োগের সীমা আলাদা।
- আগাম ভাঙলে ঘোষিত মুনাফা নাও পাওয়া যেতে পারে।
- ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, গ্রাহকসেবা ও ডিজিটাল সেবার মানও বিবেচনায় রাখা উচিত।
- বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ সার্কুলার বা শাখা থেকে বর্তমান হার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কোন ব্যাংক বেছে নেওয়া যুক্তিযুক্ত?
শুধু সর্বোচ্চ মুনাফাই সব সময় সেরা সিদ্ধান্ত নয়। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা, সেবার মান, অনলাইন সুবিধা, সহজে মুনাফা উত্তোলনের সুযোগ এবং গ্রাহকসেবাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
যারা নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেন তারা সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর স্কিম বিবেচনা করতে পারেন। আবার যাদের লক্ষ্য তুলনামূলক বেশি মাসিক আয়, তারা উচ্চ মুনাফার হার দেওয়া স্কিমগুলোর বর্তমান শর্ত যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
সতর্কতা
উল্লেখিত তথ্য বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত এবং এটি একটি তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ। ব্যাংকের নীতিমালা, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা কিংবা বাজার পরিস্থিতির কারণে মুনাফার হার পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য, শর্তাবলী ও বর্তমান রেট জেনে নেওয়াই হবে সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

