একাধিক জিপিএফ অগ্রিম একসঙ্গে চলবে? নতুন আবেদন কবে করা যাবে—সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বাড়ছে আলোচনা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) থেকে অগ্রিম উত্তোলন বা ‘জিপিএফ লোন’ সংক্রান্ত নিয়ম নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অনেকের প্রশ্ন—একবার জিপিএফ অগ্রিম নেওয়ার পর আবার কতদিন পরে নতুন করে আবেদন করা যায়? প্রথম অগ্রিমের কিস্তি চলমান থাকা অবস্থায় কি দ্বিতীয় বা তৃতীয় অগ্রিম নেওয়ার সুযোগ রয়েছে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন সরকারি কর্মচারীরা। কেউ বলছেন, প্রথম অগ্রিম নেওয়ার এক বছর পর আবার আবেদন করা যায়। আবার কেউ জানিয়েছেন, মানবিক বিবেচনায় একসঙ্গে তিনটি পর্যন্ত জিপিএফ অগ্রিম মঞ্জুর হওয়ার নজিরও রয়েছে।
কী বলছেন সরকারি কর্মচারীরা?
আলোচনায় অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মচারীর অভিমত অনুযায়ী—
- প্রথম জিপিএফ অগ্রিম চলমান থাকলেও প্রয়োজন হলে নতুন করে আবেদন করা যায়।
- অনেকের মতে, প্রথম অগ্রিম গ্রহণের প্রায় এক বছর পর দ্বিতীয় অগ্রিমের আবেদন করার সুযোগ থাকে।
- একাধিক অগ্রিম একসঙ্গে চললেও মাসিক কিস্তির মোট পরিমাণ মূল বেতনের সীমা অতিক্রম না করাই গুরুত্বপূর্ণ।
- বিশেষ বা মানবিক পরিস্থিতিতে একসঙ্গে তিনটি জিপিএফ অগ্রিম অনুমোদনের ঘটনাও রয়েছে বলে অনেকে দাবি করেছেন।
প্রচলিত বিধান কী বলছে?
জিপিএফ সংক্রান্ত প্রচলিত নির্দেশনা অনুযায়ী, জিপিএফ থেকে অগ্রিম উত্তোলনের জন্য নির্ধারিত আবেদনপত্রের মাধ্যমে আবেদন করতে হয় এবং অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ তা মঞ্জুর করেন। অগ্রিমের অর্থ নির্ধারিত মাসিক কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। বিভিন্ন দপ্তরের ব্যাখ্যা ও প্রচলিত নির্দেশনায় একাধিক অগ্রিমের সুযোগ এবং নির্দিষ্ট শর্তে পরবর্তী অগ্রিম গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
একসঙ্গে একাধিক অগ্রিম নেওয়া যায়?
সার্ভিস রুলস বিষয়ক বিভিন্ন সরকারি ব্যাখ্যা ও প্রশাসনিক নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একজন কর্মচারীর একাধিক জিপিএফ অগ্রিম চলমান থাকতে পারে। তবে প্রতিটি আবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল এবং কিস্তি কর্তনের সক্ষমতা বিবেচনা করা হয়।
বিভ্রান্তি দূর করতে কী করা উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিপিএফ অগ্রিম গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে নিজ দপ্তরের হিসাব শাখা, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় (CAFO) অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করাই উচিত। কারণ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক অনুমোদন, চলমান অগ্রিমের সংখ্যা, কিস্তির পরিমাণ এবং প্রযোজ্য বিধির ভিত্তিতেই আবেদন মঞ্জুর বা বাতিল হতে পারে।

