ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: কঠোর নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি তুঙ্গে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে কমিশন থেকে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নির্বাচনী তফসিল ও বর্তমান অবস্থা
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে, যা ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ৭:৩০টা পর্যন্ত চলবে। এবারের নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৮টিতে মোট ১,৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ১,৭৩২ জন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের এবং ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ও গোপন কক্ষ
নির্বাচন কমিশনের জারিকৃত ‘পরিপত্র-১৫’ অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত ‘মার্কিং প্লেস’ বা গোপন কক্ষ স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কক্ষগুলো এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে ভোট প্রদানের সময় ভোটারের পছন্দ সম্পূর্ণ গোপন থাকে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে কোনো জানালা থাকলে তা বন্ধ রাখতে হবে এবং ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে কোনো নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করা যাবে না।
নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা
সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনীসহ পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং কোস্ট গার্ড মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রভিত্তিক বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রসহ পুলিশ ও আনসার সদস্য এবং লাঠিসহ ১০ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তার মাত্রা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া, নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
পোস্টাল ব্যালট ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স
এবারের নির্বাচনেও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হবে। প্রবাসে অবস্থানরত এবং বিশেষ প্রয়োজনে ডাকযোগে ভোটদানকারী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য প্রতি ৪০০টি পোস্টাল ব্যালটের বিপরীতে একটি পৃথক ব্যালট বাক্স ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রচারণা ও যাতায়াতে বিধি-নিষেধ
নির্বাচন কমিশন থেকে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য কোনো ধরনের যানবাহন ব্যবহার না করতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রচারণার সময় কোনো প্রার্থী বা সংগঠন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে কমিশন জানিয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ ভোটগ্রহণের দিন সকাল ৭:৩০টা থেকে বিকেল ৪:৩০টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

