বিকেকেবি (BKKB) কল্যাণ ভাতা অনুমোদন: টাকা হাতে পেতে কত সময় লাগবে?
বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (বিকেকেবি) থেকে সরকারি কর্মচারীদের মাসিক কল্যাণ ভাতা এবং দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুদান প্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল গতি এসেছে। এরই ধারাবাহিকতায়, সেগুনবাগিচা অফিস (ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়) থেকে গত ২৬ মার্চ, ২০২৬ তারিখে একটি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। আবেদনটি অনুমোদনের পর উপকারভোগীদের মনে প্রধান প্রশ্ন— “টাকা কবে নাগাদ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে?”
অনুমোদন পরবর্তী ধাপসমূহ
সাধারণত একটি আবেদন ‘অনুমোদিত’ (Approved) হওয়ার পর টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে আসার আগে কিছু দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়:
১. কার্ড ইস্যু ও তালিকা প্রণয়ন: অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট বোর্ড আপনার নামে একটি কল্যাণভাতা কার্ড ইস্যু করে এবং উপকারভোগীদের একটি তালিকা তৈরি করে। ২. সোনালী ব্যাংকে প্রেরণ: এই তালিকাটি কেন্দ্রীয়ভাবে সোনালী ব্যাংক, রমনা কর্পোরেট শাখায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে আপনার দেওয়া স্থানীয় ব্যাংক শাখায় তথ্য পাঠানো হয়। ৩. ইএফটি (EFT) প্রক্রিয়া: বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে সরাসরি Electronic Fund Transfer (EFT) এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়।
টাকা পেতে সম্ভাব্য সময়সীমা
বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদন অনুমোদনের পর থেকে সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু বিষয় সময়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে:
-
পেমেন্ট সাইকেল: সরকারি অর্থ ছাড়ের একটি নির্দিষ্ট মাসিক চক্র থাকে। মাস শেষ হওয়ার আগে বা পরের মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সাধারণত ভাতার টাকা ছাড় করা হয়।
-
ব্যাংক প্রসেসিং: ২৬ মার্চ আবেদনটি অনুমোদিত হওয়ায়, এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহের মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা (বকেয়াসহ, যদি থাকে) আপনার অ্যাকাউন্টে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
আপনার করণীয়
-
এসএমএস (SMS) ফলোআপ: আবেদন অনুমোদনের পর বোর্ড থেকে আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একটি ডায়েরি নম্বরসহ কনফার্মেশন মেসেজ পাঠানো হয়। সেটি সংরক্ষণ করুন।
-
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চেক: যেহেতু ২৬ মার্চ অনুমোদন হয়েছে, তাই এপ্রিলের ১৫ তারিখের পর থেকে আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা মেসেজ চেক করুন।
-
অনলাইন স্ট্যাটাস: স্ক্রিনশটে থাকা ‘বিস্তারিত’ বাটনে ক্লিক করে আপনি পেমেন্ট আইডির বর্তমান অবস্থা এবং টাকা কোন ধাপে আছে তা সরাসরি ট্র্যাক করতে পারবেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য
সেগুনবাগিচা অফিস বা ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের ক্ষেত্রে কাজের চাপের কারণে মাঝেমধ্যে ১-২ সপ্তাহ দেরি হতে পারে। যদি এপ্রিল মাসের মধ্যে টাকা জমা না হয়, তবে মে মাসের শুরুতে সেগুনবাগিচা অফিসে আপনার ডায়েরি নম্বরসহ যোগাযোগ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (BKKB) অনলাইন পোর্টাল ও সেবা বক্স।

