সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে চালু হলো ‘আমার প্রোফাইল’ ও অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সেবা: জেনে নিন বিস্তারিত নিয়মাবলী
ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও জনবান্ধব করতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এনেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল (SKH)। হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ ও প্রদানের সার্বিক সিস্টেম আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চলমান ‘Health Services Management System (HSMS)’ প্রকল্পের আওতায় রোগীদের জন্য চালু করা হয়েছে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক ফিচার “My Profile” বা “আমার প্রোফাইল” এবং অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট (Online Appointment) ব্যবস্থা।
এখন থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ রোগীরা ঘরে বসেই হাসপাতালের যাবতীয় তথ্য, প্রেসক্রিপশন ও পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেই ডাক্তারের সিরিয়াল বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে পারবেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নতুন এই ডিজিটাল সেবাটি ব্যবহারের বিস্তারিত নিয়ম ও সুবিধাসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ‘User ID’ এবং পাসওয়ার্ড (Password) গ্রহণের ধাপসমূহ:
নতুন এই সিস্টেমে প্রবেশ করার জন্য রোগীদের প্রথমে একটি অ্যাকাউন্ট বা প্রোফাইল সচল করতে হবে। এর ধাপগুলো হলো:
-
ধাপ-১: প্রথমে হাসপাতালের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অথবা সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট পোর্টালের এই লিংকে প্রবেশ করতে হবে: https://appointment.skh.gov.bd/
-
ধাপ-২: ইউজার আইডি (User ID) হিসেবে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে পূর্বে ব্যবহৃত নিজের সঠিক মোবাইল নম্বরটি দিতে হবে এবং নিচে থাকা ‘No Password’ অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে।
-
ধাপ-৩: এরপর আপনার নিবন্ধিত ওই মোবাইল নম্বরে একটি ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি (OTP) কোড যাবে। কোডটি নির্দিষ্ট স্থানে সঠিকভাবে ইনপুট দিতে হবে।
-
ধাপ-৪: ওটিপি ভেরিফিকেশনের পর নিজের পছন্দমতো কমপক্ষে ৮ ডিজিটের (অক্ষর বা সংখ্যা মিলিয়ে) একটি নতুন পাসওয়ার্ড সেট বা তৈরি করে নিতে হবে।
-
ধাপ-৫: পাসওয়ার্ড সেট হয়ে গেলে পরবর্তীতে নিজের মোবাইল নম্বর (User ID) এবং নিজস্ব পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সহজেই লগইন করা যাবে এবং অ্যাকাউন্টের ড্যাশবোর্ডে বিভিন্ন আইকন দেখা যাবে।
২. অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট (Online Appointment) গ্রহণের নিয়ম:
সফলভাবে লগইন করার পর রোগীরা নিচের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন:
-
ধাপ-১: ড্যাশবোর্ড থেকে ‘অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ আইকনে ক্লিক করতে হবে। এরপর ড্রপ ডাউন মেনু থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ (Department) অথবা প্রধান সমস্যা (Chief Complaint) সিলেক্ট করে কাঙ্ক্ষিত বিভাগ নির্বাচন করতে হবে।
-
ধাপ-২: ক্যালেন্ডার থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্টের কাঙ্ক্ষিত তারিখ নির্বাচন করতে হবে। যদি ঐ তারিখে কোনো স্লট খালি না থাকে, তবে অন্য কোনো তারিখ এবং নিজের সুবিধাজনক সময় (Time Slot) বেছে নিতে হবে।
-
ধাপ-৩: নির্বাচিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ ও সময়টি পুনরায় ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে। প্রয়োজনে সংশোধন করে ফি পরিশোধের (Payment) জন্য পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হতে হবে।
-
ধাপ-৪: নিজের সুবিধাজনক ডিজিটাল মাধ্যম (যেমন—বিকাশ, রকেট, নগদ বা কার্ড) ব্যবহার করে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফি সম্পন্ন করতে হবে।
-
ধাপ-৫: পেমেন্ট সফল হলে একটি ডিজিটাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট টিকিট (Appointment Ticket) জেনারেট হবে। সেটি ডাউনলোড করে নিতে হবে অথবা মোবাইলে স্ক্রিনশট দিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। উল্লেখ্য, হাসপাতালে এই টিকিটটি প্রিন্ট করে নিয়ে আসা বাধ্যতামূলক নয়।
‘আমার প্রোফাইল’ ও অনলাইন সেবার মূল সুবিধাসমূহ:
নতুন এই প্রযুক্তিগত আপগ্রেডের ফলে রোগীরা বেশ কিছু অনন্য সুবিধা ভোগ করতে পারবেন:
১. ফ্রি রিশিডিউল সুবিধা: বুকিং করার পর কোনো কারণে সময় পরিবর্তন করতে হলে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রকার অতিরিক্ত ফি ছাড়াই অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পরিবর্তন (Reschedule) করা যাবে।
২. সহজে বাতিলকরণ: প্রয়োজনে যেকোনো সময় অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টটি সম্পূর্ণ বাতিল (Cancel) করার সুযোগ রয়েছে।
৩. টিকিট কাটার ভোগান্তি দূর: সেবাটি চালু হওয়ার ফলে রোগীদের কাকডাকা ভোরে বা দীর্ঘ সময় হাসপাতালে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার কোনো প্রয়োজন হবে না।
৪. ডিজিটাল মেডিকেল রেকর্ড (Patient Profile): এই সিস্টেমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—একবার প্রোফাইল তৈরি হয়ে গেলে রোগী যেকোনো সময় তার ওয়ান-স্টপ ড্যাশবোর্ড থেকে পূর্বের প্রেসক্রিপশন, ল্যাব রিপোর্ট, কার্ডিওলজি রিপোর্ট এবং রেডিওলজি রিপোর্টসহ যাবতীয় তথ্য দেখতে ও সংগ্রহ করতে পারবেন। এর জন্য পরবর্তীতে বারবার কোনো আলাদা ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হবে না।
সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের এই সময়োপযোগী ও আধুনিক পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি ও সময় সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা প্রদান প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

