পাসপোর্টে ডলার এনডোর্সমেন্ট ফি নির্ধারণ করে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক; সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা
বিদেশগামী যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং মুদ্রা বিনিময় সেবায় স্বচ্ছতা আনতে পাসপোর্টে ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্টের (সংযুক্তি) ফি সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারগুলো পাসপোর্ট প্রতি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা (ভ্যাট ব্যতিরেকে) সেবা মূল্য নিতে পারবে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ (এফইপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সকল অনুমোদিত মানি চেঞ্জার ও বৈদেশিক মুদ্রা ডিলারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে:
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (এফইপিডি-২) মনোয়ার উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই সার্কুলারে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
-
সর্বোচ্চ ফি: মানি চেঞ্জাররা পাসপোর্টে ডলার বা অন্য যেকোনো বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্টের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ফি নিতে পারবে। বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ যা-ই হোক না কেন, এই ফি-র বেশি আদায় করা যাবে না।
-
দৃশ্যমান মূল্য তালিকা: এনডোর্সমেন্ট ফি-র পরিমাণ মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের ভেতরে গ্রাহকদের সহজে চোখে পড়ে এমন জায়গায় স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে।
-
বাধ্যতামূলক রসিদ: গ্রাহকের কাছ থেকে ফি নেওয়ার পর অবশ্যই একটি লিখিত রসিদ প্রদান করতে হবে।
-
হিসাব সংরক্ষণ: সংগৃহীত সব ফির যথাযথ হিসাব ও রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেকোনো সময় পরিদর্শন করতে পারবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এতদিন পাসপোর্টে ডলার এনডোর্সমেন্টের জন্য মানি চেঞ্জারগুলো ভিন্ন ভিন্ন অংকের ফি আদায় করত। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যেত। বিদেশগামী যাত্রীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি যাতে আরও সুশৃঙ্খল হয়, সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিলিং নির্ধারণ করে দিয়েছে।
এর আগে গত বছরের মে মাসে ব্যাংকগুলোর জন্য একই হারে (৩০০ টাকা) এনডোর্সমেন্ট ফি নির্ধারণ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার মানি চেঞ্জারদের জন্যও একই নিয়ম কার্যকর করা হলো।

পূর্বে ফি কত ছিল?
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মানি চেঞ্জারদের জন্য পাসপোর্টে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্টের সর্বোচ্চ ফি ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পূর্বে এই ফির হার বিষয়ে যা জানা যায়:
-
সুনির্দিষ্ট কোনো সীমা ছিল না: মানি চেঞ্জারদের জন্য পাসপোর্টে ডলার এনডোর্সমেন্টের কোনো সুনির্দিষ্ট ফি আগে নির্ধারিত ছিল না।
-
ভিন্ন ভিন্ন হারে ফি আদায়: সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় মানি চেঞ্জারগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে একেক সময় একেক হারে বা ইচ্ছামতো ফি আদায় করত।
-
অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ: অনেক ক্ষেত্রে মানি চেঞ্জাররা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করত, যা বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই অনিয়ম বন্ধ করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথমবারের মতো মানি চেঞ্জারদের জন্য এই ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে।

