নবম পে-স্কেলের দাবিতে উত্তাল রাজপথ: যমুনার সামনে আন্দোলনরত কর্মচারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড
নতুন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও গেজেট প্রকাশের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ রাজপথে আছড়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া ‘ভুখা মিছিল’ ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় শাহবাগ ও মিন্টো রোড এলাকা। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল ও জলকামান ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ
গতকাল সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে কয়েক হাজার কর্মচারী সমবেত হন। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের গেজেট প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করা হয়নি।
সমাবেশ শেষে বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা একটি ‘ভুখা মিছিল’ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার অভিমুখে রওনা দেন। মিছিলটি শাহবাগ মোড় অতিক্রম করার সময় পুলিশ প্রথম দফায় বাধা দেয়। তবে বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা মিন্টো রোডের দিকে অগ্রসর হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা যমুনার সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন।
পুলিশের অ্যাকশন ও সংঘর্ষ
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যমুনা এলাকায় আগে থেকেই ১৪৪ ধারা জারি ছিল। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুলিশ বারবার আন্দোলনকারীদের এলাকা ছাড়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তু কর্মচারীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকলে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ অ্যাকশনে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় শুরু হয় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে। এতে অন্তত ৩০ জন কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে আব্দুল হান্নান (৪৫), জয় দাস (৩৫) ও তন্ময়সহ (৩২) অন্তত ১৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর পর যমুনা এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। ‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী বলেন:
“আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের ন্যায্য অধিকারের দাবি জানাচ্ছিলাম। কিন্তু নিরীহ কর্মচারীদের ওপর পুলিশের এই বর্বরোচিত হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষায় তারা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে সরকারি কর্মচারীদের এই বৃহৎ আন্দোলন সরকারকে নতুন চাপের মুখে ফেলেছে। কর্মচারীদের মূল দাবি—জানুয়ারি ১, ২০২৬ থেকে কার্যকর করে অবিলম্বে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা।


