সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক জনতা ব্যাংক: সঞ্চয়ে মিলছে আকর্ষণীয় মুনাফা ও নানা সুবিধা
দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক জনতা ব্যাংক পিএলসি সাধারণ গ্রাহকদের ভবিষ্যৎ ও সঞ্চয়ের কথা মাথায় রেখে বাজারে নিয়ে এসেছে বেশ কিছু চমৎকার ডিপোজিট প্রোডাক্ট। ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারী থেকে শুরু করে এককালীন বিনিয়োগকারী—সবার জন্যই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন স্কিম। ব্যাংকটির সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সঞ্চয়ের ওপর মুনাফার হার যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি শর্তগুলোও বেশ সহজ।
সঞ্চয়ীদের প্রথম পছন্দ ‘জেবিডিপিএস’ ও ‘স্মার্ট ডিপিএস’
জনতা ব্যাংকের অন্যতম জনপ্রিয় স্কিম হলো জেবিডিপিএস (JBDPS)। এতে মাসিক ৫০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা কিস্তিতে ৫ বা ১০ বছর মেয়াদে সঞ্চয় করা যায়, যেখানে মুনাফার হার রাখা হয়েছে ১০.০০%।
অন্যদিকে, যারা নমনীয়তা পছন্দ করেন তাদের জন্য রয়েছে ‘স্মার্ট ডিপিএস’। মাত্র ২,০০০ টাকা প্রাথমিক জমা দিয়ে এই হিসাব খোলা যায়। এখানে নিজের ইচ্ছামতো কিস্তি জমা দেওয়ার সুবিধা রয়েছে এবং মুনাফার হার ৯.৫০% থেকে ৯.৬৫% পর্যন্ত।
নারী ও তরুণদের জন্য বিশেষ সুবিধা
নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার লক্ষ্যে জনতা ব্যাংক পরিচালনা করছে ‘নারী কল্যাণ (ডিপিএস)’। ৫ বা ১০ বছর মেয়াদী এই স্কিমে ১,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা কিস্তিতে ৭.৫০% মুনাফা পাওয়া যায়। এছাড়া ৫ বছর মেয়াদী ‘জেডিএস’ স্কিমে সঞ্চয় করে গ্রাহকরা ৬.০০% হারে মুনাফা অর্জন করতে পারছেন।
টাকা হবে দ্বিগুণ, পাওয়া যাবে লাখো টাকা
এককালীন বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যাংকটির ‘দ্বিগুণ মুনাফা স্কীম’ অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এখানে মাত্র ৭ বছরে জমা রাখা টাকা দ্বিগুণ হওয়ার সুযোগ রয়েছে (মুনাফার হার ১০.৪১%)।
ভবিষ্যতে বড় অংকের মালিক হতে যারা চান, তাদের জন্য রয়েছে:
মিলিয়নার স্কীম: ৩ থেকে ১৫ বছর মেয়াদে কিস্তি জমা দিয়ে মেয়াদ শেষে ১০ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়।
কোটিপতি স্কীম: ৪ থেকে ১৫ বছর মেয়াদে নির্দিষ্ট কিস্তিতে মেয়াদ শেষে গ্রাহক পাবেন ১ কোটি টাকা।
এককালীন বিনিয়োগ ও অন্যান্য
যাঁরা এককালীন টাকা জমা রেখে প্রতি মাসে মুনাফা তুলতে চান, তাদের জন্য রয়েছে ‘মাসিক মুনাফা স্কীম’। ৩ বা ৫ বছর মেয়াদী এই স্কিমে টাকা রাখলে প্রতি মাসে ৮১৩ টাকা থেকে ৮৩৩ টাকা পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া সম্ভব। এছাড়া ৩, ৬ বা ১২ মাস মেয়াদী এফডিআর (FDR) সুবিধাতো রয়েছেই, যেখানে ৯.২৫% থেকে ৯.৫০% পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায় এবং এতে অটো রিনিউয়াল সুবিধা অন্তর্ভুক্ত।
ধর্মপ্রাণ মানুষদের জন্য রয়েছে ১ থেকে ২০ বছর মেয়াদী ‘হজ ডিপোজিট স্কীম’ এবং ৩ থেকে ১৫ বছর মেয়াদী ‘ওমরাহ ডিপোজিট স্কীম’, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।
জনতা ব্যাংকের এই বৈচিত্র্যময় স্কিমগুলো সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়াতে এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কোটিপতি হতে মাসে কত টাকা জমা করতে হবে?
কোটিপতি স্কীম’। এই স্কিমের আওতায় কোটিপতি হতে হলে আপনাকে ৪ থেকে ১৫ বছর মেয়াদী যেকোনো একটি পরিকল্পনা বেছে নিতে হবে।
আপনার সঞ্চয়ের সক্ষমতা অনুযায়ী মাসিক কিস্তির পরিমাণ নিচে দেওয়া হলো:
সর্বনিম্ন কিস্তি: আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদে অর্থাৎ ১৫ বছর ধরে টাকা জমা করেন, তবে প্রতি মাসে আপনাকে ২৭,৬৫০ টাকা জমা দিতে হবে।
সর্বোচ্চ কিস্তি: আপনি যদি দ্রুত অর্থাৎ মাত্র ৪ বছর মেয়াদে কোটিপতি হতে চান, তবে প্রতি মাসে আপনাকে ১,৭৪,৭০০ টাকা জমা দিতে হবে।
কোটিপতি স্কীমের কিস্তির সারাংশ:
| মেয়াদ | মাসিক কিস্তির পরিমাণ (টাকা) | লক্ষ্যমাত্রা |
| ৪ বছর (সর্বনিম্ন মেয়াদ) | ১,৭৪,৭০০/- | ১ কোটি টাকা |
| ১৫ বছর (সর্বোচ্চ মেয়াদ) | ২৭,৬৫০/- | ১ কোটি টাকা |
নোট: এই স্কিমে ৪ থেকে ১৫ বছরের মাঝামাঝি অন্যান্য মেয়াদেও টাকা জমার সুযোগ রয়েছে। আপনার বাজেট অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদের কিস্তি জানতে আপনি নিকটস্থ জনতা ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করতে পারেন।

