সরকারি আপডেট নিউজ

৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা : ক্ষোভ ও চরম হতাশায় সরকারি কর্মচারীরা

বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক প্রশাসনের কর্মচারীদের মধ্যে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা ‘৯ম পে-স্কেল’ নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনা এবং চাপা ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো নতুন বেতন স্কেল আলোর মুখ দেখেনি। কর্মচারীদের একটি বড় অংশের আশঙ্কা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার কারণে পূর্ণ সুবিধা পেতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এই দীর্ঘসূত্রিতাকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

ছবির মূল বার্তা ও কর্মচারীদের দাবি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিশ্লেষণাত্মক পোস্টে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার করুণ চিত্র এবং বেতন বৈষম্যের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়:

  • চাকরি জীবনের অর্ধেকটাই শেষ: ২০১৫ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত হিসাব করলে সময় দাঁড়ায় দীর্ঘ ১৪ বছর। একটি পে-স্কেল বাস্তবায়নে যদি চাকরি জীবনের অর্ধেক সময় চলে যায়, তবে সরকারি চাকরির আকর্ষণ এবং যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

  • লাখ লাখ কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত: এই দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষা ও চরম মূল্যস্ফীতির মাঝে যারা ইতিমধ্যে অবসরে গেছেন বা যাচ্ছেন, তারা নতুন পে-স্কেলের আর্থিক সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন।

  • সেবা বনাম সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য: কর্মচারীদের ক্ষোভ—সরকার ও জনগণ তাদের কাছ থেকে ‘১৬ আনা’ অর্থাৎ শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন সেবা আশা করলেও, সুযোগ-সুবিধা ও বেতনের বেলায় দেওয়া হচ্ছে মাত্র ‘৪ আনা’।

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাজার পরিস্থিতি

সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের তথ্যমতে, গত ১১ বছরে দেশের সম্মিলিত মুদ্রাস্ফীতি বা পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ১০৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৫ সালের স্কেলে নির্ধারিত বেতন দিয়ে ২০২৬ সালের আকাশচুম্বী বাজারে সাধারণ ও নিম্ন গ্রেডের (বিশেষ করে ১১ থেকে ২০তম গ্রেড) কর্মচারীদের সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

যদিও সম্প্রতি গঠিত পে-কমিশন সর্বনিম্ন গ্রেডে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১,৬০,০০০ টাকা নির্ধারণ করে ১:৮ অনুপাতে ২০টি গ্রেডের একটি নতুন বেতন কাঠামো প্রস্তাব করেছে, তবুও এর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। কর্মচারীরা ১:৪ অনুপাতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে অনড় রয়েছেন এবং বাতিল হওয়া টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালের জোর দাবি জানাচ্ছেন।

২০২৯ সাল পর্যন্ত লাগার আশঙ্কা কেন?

অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ইঙ্গিত অনুযায়ী, দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার নতুন পে-স্কেল একবারে বাস্তবায়ন না করে ২ থেকে ৩টি ধাপে বাস্তবায়ন করতে পারে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ লক্ষ্যে আংশিক বরাদ্দের কথা শোনা গেলেও, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন এবং পার্থক্যযোগ (Fixation) পদ্ধতির জটিলতা শেষ করে কর্মচারীদের পকেটে পূর্ণ সুবিধা পৌঁছাতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

মাঠপর্যায়ে আন্দোলনের ডাক

এই দীর্ঘসূত্রিতা আর মেনে নিতে রাজি নন সাধারণ কর্মচারীরা। ‘সরকার, অবিলম্বে কর্মচারীদের প্রতি সদয় হোন!’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ আগামী ১২ জুনের মধ্যে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও অর্থ বরাদ্দের আল্টিমেটাম দিয়েছে। দাবি আদায় না হলে রাজধানীসহ দেশজুড়ে কঠোর অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের চাকা সচল রাখতে এবং সরকারি সেবা শতভাগ নিশ্চিত করতে হলে এই বিপুলসংখ্যক জনবলকে আর অবহেলা না করে মানবিক ও বাস্তবসম্মতভাবে দ্রুত নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *