BRTA Information

মেট্রোরেলে যাতায়াতে কড়াকড়ি : নিষিদ্ধ ২৫ ধরনের মালামালের তালিকা প্রকাশ ডিএমটিসিএলের

মেট্রোরেল ব্যবস্থা, সাধারণ যাত্রী এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশন ও ট্রেনে ২৫ ধরনের মালপত্র বা সামগ্রী বহন নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। গত ২৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ডিএমটিসিএল-এর সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের সভায় বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে এই তালিকার অনুমোদন দেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এবং স্টেশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে এই নিয়ম কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে।

ব্যাগের আকার ও ওজনে সীমাবদ্ধতা

সাধারণ যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যবহার্য ব্যাগ বা কার্টনের আকার ও ওজনে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

  • ট্রলি ব্যাগ: দৈর্ঘ্য-২২”, প্রস্থ-১৪” ও উচ্চতা-৯” এর চেয়ে বড় আকারের এবং ১৫ কেজির বেশি ওজনের ট্রলি ব্যাগ নিষিদ্ধ।

  • হাত ব্যাগ বা ব্যাক প্যাক: দৈর্ঘ্য-২২”, প্রস্থ-১৪” ও উচ্চতা-৯” এর চেয়ে বড় আকারের হাত ব্যাগ বা ব্যাক প্যাক বহন করা যাবে না। তবে বহনযোগ্য ব্যাক প্যাক মেট্রো ট্রেনের ভেতরে পিঠে বহন না করে হাতে রাখতে হবে।

  • কার্টন: দৈর্ঘ্য-১৮”, প্রস্থ-১৮” ও উচ্চতা-১৮” এর চেয়ে বড় আকারের সকল প্রকার মালামালের কার্টন নিষিদ্ধ।

  • বস্তা: প্লাস্টিক, পাট কিংবা মোটা কাপড়—যেকোনো উপাদানে তৈরি সব ধরনের মালামালের বস্তা ট্রেনে বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

স্টেশন নোংরা ও গন্ধ ছড়াতে পারে এমন খাদ্যসামগ্রী

ট্রেন ও স্টেশনের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে তরল, কাঁচা ও গন্ধযুক্ত খাবারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

  • হিমায়িত খাদ্য দ্রব্য: হিমায়িত মাছ, মাংস, দুধ, রসালো মিষ্টি, পানিসহ এমন সব খাদ্যদ্রব্য যা থেকে পানি পড়ে স্টেশন বা ট্রেন নোংরা হতে পারে কিংবা গন্ধ ছড়াতে পারে, তা বহন করা যাবে না।

  • কাঁচাবাজার: শাকসবজি, মাছ-মাংস কিংবা পানি ঝরছে বা ঝরার সম্ভাবনা আছে এমন কাঁচাবাজারের ব্যাগ এবং শুঁটকির মতো তীব্র গন্ধ ছড়ানো দ্রব্য নিষিদ্ধ।

  • উন্মুক্ত ফল ও খাদ্য সামগ্রী: অনাবৃত বা প্যাকিং ছাড়া গন্ধ ছড়ায় কিংবা পানি ঝরার সম্ভাবনা আছে এমন ফল (যেমন: আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, বাঙ্গী, তরমুজ, কমলা, আঙুর ইত্যাদি) এবং প্যাকেটবিহীন উন্মুক্ত যেকোনো খাবার (যেমন: পোলাও, বিরিয়ানি ইত্যাদি) বহন করা যাবে না।

ক্ষয়কারী, দাহ্য ও বিপজ্জনক উপাদান

নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে যেকোনো ধরনের বিস্ফোরক বা রাসায়নিক উপাদান বহনে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

  • জ্বালানী ও দাহ্য পদার্থ: পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন, কেরোসিন, তারপিন, অ্যালকোহল এবং স্প্রে জাতীয় ক্যান।

  • ক্ষয়কারী উপাদান: গাড়ির ব্যাটারি, আইপিএস, অ্যাসিড, পারদ ও ক্ষার জাতীয় ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য।

  • গ্যাস সিলিন্ডার ও বেলুন: সব ধরনের গ্যাস ও এলপিজি সিলিন্ডার এবং গ্যাস ভর্তি বেলুন বা উড়ন্ত খেলনা।

  • বাজি ও আগ্নেয়াস্ত্র: যেকোনো ধরনের দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বাজি ও আতশবাজি।

অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রী

  • জীবজন্তু: যেকোনো ধরনের পশু-পাখি ও জন্তু বহন নিষিদ্ধ। তবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যাত্রীদের সহায়তার জন্য অনুমতি সাপেক্ষে প্রশিক্ষিত ‘গাইড কুকুর’ সঙ্গে নেওয়া যাবে।

  • উন্মুক্ত কৃষিপণ্য, ফুল ও গাছ: অনাবৃত অবস্থায় সব ধরনের কৃষিপণ্য, তাজা ফুল, ফুলের তোড়া, গাছের চারা এবং টব।

  • ধারালো ও ধাতব বস্তু: ছুরি, কাঁচি, দা, বটি, রড, পাইপ, তীক্ষ্ণ প্রান্তযুক্ত ধাতব বস্তু, ট্রাঙ্ক এবং গ্যাসের চুলা।

  • খোলা যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক্স: খোলা অবস্থায় ড্রিল মেশিন, ওয়েল্ডিং মেশিন, কাটার মেশিন বা পাইপ রেঞ্জের মতো মিশিনারি পণ্য। এছাড়া প্যাকেটবিহীন বা খোলা ইলেকট্রনিক্স পণ্য (যেমন: ব্লেন্ডার, ওভেন, কেটলি, ওয়াশিং মেশিন, গিজার, কম্পিউটার, মনিটর, প্রিন্টার, ইউপিএস, সাউন্ড বক্স) এবং প্যাকেটবিহীন বাদ্যযন্ত্র (যেমন: হারমোনিয়াম, তবলা, গিটার, বেহালা)।

  • উন্মুক্ত খেলাধুলার সামগ্রী: উন্মুক্ত অবস্থায় ক্রিকেট ব্যাট, স্ট্যাম্প, ফুটবল, হকি স্টিক, ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট এবং বাচ্চাদের খেলনা।

  • নেশাজাতীয় দ্রব্য: সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

প্রয়োজনে তালিকা পরিবর্তনের সুযোগ

ডিএমটিসিএল-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেট্রোরেল সিস্টেমের কার্যকারিতা, যাত্রীসাধারণের স্বাচ্ছন্দ্য এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজন ও বাস্তবতা অনুযায়ী এই নিষিদ্ধ তালিকার যেকোনো ধারা সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজন করার পূর্ণ অধিকার মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে। ভ্রমণকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সম্মানিত যাত্রীদের এই নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *