পশু জবাইয়ে মানতে হবে কঠোর নিয়ম: বিধিমালা লঙ্ঘন করলেই আইনি ব্যবস্থা
দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও গবাদি পশুর সুষ্ঠু বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২১’ কার্যকরের মাধ্যমে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু কড়াকড়ি আরোপ করেছে। এই বিধিমালা অনুযায়ী, অসুস্থ, গর্ভবতী কিংবা নির্দিষ্ট বয়সের নিচে কোনো পশু জবাই করা এখন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
জবাই করা নিষিদ্ধ এমন পশুর তালিকা
বিধিমালার ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনবহির্ভূতভাবে নিম্নবর্ণিত অবস্থায় কোনো পশু জবাই করতে পারবেন না:
১. অসুস্থ ও জখমপ্রাপ্ত পশু: মৃতপ্রায় (moribund) পশু এবং ভেটেরিনারি কর্মকর্তার অনুমতি ব্যতীত কোনো দুর্ঘটনাজনিত কারণে জখমপ্রাপ্ত পশু জবাই করা যাবে না। এছাড়া সংক্রামক রোগে আক্রান্ত পশু জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ২. গর্ভবতী পশু: বংশবৃদ্ধি রক্ষার্থে গর্ভবতী পশু জবাই করা যাবে না। ৩. দুগ্ধবতী পশু: নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে থাকা দুগ্ধবতী পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে প্রসবের পর ৭ মাস, ছাগল ও ভেড়ার ক্ষেত্রে ৩ মাস এবং উটের ক্ষেত্রে ৬ মাস পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। শূকরের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ৩ সপ্তাহ।
বয়সের বাধ্যবাধকতা
নিবন্ধিত কসাইখানা বা মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে পশুর সর্বনিম্ন বয়স নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তালিকার মূল কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
-
গরু ও মহিষ: সর্বনিম্ন ০৮ (আট) মাস।
-
ছাগল ও ভেড়া: সর্বনিম্ন ০৫ (পাঁচ) মাস।
-
উট: সর্বনিম্ন ১২ (বারো) মাস।
-
দুম্বা: সর্বনিম্ন ০৬ (ছয়) মাস।
-
খরগোশ ও শূকর: সর্বনিম্ন ০৩ (তিন) মাস।
ধর্মীয় আচারে ছাড়
বিধিমালার ২(ঙ) উপ-বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ধর্মীয় আচার অনুযায়ী (যেমন: ঈদুল আজহার কোরবানি) পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে এই নির্ধারিত সর্বনিম্ন বয়সের বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য হবে না। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের মন্তব্য
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসুস্থ পশু জবাই করলে সেই মাংসের মাধ্যমে মানবদেহে বিভিন্ন জটিল রোগ ছড়াতে পারে। তাই মাংস কেনার সময় সাধারণ ক্রেতাদেরও পশুর সুস্থতা ও মাংসের গুণগত মান সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এই বিধিমালা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।
সতর্কতা: এই বিধিমালার বাইরে গিয়ে কেউ পশু জবাই করলে তাকে জেল বা জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। জনস্বার্থে এই নিয়মগুলো মেনে চলা প্রতিটি নাগরিক ও ব্যবসায়ীর দায়িত্ব।

