শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইপিআই টিকাদান ২০২৬ । সঠিক সময়ে টিকা নিশ্চিতের তাগিদ দিচ্ছে সরকার?
বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার রোধ এবং সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধে সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সম্প্রতি একটি ডিজিটাল ইপিআই টিকাদান কার্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিশুদের ১০টি মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা করতে নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী টিকা প্রদান অপরিহার্য।
১০টি মরণব্যাধি থেকে সুরক্ষা
ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের মূলত ১০টি রোগের বিরুদ্ধে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হয়। এই রোগগুলো হলো:
-
যক্ষ্মা ও পোলিও।
-
ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টঙ্কার।
-
হেপাটাইটিস-বি ও হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি।
-
নিউমোকক্কাল জনিত নিউমোনিয়া।
-
হাম ও রুবেলা (এমআর)।
টিকা প্রদানের নির্দিষ্ট সময়সূচি
একটি নমুনা কার্ড (রেজিস্ট্রেশন তারিখ: ২০ এপ্রিল ২০২৫) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের টিকা প্রদানের ধাপগুলো নিম্নরূপ: ১. জন্মের পরপরই: বিসিজি (BCG) টিকা প্রদান করা হয়। ২. ৬ সপ্তাহ বয়সে: পেন্টাভ্যালেন্ট-১, ওপিভি-১, পিসিভি-১ এবং আইপিভি-১ এর প্রথম ডোজ দিতে হয়। ৩. পরবর্তী ডোজ: কমপক্ষে ৪ সপ্তাহ বা ২৮ দিনের ব্যবধানে ২য় ও ৩য় ডোজ প্রদান নিশ্চিত করতে হয়। ৪. ৯ মাস ও ১৫ মাস: ৯ মাস পূর্ণ হলে এমআর ১ম ডোজ এবং ১৫ মাস পূর্ণ হলে এমআর ২য় ডোজ প্রদান করা হয়।
অভিভাবকদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যানুযায়ী, টিকা কেন্দ্রে শিশুদের কমপক্ষে ৫ বার আনা জরুরি। কার্ডটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে:
-
স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া: টিকা দেওয়ার পর সামান্য জ্বর বা টিকার স্থানে সামান্য ব্যথা ও শক্ত হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক, এতে ভয়ের কিছু নেই। বিসিজি টিকার স্থানে ঘা হওয়াও একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
-
অসুস্থতা: শিশু অসুস্থ থাকলে সাময়িকভাবে টিকা দেওয়া যাবে না, তবে সুস্থ হওয়ার সাথে সাথেই ডোজটি সম্পন্ন করতে হবে।
-
সতর্কতা: জন্মের ২৮ দিনের মধ্যে শিশুর মৃত্যু, হামে আক্রান্ত হওয়া অথবা ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুর হাত-পা হঠাৎ প্যারালাইসিস হয়ে গেলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।
কার্ডের গুরুত্ব
ইপিআই কার্ডটি অত্যন্ত যত্ন করে রাখার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এটি ভবিষ্যতে শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদ গ্রহণ, স্কুলে ভর্তি এবং বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে প্রমাণপত্র হিসেবে প্রয়োজন হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো সকল ডোজ সম্পন্ন না করলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সঠিকভাবে তৈরি নাও হতে পারে। তাই সুস্থ ও সবল প্রজন্ম গড়তে প্রতিটি অভিভাবককে এই জাতীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

