উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিতদের জন্য সুসংবাদ: টাইম স্কেল ও জ্যেষ্ঠতা গণনায় হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায় - Technical Alamin
সরকারি আদেশ ও তথ্য

উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিতদের জন্য সুসংবাদ: টাইম স্কেল ও জ্যেষ্ঠতা গণনায় হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়

উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন হাইকোর্ট বিভাগ। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত সকল কর্মচারীর ক্ষেত্রে টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড, পেনশন ও অন্যান্য সুবিধাদি নির্ধারণে প্রকল্পের সময়কাল থেকেই তাদের সেবার মেয়াদ বা জ্যেষ্ঠতা গণনা করতে হবে

মামলার প্রেক্ষাপট ও মূল রায় রিট পিটিশন নং ৮৯৮৩/২০১১-এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ মে, ২০১২ তারিখে হাইকোর্ট বিভাগ একটি রায় প্রদান করেন এই রায়ের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০০৮ ও ২০১১ সালে জারিকৃত দুটি অফিস আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়, যা প্রকল্পের সময়কালকে জ্যেষ্ঠতা গণনায় বাধা হিসেবে কাজ করছিল পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয় এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও রিভিউ আবেদন করলেও মাননীয় আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন

আদালত অবমাননা মামলার শুনানি উক্ত রায় পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবং একই অবস্থানে থাকা অন্যান্য কর্মচারীদের সুবিধাদি প্রদান না করায় ১৫/২০১৫ নং আদালত অবমাননার আবেদন দাখিল করা হয় । বিচারপতি মোঃ হাবিবুল গনি এবং বিচারপতি এস. কে. তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই মামলার শুনানি গ্রহণ করেন

শুনানি চলাকালে বিবাদী পক্ষ দাবি করে যে, রিট আবেদনকারী ৪ জনকে ইতোমধ্যে সুবিধা প্রদান করা হয়েছে তবে বিপুল সংখ্যক কর্মচারীকে সুবিধা দিতে বড় অংকের অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকায় বাকিদের সুবিধা দেওয়া সম্ভব হয়নি

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা

আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে বলেন যে:

  • আইনের কল্যাণমূলক ব্যাখ্যা: ২০০৫ সালের বিধিমালা অনুযায়ী নিয়মিতকৃত কর্মচারীদের বেতন, ছুটি ও পেনশনের জন্য প্রকল্পের সময়কাল গণনা করতে হবে আইনের ভাষার সংকীর্ণ ব্যাখ্যার কোনো সুযোগ নেই

  • একই সুবিধা সবার জন্য প্রযোজ্য: একবার কোনো সরকারি স্মারক বা মেমো আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত হলে, তা ওই একই অবস্থানে থাকা সকল কর্মচারীর জন্যই অবৈধ বলে গণ্য হবে শুধুমাত্র আবেদনকারীদের সুবিধা দিয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের দায়বদ্ধতা এড়াতে পারেন না

  • বাতিলকৃত স্মারকের কার্যকারিতা: আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ২০০৮ ও ২০১১ সালের বিতর্কিত স্মারক দুটির আর কোনো অস্তিত্ব নেই। তাই অবসরপ্রাপ্ত বা চাকরিরত সকল কর্মচারী যারা প্রকল্প থেকে রাজস্ব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাদের প্রকল্পের সময়কাল বিবেচনা করে প্রাপ্য সুবিধা দিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

আদালতের এই রায়ের ফলে হাজার হাজার সরকারি কর্মচারীর পেনশন ও টাইম স্কেল সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের পথ সুগম হলো। মামলার রায়টি ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *