Pay Fixation ফিক্সেশন

iBAS++-এ পে ফিক্সেশন সিস্টেম প্রস্তুত, আগামীকাল থেকে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু

নবম জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬ বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অনলাইন পে ফিক্সেশন এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণের জন্য iBAS++-এর Pay Fixation ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রদত্ত স্ক্রিনশটেও পে ফিক্সেশন–২০২৬-এর জন্য আলাদা লগইন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন নির্ধারণ, চলমান সরকারি কর্মচারীদের পে ফিক্সেশন এবং টিউটোরিয়ালসহ একাধিক অপশন দেখা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বর্তমান প্রস্তুতি অনুযায়ী, আগামীকাল ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে পে ফিক্সেশন ব্যবস্থার পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পাইলটিং শুরু হওয়া এবং একই দিনে দেশের সব সরকারি কর্মচারীর পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। প্রথম পর্যায়ে সিস্টেমের কার্যকারিতা, তথ্যের সঠিকতা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যাচাই প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা হবে।

এদিকে iBAS++-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অনলাইন বেতন নির্ধারণের লগইন ব্যবস্থা ইতোমধ্যে দৃশ্যমান রয়েছে। সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে প্রবেশ এবং পরবর্তী ধাপে OTP যাচাইয়ের ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে।

পে ফিক্সেশনের জন্য প্রস্তুত iBAS++

নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের পর সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক কাজগুলোর একটি হচ্ছে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগতভাবে নতুন মূল বেতন নির্ধারণ।

এ জন্য iBAS++-এ পে ফিক্সেশন সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, সিস্টেমে—

  • Pay Fixation-2026 Tutorial
  • Pay Fixation-2026 GoB Staff – Running (Without User ID)
  • Pay Fixation-2026 New Recruitment (All Grades)
  • Username/Login ID
  • Password
  • CAPTCHA
  • Login

ইত্যাদি অপশন যুক্ত করা হয়েছে।

অন্য একটি লগইন স্ক্রিনে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর ও CAPTCHA দিয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ধরন অনুযায়ী পে ফিক্সেশন ব্যবস্থায় পৃথক প্রবেশপথ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আগামীকাল ১ অক্টোবর থেকে কী হবে?

পে ফিক্সেশন নিয়ে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু।

এই পাইলটিংকে মূলত পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন সফটওয়্যারে বাস্তব কর্মচারীর তথ্য নিয়ে পে ফিক্সেশন করা, তথ্য যাচাই, DDO পর্যায়ের কার্যক্রম এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন—পুরো প্রক্রিয়াটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

তাই ১ অক্টোবর থেকে পাইলটিং শুরু হলেও সেদিনই প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নতুন বেতন চূড়ান্ত হয়ে যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

বরং পাইলটিংয়ের ফলাফল, কারিগরি সমস্যা এবং সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে পরবর্তী পর্যায়ে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হতে পারে।

সরকারি নির্দেশনায় অনলাইন পে ফিক্সেশনের পূর্ণ প্রক্রিয়া

নবম জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬-এর প্রজ্ঞাপনে অনলাইনে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের iBAS++-এ লগইন করে Pay Fixation অপশনে গিয়ে নির্ধারিত ছক পূরণ করতে হবে। আগের Pay Fixation ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশ করলেও iBAS++-এর Pay Fixation অপশনে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

গেজেটেড কর্মকর্তাদের প্রবেশ

গেজেটেড সরকারি কর্মচারীরা iBAS++-এর User ID ও Password ব্যবহার করে সিস্টেমে প্রবেশ করবেন।

নন-গেজেটেড কর্মচারীদের প্রবেশ

নন-গেজেটেড সরকারি কর্মচারীদের জন্য NID নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এরপর iBAS++-এ নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে পাঠানো OTP দিয়ে পরিচয় যাচাই করতে হবে। বিদেশে অবস্থানরতদের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত ই-মেইলে OTP পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

তথ্য পূরণ করলেই নতুন বেতন দেখা যাবে

পে ফিক্সেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হচ্ছে, কর্মচারী নির্ধারিত ছকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর সাবমিট করার আগেই নতুন বেতন স্কেলে নির্ধারণযোগ্য মূল বেতনের পরিমাণ সিস্টেমে প্রদর্শিত হবে।

অর্থাৎ কর্মচারী নিজের তথ্য পূরণ করার পর সিস্টেমে তার জন্য নির্ধারিত নতুন Basic Pay কত হচ্ছে, তা দেখতে পারবেন। এরপর তথ্য যাচাই করে DDO বরাবর সাবমিট করতে পারবেন।

তবে এখানেই প্রক্রিয়া শেষ হবে না।

পে ফিক্সেশনের পর থাকবে DDO যাচাই

কর্মচারী অনলাইনে পে ফিক্সেশনের তথ্য সাবমিট করার পর সেটি সংশ্লিষ্ট Drawing and Disbursing Officer বা DDO-এর কাছে যাবে।

তথ্য সাবমিট হলে কর্মচারীর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে SMS যাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

গেজেটেড কর্মকর্তার ক্ষেত্রে DDO বেতন নির্ধারণী বিবরণী সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে ফরওয়ার্ড করবেন।

অন্যদিকে নন-গেজেটেড কর্মচারীর ক্ষেত্রে সার্ভিস বহিতে থাকা আগের চাকরি ও বেতনের তথ্যের সঙ্গে অনলাইন ফরমের তথ্য মিলিয়ে দেখার দায়িত্বও DDO পর্যায়ে থাকবে।

এরপর হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন

DDO পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার পর বেতন নির্ধারণী বিবরণী সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে যাবে।

হিসাবরক্ষণ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনলাইনে তথ্য যাচাই করবেন। তথ্য সঠিক হলে অনলাইনেই তা অনুমোদন বা প্রতিপাদন করা হবে।

এরপর সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি Verification Number তৈরি হবে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে—হিসাবরক্ষণ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বেতন নির্ধারণী বিবরণীতে আলাদা করে ম্যানুয়াল স্বাক্ষর করার প্রয়োজন হবে না। তবে সার্ভিস বহিতে Verification Number এবং নির্ধারিত বেতন লিপিবদ্ধ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্বাক্ষর করবেন।

পে ফিক্সেশনের পুরো প্রক্রিয়াটি এক নজরে

নতুন ব্যবস্থাটিকে সহজভাবে এভাবে বোঝা যায়—

১. iBAS++-এ প্রবেশ
↓
২. Pay Fixation-2026 নির্বাচন
↓
৩. ব্যক্তিগত ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্য পূরণ
↓
৪. নতুন নির্ধারণযোগ্য Basic Pay দেখা
↓
৫. তথ্য যাচাই করে DDO বরাবর Submit
↓
৬. DDO কর্তৃক তথ্য যাচাই
↓
৭. হিসাবরক্ষণ অফিসে Forward
↓
৮. হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক অনলাইন যাচাই
↓
৯. অনুমোদন
↓
১০. Verification Number তৈরি
↓
১১. সার্ভিস বহিতে নতুন বেতন ও Verification Number লিপিবদ্ধ
↓
১২. অনুমোদিত বেতন নির্ধারণের ভিত্তিতে বেতন পরিশোধ

কর্মচারীদের কোন তথ্যগুলো আগে প্রস্তুত রাখা উচিত?

পাইলটিং এবং পরবর্তী পর্যায়ে পে ফিক্সেশন করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে চাকরির তথ্যের নির্ভুলতা।

কর্মচারীদের বিশেষ করে নিচের তথ্যগুলো আগে থেকেই যাচাই করে রাখা উচিত—

  • জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
  • NID অনুযায়ী জন্মতারিখ
  • iBAS++-এ নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর
  • ই-মেইল ঠিকানা
  • বর্তমান পদবি
  • বর্তমান গ্রেড
  • ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কার্যকর মূল বেতন
  • সর্বশেষ ইনক্রিমেন্টের তথ্য
  • যোগদানের তারিখ
  • নিয়োগের তথ্য
  • পদোন্নতির তথ্য
  • উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট তথ্য
  • পূর্ববর্তী Pay Fixation
  • সার্ভিস বহির তথ্য

কারণ পে ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দিলে পরবর্তী যাচাইয়ের সময় তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা নিয়েও প্রকাশিত প্রতিবেদনে কর্মচারীদের তথ্য পূরণের সময় সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

NID ও জন্মতারিখের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা

নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে NID-ভিত্তিক প্রবেশ ব্যবস্থা থাকায় NID-এর তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারীর NID না থাকলে বেতন নির্ধারণের আগে NID-এর জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। আবার NID-তে থাকা জন্মতারিখের সঙ্গে চাকরির রেকর্ডে থাকা জন্মতারিখের পার্থক্য থাকলে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।

অর্থাৎ পে ফিক্সেশন শুরুর পর NID ও জন্মতারিখ নিয়ে সমস্যা হলে প্রক্রিয়াটি আটকে যেতে পারে।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা

প্রদত্ত iBAS++ স্ক্রিনশটে “Pay Fixation-2026 New Recruitment (All Grades)” নামে পৃথক অপশন দেখা যাচ্ছে।

এছাড়া iBAS++-এর বর্তমান অনলাইন ফর্মে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য হিসাবরক্ষণ কার্যালয়, NID, নাম, জন্মতারিখ, মোবাইল, ই-মেইল, নিয়োগ আদেশ নম্বর, নিয়োগের তারিখ, নিয়োগপত্রের কপি, যোগদানের তারিখ, ক্যাডার, পদবি এবং যোগদানের সময়কার গ্রেড/বেতনস্কেলসহ বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হচ্ছে।

এতে বোঝা যায়, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন নির্ধারণের জন্যও iBAS++-এ পৃথক ডাটা-এন্ট্রি কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

পে ফিক্সেশন শুধু একটি লগইন পেজ চালু করলেই সম্পন্ন হবে না। প্রত্যেক দপ্তরের কর্মচারী, পদ, গ্রেড এবং সাংগঠনিক কাঠামোর তথ্য সিস্টেমে সঠিকভাবে থাকা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জনবল তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার খবরও এসেছে। এর উদ্দেশ্য iBAS++ Pay Fixation Sub-system-এ প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা।

এ কারণে পাইলটিংয়ের আগে তথ্য প্রস্তুতকরণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন বেতন কবে হাতে পাওয়া যাবে?

এখানে কর্মচারীদের একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখা প্রয়োজন—পে ফিক্সেশন আর বেতন প্রদান একই বিষয় নয়।

প্রথমে নতুন বেতন নির্ধারণ করতে হবে। এরপর DDO ও হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই ও অনুমোদন শেষ হবে। চূড়ান্তভাবে প্রতিপাদিত বেতন নির্ধারণী বিবরণের ভিত্তিতে বেতন পরিশোধ করা হবে। কম বা বেশি বেতন পরিশোধ হয়ে থাকলে পরবর্তীতে তা সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।

সুতরাং পাইলটিং শুরু হওয়া মানেই পরদিন থেকেই সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন স্কেলের পূর্ণ বেতন পেয়ে যাবেন—এমনটি বলা যাচ্ছে না।

পাইলটিং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আগামীকাল থেকে পাইলটিং শুরু হলে এর মাধ্যমে বাস্তব ব্যবহারে বেশ কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

প্রথমত, বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী একসঙ্গে প্রবেশ করলে সার্ভারের সক্ষমতা কেমন থাকে।

দ্বিতীয়ত, কর্মচারীর পূর্ববর্তী বেতন ও চাকরির তথ্য থেকে নতুন Basic Pay সঠিকভাবে গণনা হচ্ছে কি না।

তৃতীয়ত, DDO পর্যায়ে তথ্য যাচাই ও Forward করার প্রক্রিয়া ঠিকমতো কাজ করছে কি না।

চতুর্থত, হিসাবরক্ষণ অফিসের অনলাইন যাচাই ও অনুমোদন ব্যবস্থা কার্যকর আছে কি না।

পঞ্চমত, Verification Number সঠিকভাবে তৈরি হচ্ছে কি না।

ষষ্ঠত, বিভিন্ন ক্যাডার, গ্রেড, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ কারিগরি সমস্যা দেখা দিচ্ছে কি না।

এই কারণেই পাইলটিংকে পরবর্তী বৃহৎ পরিসরের বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এখন সরকারি কর্মচারীদের করণীয়

পে ফিক্সেশন শুরু হওয়ার আগে কর্মচারীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজের চাকরির তথ্য মিলিয়ে দেখা।

বিশেষ করে ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন, সর্বশেষ ইনক্রিমেন্ট, বর্তমান গ্রেড, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের তথ্য সার্ভিস বহির সঙ্গে মিলিয়ে রাখা উচিত।

একই সঙ্গে iBAS++-এ নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর সচল রাখা জরুরি, কারণ OTP ও বিভিন্ন পর্যায়ের স্বয়ংক্রিয় SMS-এর জন্য এই নম্বর ব্যবহৃত হবে।

শেষ কথা

নবম জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬ বাস্তবায়নের পর এখন সবচেয়ে প্রতীক্ষিত পর্যায় হলো iBAS++-এর মাধ্যমে নতুন বেতন নির্ধারণ। প্রদত্ত স্ক্রিনশট এবং iBAS++-এর বর্তমান লাইভ সিস্টেম বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, Pay Fixation-2026-এর জন্য প্রয়োজনীয় লগইন ও বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীর জন্য আলাদা কার্যক্রমের কাঠামো প্রস্তুত রয়েছে। সরকারি iBAS++ সাইটেও অনলাইন বেতন নির্ধারণের লগইন ও OTP যাচাই ব্যবস্থা বর্তমানে দৃশ্যমান।

আগামীকাল ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার তথ্য সঠিক হলে, এটি নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। তবে পাইলটিংকে চূড়ান্তভাবে সবার পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না। বরং এর মাধ্যমে সফটওয়্যার, ডাটা, DDO যাচাই এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন—পুরো ব্যবস্থাটি বাস্তবে পরীক্ষা করে পরবর্তী ধাপে আরও বিস্তৃত করা হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন বেতন নির্ধারণের দায়িত্ব শুধু সফটওয়্যারের ওপর নয়; কর্মচারীর সঠিক তথ্য, DDO-এর যাচাই এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন—তিনটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকারি কর্মচারীদের এখন থেকেই NID, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর, ৩০ জুনের মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি ও সার্ভিস রেকর্ডের তথ্য যাচাই করে প্রস্তুত থাকা উচিত।

এক নজরে:
🔹 ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: iBAS++ Pay Fixation ব্যবস্থার প্রস্তুতি দৃশ্যমান
🔹 ১ অক্টোবর ২০২৬: পাইলটিং কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি
🔹 পরবর্তী ধাপ: তথ্য এন্ট্রি → DDO যাচাই → হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই → অনুমোদন
🔹 অনুমোদনের পর: Verification Number তৈরি
🔹 চূড়ান্ত পর্যায়: অনুমোদিত বেতন নির্ধারণের ভিত্তিতে নতুন বেতন পরিশোধ
🔹 গুরুত্বপূর্ণ: পাইলটিং শুরু হওয়া মানেই সবার পে ফিক্সেশন একই দিনে সম্পন্ন হওয়া নয়।

Source File

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *