সরকারি আপডেট নিউজ

চিকিৎসা অনুদান নিয়ে কল্যাণ বোর্ডের বাজেট সংকট: কেউ হাসছেন সন্তোষে, কেউ প্রহর গুনছেন অপেক্ষার

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের চিকিৎসা অনুদান প্রাপ্তি নিয়ে সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসার বিপরীতে আবেদনে কেউ কাঙ্ক্ষিত সাড়ার চেয়ে ভালো অঙ্কের অনুদান পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করছেন, আবার কেউ সাধারণ চিকিৎসার সামান্য অর্থ পেতেও মাসের পর মাস অপেক্ষা করছেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ‘বাজেট সংকট’-এর কথা বলায় যথাসময়ে টাকা না পেয়ে অনেক আবেদনকারীর ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন ফোরামে কল্যাণ বোর্ডের অনুদানপ্রাপ্ত কর্মচারীদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

বড় অঙ্কের অনুদানে প্রাপ্তি ও সন্তোষ

কল্যাণ বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের ক্ষেত্রে কর্মচারীরা বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তার আবেদন করতে পারেন। একজন আবেদনকারী জানান, তিনি জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য ৩ লাখ ১০ হাজার টাকার একটি খরচের আবেদন করেছিলেন। যার বিপরীতে বোর্ড থেকে তাকে ২ লাখ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে।

সাধারণত আবেদন করা পুরো টাকা পাওয়া না গেলেও, ৩ লাখ টাকার বিপরীতে ২ লাখ টাকা প্রাপ্তিকে অনেকেই “যথেষ্ট ভালো” এবং “সন্তোষজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। অন্য একজন সুবিধাভোগী মার্চ মাসে আবেদন করে মে মাসের মধ্যেই অনুদানের টাকা হাতে পেয়েছেন। মাত্র দুই মাসের মধ্যে বড় অঙ্কের অনুদান প্রাপ্তির পর তিনি বলেন, “অনেক পেয়েছেন, শুকরিয়া আদায় করেন ভাই।”

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান

তবে সবার অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। আবেদনকৃত টাকার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম পাওয়ার নজিরও কম নয়। একজন ভুক্তভোগী কর্মচারী জানান, তিনি তার চিকিৎসার জন্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকার আবেদন করেছিলেন, কিন্তু বোর্ড থেকে তাকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আবেদনের চার ভাগের এক ভাগ টাকা পেয়েছেন তিনি। এ ধরনের ক্ষেত্রে কর্মচারীদের নিজেদের পকেট থেকেই চিকিৎসার সিংহভাগ খরচ মেটাতে হচ্ছে।

“বাজেট নাই”: সাধারণ চিকিৎসার দীর্ঘ অপেক্ষা

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি দেখা গেছে সাধারণ চিকিৎসা অনুদানের ক্ষেত্রে, যেখানে বরাদ্দের পরিমাণ তুলনামূলক কম। গত জানুয়ারি মাসে ৫২ হাজার টাকার সাধারণ চিকিৎসার জন্য আবেদন করা একজন কর্মচারী জানান, তার আবেদনটি সিস্টেমে ‘অনুমোদিত’ বা পাস দেখাচ্ছে। কিন্তু মে মাস পার হতে চললেও এখনো তার অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা জমা হয়নি।

ভুক্তভোগী কর্মচারী জানান, প্রতিকারের জন্য কল্যাণ বোর্ডের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফোন দেওয়া হলে সেখান থেকে জানানো হচ্ছে—“বর্তমানে বাজেট নাই।” বাজেট এলেই কেবল এই টাকা ছাড় করা হবে। মাসের পর মাস আবেদন অনুমোদিত হয়ে পড়ে থাকায় চিকিৎসা খরচের দেনা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যম সারির কর্মচারীরা।

সাধারণ কর্মচারীদের দাবি

ভুক্তভোগী ও সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের দাবি, কল্যাণ বোর্ড গঠনই করা হয়েছে কর্মচারীদের আপদকালীন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য। চিকিৎসার মতো একটি সংবেদনশীল এবং জরুরি বিষয়ে ‘বাজেট সংকট’ বা দীর্ঘসূত্রতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তারা মনে করেন, আবেদন অনুমোদিত হওয়ার সাথে সাথেই যাতে দ্রুত অর্থ ছাড় করা হয়, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে কল্যাণ বোর্ডে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সাথে কোন ক্যাটাগরিতে কেমন টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তার একটি স্বচ্ছ ও যৌক্তিক নীতিমালা পুরোপুরি বজায় রাখা দরকার, যেন প্রান্তিক কর্মচারীরা চরম হতাশায় না পড়েন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *