সরকারি ভাতা ২০২৬

মডেল মসজিদ পরিচালনায় নতুন নীতিমালা, ইমামের সম্মানী ২০ হাজার টাকা; থাকছে ৫% সঞ্চয় সুবিধা

দেশের মডেল মসজিদগুলোর পরিচালনা, জনবল নিয়োগ, দায়িত্ব বণ্টন, সম্মানী, ছুটি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ধর্মীয় শিক্ষা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নতুন ‘মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়। নীতিমালাটি প্রকাশের পরপরই কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সরকারের চলমান প্রকল্পের আওতায় জেলা ও উপজেলায় ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রকল্প তালিকাতেও এ প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল জুন ২০২৮ পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে।

নতুন নীতিমালায় মডেল মসজিদকে শুধু নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবে নয়, ধর্মীয় শিক্ষা, কুরআন শিক্ষা, শিশু ও বয়স্কদের শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনার জন্য বিস্তারিত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিন স্তরে ব্যবস্থাপনা কমিটি

নতুন ব্যবস্থাপনা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সিটি কর্পোরেশন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন।

সিটি কর্পোরেশন এলাকার মডেল মসজিদ কমিটির সভাপতি হবেন বিভাগীয় কমিশনার। জেলা পর্যায়ের কমিটির সভাপতি থাকবেন জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ের কমিটির সভাপতি হবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

এসব কমিটিতে প্রশাসন, পুলিশ, গণপূর্ত, বিদ্যুৎ, স্থানীয় সরকার, মাদ্রাসা এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্থানীয় মুসলিম গণ্যমান্য ও দানশীল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিধান রাখা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মনোনীত সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর।

কমিটিকে মসজিদের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সাধারণভাবে প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার সভা করার কথা বলা হয়েছে এবং মোট সদস্যের এক-তৃতীয়াংশ উপস্থিত থাকলে সভার কোরাম হবে।

ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদিমের সম্মানী নির্ধারণ

নীতিমালায় মডেল মসজিদের জনবলের জন্য নির্দিষ্ট সম্মানীর কাঠামো দেওয়া হয়েছে।

পেশ ইমাম পাবেন মাসে ২০ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ১৫ হাজার টাকা এবং খাদিম ১২ হাজার টাকা। খতীব ও নিরাপত্তা প্রহরীর সম্মানী চুক্তিভিত্তিক নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, যেসব মডেল মসজিদের আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, সেসব মসজিদ কমিটি সংশ্লিষ্ট পদে নির্ধারিত গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে পেশ ইমামের জন্য গ্রেড-১০, মুয়াজ্জিনের জন্য গ্রেড-১৬ এবং খাদিমের জন্য গ্রেড-১৮ উল্লেখ রয়েছে।

সরকারি নীতিমালার এই সম্মানী কাঠামোর বিষয়টি সাম্প্রতিক প্রতিবেদিতেও উঠে এসেছে। সেখানে পেশ ইমাম ২০ হাজার, মুয়াজ্জিন ১৫ হাজার এবং খাদিম ১২ হাজার টাকা সম্মানীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ঈদে উৎসব ভাতার সুযোগ

মডেল মসজিদের কর্মীদের জন্য ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে উৎসব ভাতার বিধানও রাখা হয়েছে।

নীতিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত জনবলকে সংশ্লিষ্ট ঈদের আগের মাসের সম্মানীর সমপরিমাণ উৎসব ভাতা দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ এটি নীতিমালায় একটি অনুমোদিত সুবিধা হিসেবে রাখা হয়েছে।

সম্মানী থেকে ৫ শতাংশ সঞ্চয়

কর্মরত জনবলের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার জন্য নীতিমালায় সঞ্চয়ের একটি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কর্মীর সম্মানী থেকে ৫ শতাংশ অর্থ কর্তন করে সঞ্চয় করার বিধান রয়েছে। এর সঙ্গে মসজিদ তহবিল থেকেও সমপরিমাণ অর্থ যোগ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ফলে কর্মী নিজের সম্মানী থেকে যে পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করবেন, নির্ধারিত ব্যবস্থায় মসজিদ তহবিল থেকেও সমপরিমাণ অর্থ যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে। চাকরি শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিধি অনুযায়ী এই অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী কর্মীর চাকরি শেষ হওয়ার সময় এককালীন সম্মাননার ব্যবস্থাও নীতিমালায় রয়েছে।

মাসে চার দিন সাপ্তাহিক ছুটির সুযোগ

কর্মীদের ছুটির বিষয়েও বিস্তারিত বিধান রাখা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, কর্মীরা প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি নিতে পারবেন। বছরে সর্বোচ্চ ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার বিধান রয়েছে, তবে একটানা ১০ দিনের বেশি নৈমিত্তিক ছুটি নেওয়া যাবে না।

এ ছাড়া প্রতি ১২ দিনে এক দিন করে অর্জিত ছুটি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও চিকিৎসাজনিত কারণে অর্জিত ছুটি একবারে সর্বোচ্চ ৩০ দিন নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

মডেল মসজিদে কারা কাজ করবেন

নীতিমালায় মডেল মসজিদের অনুমোদিত জনবলের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে রয়েছে—

  • ১ জন খতীব;
  • ১ জন পেশ ইমাম;
  • ১ জন মুয়াজ্জিন;
  • ৩ জন খাদিম—পুরুষ ২ ও নারী ১;
  • ১ জন নিরাপত্তা প্রহরী।

খতীব ও নিরাপত্তা প্রহরীর পদ চুক্তিভিত্তিক রাখার বিধান রয়েছে।

নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ব্যবস্থা

নতুন নীতিমালায় জনবল নিয়োগকে একটি নির্দিষ্ট বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হয়েছে। সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি জাতীয় বা স্থানীয় বাংলা পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে এবং আবেদনকারীদের কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দিতে হবে।

নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে। তবে পেশ ইমাম নিয়োগে কুরআন তিলাওয়াত, জুমার আলোচনা, খুতবা পাঠ এবং সালাতে ইমামতির ব্যবহারিক দক্ষতা যাচাইয়ের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি থাকবে। পরীক্ষা শেষে মেধাক্রম তৈরি করে প্রথম যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। প্রথম প্রার্থী যোগদান না করলে পরবর্তী মেধাক্রমের প্রার্থীকে বিবেচনা করা যাবে।

পেশ ইমামের যোগ্যতায় বিশেষ গুরুত্ব

পেশ ইমামের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি ধর্মীয় জ্ঞান, বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত, আরবি ভাষায় দক্ষতা এবং শরিয়াহ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তফসিলে পেশ ইমামের সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মসজিদে ইমাম হিসেবে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা এবং হাফেজ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের অগ্রাধিকারের কথাও রয়েছে।

অন্যদিকে মুয়াজ্জিন ও খাদিমের জন্যও শিক্ষাগত যোগ্যতা, কুরআন তিলাওয়াত, ইসলামী জীবনাচরণ এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতার শর্ত রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরীর জন্য ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাসের যোগ্যতা উল্লেখ রয়েছে।

মসজিদের আয়-ব্যয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ

নতুন নীতিমালায় মডেল মসজিদের আর্থিক ব্যবস্থাপনায়ও বিস্তারিত নির্দেশনা রয়েছে।

মসজিদের সব আয় নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা করতে হবে এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে। মসজিদের আয় অনধিক সাত দিনের মধ্যে ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

মসজিদের জন্য শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত তফসিলি ব্যাংকে হিসাব রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হিসাব পরিচালনা, অর্থ উত্তোলন, ক্যাশবই, লেজার, বিল-ভাউচার ও অন্যান্য আর্থিক নথি সংরক্ষণের বিষয়েও নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মসজিদের আয়ের উৎস হিসেবে দান, দানবাক্স, সম্পত্তি থেকে আয়, সরকারি-বেসরকারি অনুদান এবং বৈধ অন্যান্য উৎসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ধর্মীয় শিক্ষা হবে মডেল মসজিদের অন্যতম কার্যক্রম

নীতিমালায় মডেল মসজিদকে ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এতে—

  • শিশুদের মক্তব শিক্ষা;
  • পবিত্র কুরআন শিক্ষা;
  • বয়স্কদের কুরআন শিক্ষা;
  • হিফজখানা;
  • তাফসির ও দারস;
  • হজ ও ওমরাহ প্রশিক্ষণ;
  • ধর্মীয় ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম

পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্রও মডেল মসজিদে পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে।

খতীব ও ইমামের দায়িত্ব বাড়ানো হয়েছে

খতীবের দায়িত্ব শুধু জুমার খুতবার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। তাফসির, দারস, ওয়াজ, ধর্মীয় পরামর্শ এবং হজ-ওমরাহ প্রশিক্ষণের মতো কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখার কথা বলা হয়েছে।

পেশ ইমামের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা, জানাজা, তারাবি ও ঈদের নামাজ পরিচালনার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা, মুসল্লিদের দ্বীনি জ্ঞান বৃদ্ধি, কর্মীদের তদারকি ও মসজিদের শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মুয়াজ্জিনকে আজান ও ইকামতের পাশাপাশি দানবাক্স ও মাসিক দান সংগ্রহে সহযোগিতা এবং হিসাব সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে হবে। খাদিমদের ওপর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ, বিভিন্ন ব্যবহারিক কাজ এবং জানাজা ও মৃতদেহ গোসলের স্থান প্রস্তুতের দায়িত্বও রয়েছে।

কর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা

নীতিমালায় মডেল মসজিদে কর্মরত জনবলকে আমানতদার, সৎ, বিশ্বস্ত ও আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে তাদের কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত ছুটি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মসজিদের আয়-ব্যয়ের বার্ষিক নিরীক্ষা

ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বের মধ্যে বার্ষিক হিসাব নিরীক্ষা, আয়-ব্যয়ের হিসাব সভায় উপস্থাপন এবং সম্পদের হিসাব সংরক্ষণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কমিটিকে মসজিদের উন্নয়ন ও সংস্কার, বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা এবং বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। একই সঙ্গে মসজিদের আয়বর্ধক কার্যক্রম গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রশিক্ষণও হবে চাকরির অংশ

মসজিদের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। সরকারি, বেসরকারি বা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে এবং প্রশিক্ষণকালকে কর্মকাল হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রত্যেক কর্মীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতীয় পরিচয়পত্র, নাগরিকত্ব, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে।

শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে চাকরি হারানোর সুযোগ

নীতিমালায় চাকরি ও শৃঙ্খলার বিষয়েও বিধান রয়েছে। নিয়োগপত্র বা নীতিমালার শর্ত ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। তবে কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।

অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যের ক্ষেত্রেও গুরুতর অনিয়ম বা অপরাধের ঘটনায় পদ শূন্য হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আপিলের সুযোগ

মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো বিরোধ বা আপিলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নীতিমালায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ এবং তা নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও রয়েছে।

২০২১ সালের নীতিমালা বাতিল

নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিচালনা নীতিমালা, ২০২১’ রহিত হবে। তবে পুরোনো নীতিমালার আওতায় সম্পন্ন কাজ, গৃহীত ব্যবস্থা বা চলমান কার্যক্রম নতুন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যা জানা জরুরি

নতুন নীতিমালার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো—পেশ ইমামের ২০ হাজার, মুয়াজ্জিনের ১৫ হাজার ও খাদিমের ১২ হাজার টাকা সম্মানী; ঈদে উৎসব ভাতার সুযোগ; সম্মানী থেকে ৫ শতাংশ সঞ্চয় এবং সমপরিমাণ মসজিদ তহবিলের অর্থ যোগ; মাসে চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি; বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি; প্রতি ১২ দিনে এক দিন অর্জিত ছুটি; এবং মডেল মসজিদের আয়-ব্যয়ের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব ও নিরীক্ষা ব্যবস্থা।

সব মিলিয়ে, মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৬ দেশের মডেল মসজিদগুলোর পরিচালনাকে একটি অভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসেছে। এতে ব্যবস্থাপনা কমিটি থেকে শুরু করে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদিম ও নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব, নিয়োগ, সম্মানী, ছুটি, প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলা—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের মডেল মসজিদ প্রকল্পের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা ও মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমও এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *