ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ

গ্রাহককে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে নিরুৎসাহিত করা যাবে না: সর্বাত্মক সহযোগিতার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

ফসিলি ব্যাংকগুলো সঞ্চয়পত্র বিক্রির তালিকায় থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ধাপে গ্রাহকদের নানা প্রক্রিয়ায় সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করছে— এমন গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কড়া নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকগুলোকে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি প্রতিটি ব্যাংকের শাখাগুলোতে সবার চোখে পড়ে এমন দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (২৪ জুন ২০২৬ ইংরেজি / ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার লেটার (ডিএমডি সার্কুলার লেটার নং- ০৯/২০২৬) দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট Management ডিপার্টমেন্টের পরিচালক ইস্তেকামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছ থেকে এই মর্মে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে, তফসিলি ব্যাংকসমূহ সঞ্চয়পত্র বিক্রির তালিকাভুক্তিতে থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকগণকে নানা প্রক্রিয়ায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

গ্রাহক হয়রানি বন্ধ এবং সেবার মান নিশ্চিতে সার্কুলারে প্রধানত ৪টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:

১. সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান: ‘সঞ্চয়পত্র রুলস, ১৯৭৭’-এর অনুচ্ছেদ নং-৩ এর নির্দেশনা মোতাবেক সঞ্চয়পত্রের ইস্যু অফিস হিসেবে বিনিয়োগকারীদের নিকট সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ব্যাংকগুলোকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।

২. নিয়মিত তদারকি (মনিটরিং): গ্রাহকসেবার মান নিশ্চিত করতে ব্যাংকের শাখা সমূহের সঞ্চয়পত্র সংক্রান্ত কার্যক্রম প্রধান কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকিতে রাখতে হবে।

৩. অভিযোগ প্রক্রিয়া দৃশ্যমান করা: গ্রাহকগণ যেন যেকোনো অনিয়ম বা হয়রানির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্য অভিযোগ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যাংকের শাখা সমূহের দৃশ্যমান স্থানে (সবার চোখে পড়ে এমন জায়গায়) প্রদর্শন করতে হবে।

৪. অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা: গ্রাহকদের কাছ থেকে যেকোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তার সত্যতা যাচাই করে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের অন্যতম বড় এবং নির্ভরযোগ্য উৎস হচ্ছে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়পত্র। কিন্তু মাঠপর্যায়ে অনেক ব্যাংক আমানতকারীদের নিজস্ব ব্যাংকিং প্রোডাক্ট বা এফডিআর (FDR) করাতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে অনীহা প্রকাশ করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কঠোর নির্দেশনার ফলে সাধারণ ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমবে এবং সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর তদারকিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Source

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *