নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং, ফ্রিল্যান্সিং কত প্রকার, ফ্রিল্যান্সিং কি মোবাইলে করা যায়, ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি, ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ কি, ফ্রিল্যান্সার কি, ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যৎ কি, ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন,

ফ্রিল্যান্সিং কি? এটি কিভাবে করতে হয়?

ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে মুক্তপেশা। যদিও এটি মুক্ত পেশা হিসাবে পরিচিত কিন্তু মূলক ক্লায়েন্টে কাজ সময় মত ডেলিভারী দিতে হয়। সাধারণ পেশা বা চাকরি বা ব্যবসা এরকম পেশায় কাজে সীমা বা কর্মঘন্টা নির্ধারিত থাকলেও মুক্ত পেশা অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সিং এ সময় এবং কাজের কোন পরিসীমা নেই।

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখবেন?

প্রথমত অনলাইনে এখন ফ্রিল্যান্সিং শেখার প্রচুর রিসোর্স রয়েছে যা ঘাটাঘাটি করে আপনি শিখে নিতে পারেন। তবে এজন্য প্রথমেই আপনাকে কম্পিউটার বেসিক প্রশিক্ষণ আপনাকে গ্রহণ করতে হবে। তা আপনি কোন ইনস্টিটিউটে গিয়েও করতে পারেন অথবা কোন আত্মীস্বজনের নিকট থেকে ফ্রিতে নিয়ে নিতে পারেন। বেসিক ধারণা মানে আপনাকে কম্পিউটার চালনা শিখতে হবে। হয়তো আপনি মোবাইল দিয়ে এই আর্টিকেলটি পড়ছেন আপনি বলবো আপনি কম্পিউটারের বেসিক স্কিল গ্রহণ করুন অর্থাৎ টাইপিং এবং সার্চিং টি ভালভাবে শিখে নিন। অথবা আপনি অনলাইন থেকে এখনি দেখে নিন কিভাবে টাইপিং শিখতে হয় ভিডিও পেতে এখানে ক্লিক করুন। এখানে দেওয়া লিংক হতে খুব সহজেই ইউটিউবের মাধ্যমে টাইপিং করা শিখে নিতে পারেন। দ্বিতীয়ত কোন তথ্য কিভাবে সার্চ করতে হয় সেটি কিন্তু আপনাকে জেনে নিতে হবে। আসুন আমরা ভিডিও দেখে জেনে নেই কিভাবে কোন তথ্য কিভাবে সার্চ করতে হয়। এ দুটি বিষয় আয়ত্ত করে নিতে পারলে আপনি অনলাইনের ফ্রি রিসোর্স দিয়েই ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতা অর্জন শুরু করতে পারবেন।

অন্যদিকে চাইলে আপনি পেইড কোর্স কোর্সের মাধ্যমে আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং হাতে খড়ি করে নিতে পারেন এজন্য আপনাকে আমি পড়ামর্শ দিবে সাজানো গুছানো কোন কোর্স ম্যাটারিয়াল কিনে ফ্রিল্যান্সিং শিখুন যেমন ধরুন আপনার হাতে যদি কিছু টাকা থাকে অর্থাৎ তা মাত্র ৩৫০-৫০০ টাকা ব্যয় করে 10minutes School থেকে একটি বাস্তব এবং ভালমানের কোর্স করে নিতে পারেন। এ জন্য আপনাকে আমি জয়িতা ব্যানার্জির ঘরে বসে freelancing কোর্সটি আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং শেখাতে সাহায্য করবে। আসুন। আসুন জেনে নেই এ কোর্সটিতে কি কি শিখতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং শিখুন ঘরে বসে

কাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং?

ফ্রিল্যান্সিং কাদের জন্য এ প্রশ্নটি মনে হয় অবান্তর। মূলত যাদেরই অর্থে প্রয়োজন তাদের জন্যই ফ্রিল্যান্সিং করা প্রয়োজন। ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে একটি কথাই বলবো আমি তা হলো সবাই আপনাকে ঠকাতে পারে, দেশ আপনাকে হয়তো উপযুক্ত স্থান না দিতে পারেন কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং আপনাকে কোনভাবে ঠকাবে না, এখানে পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করতে হয়। আপনার পরিশ্রমের সঠিক মূল্য আপনি দেশে নাও পেতে পারেন কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে বিদেশীদের কাছ থেকে প্রকত এবং সঠিক মূল্য আপনি ঠিকই পাবেন। ফ্রিল্যান্সিং বলতে মূলত অনেকেই মনে করেন যে, বিদেশী কোন ক্লায়েন্টের কাজ করতে হবে খুব ভাল ইংরেজী জানতে হবে অথবা তাদের সাথে কনভার্সেশন করে কাজ নিতে হবে। এটি আমাদের জন্য না এটি হয় বুয়েট চুয়েট অথবা খুয়েটে পড়ে তাদের জন্য এবং হয়তো খুব ভাল আইটি জানতে হবে তাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং এটি মোটেও ঠিক নয়। যে পেশা থেকে আপনি দেশী বা বিদেশী মুদ্রায় ঘসে বা অফিসে বসে কোন টাইম সিডিউল ঠিক না রেখে অর্থ উপার্জন করবেন যেখানে আপনার ইচ্ছায় কর্ম সম্পাদন হবে সেটিই মূলত মুক্ত পেশা। যেখানে আপনার বস থাকবে না, ক্লায়েন্ট থাকবে কিন্তু বস নয়। যারা বেকার এবং চাকরির পাশাপাশি কিছু করতে চান তাদের জন্য মূলত মুক্ত পেশা। তাছাড়া অনলাইনে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করতে হবে।

চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং

জি অবশ্য। ফ্রিল্যান্সিং চাকরির পাশাপাশি করা যায়। তবে আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার ডট কম এবং ফাইবার এ কাজ করার জন্য সব সময়ই অনলাইনে থাকার প্রয়োজন পড়ে। তবুও একবার মার্কেট ক্রিয়েট হয়ে গেলে চাকরির পাশাপাশি এসব প্লাটফর্মেও কাজ করা যায়। তবে চাকরির পাশাপাশি যদি আপনি ইউটিউবিং করেন এবং ব্লগিং করেন তা জেনারেল ব্লগিং বা এ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং করেন তবে সেটি আপনার জন্য উপযুক্ত হবে। ৯-৫ টা চাকরির আওয়ার বাদে অবশিষ্ট সময় আপনার ফ্যামিলিকে দেওয়ার পাশাপাশি আপনি ইউটিউবিং বা ব্লগিং করে মোটামুটি ভাল অর্থ উপার্জন করতে পারেন। কেউ কেউ চাকরির পাশাপাশি সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করেও ভাল অর্থ উপার্জন করছেন। তাই বেকার বা অলস সময় পার না করে বন্ধের দিন বা অবসর সময় আপনি ইউটিউবিং বা ব্লগিং করে ভাল উপার্জন করে জীবনকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারেন।

টিউশনি নাকি ফ্রিল্যান্সিং?

ছাত্রত্ব থাকা অবস্থায় অনেকেরই ঝোক যে, যদি একটি বা দুটি টিউশনি করাতে পারতাম তবে ভাল অর্থ উপার্জন করতে পারতাম। আমি বলবো আপনি ম্যানুয়াল টিউশনি ছাড়ুন আপনি যদি ভাল টিউটর হয়ে থাকেন তবে অনলাইনে টিউটর হয়ে ইউটিউব হতে ভাল অর্থ উপার্জন করতে পারেন। আপনি যদি ভাল লিখতে পারেন অসংখ্য অনলাইন পত্রিকা রয়েছে তাতে আপনি ঘরে বসে লেখা পাঠিয়ে আয় করতে পারেন। একটি টিউশনির জন্য আপনি যে সময় ব্যয় করেন তা দিয়ে যদি আপনি প্রতিদিন ব্লগিং বা ইউটিউবিং করেন তবে আপনি টিউশনি দিয়ে যা পান তা হয়তো শুরুতে না পেলেও ধীরে ধীরে ১০টি টিউশনির সমান অর্থ অনলাইন হতে আয় করতে পারেন। মাত্র ২-৬ মাস অনলাইনে পরিশ্রম করে ৮-২০ হাজার টাকা এখন অনেকেই আয় করছেন। আপনি পারবেন না ভাবছেন? অবশ্যই পারবেন আপনারও কোন না কোন গুণ রয়েছে যা থেকে আপনি অনলাইনের কাজে ব্যয় করতে পারেন। অন্য দিকে যদি কোন গুন খুজে না পান তবে আপনি স্কিল অর্জন করতে চেষ্টা করুন। কোন স্কিলটি শিখবেন? কোন স্কিলটি আপনার জন্য উপযুক্ত তা খুজে বের করুন। অনলাইনে অসংখ্যা স্কিল এর ডিমান্ড রয়েছে। কোন স্কিলটি শিখবো লিংকটি ভিজিট করে কিছু স্কিল দেখে নিন। ইউটিউব এখন অনেক সমৃদ্ধ আপনার উপযুক্ত লার্নিং প্লাটফর্ম।

ক্লায়েন্টেস সার্ভিস মানেই কি ফ্রিল্যান্সিং?

হ্যাঁ ফ্রিল্যান্সিং ক্লায়েন্ট বেইজ সার্ভিসে হয়ে থাকে। তবে নন-ক্লায়েন্ট বেইজ সার্ভিসও অনলাইনে রয়েছে সেগুলোও ফ্রিল্যান্সিং এর আওতায় আসবে। আপনি কিন্তু আপনার বস হয়ে উঠতে পারেন। কেবল ফ্রিল্যান্সিং করেই অনলাইন হতে ভাল আয় করা সম্ভব আপনার ইচ্ছামত কাজ করার মাধ্যমেই। আপনার আজ ভাল লাগছে না আপনি চাইলে আজ কাজ বন্ধ রাখতে পারেন। তবে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ দিন আর রাত বলে কিছু নেই। একজন ফ্রিল্যান্সার দিন রাত পরিশ্রম করে যায়। টার্গেট নিয়েই সে পরিশ্রম করে থাকে। মনে রাখবেন সে , তিনি , ওনি আজ অনেক টাকা অনলাইনে থেকে কামাচ্ছে এমনিতেই নয়, অনেক সময় দিয়ে পরিশ্রম করে তাকে স্কিল অর্জন করতে হয়েছে তারপর অনলাইনে আয় করা সম্ভব হচ্ছে। তাই কারও সফলতা রাতারাতি আসে নাই। অনলাইনে সফলতা পেতে হলে লেগে থাকতে হবে।

অনলাইনে কাজ করতে কি পরিমান ইনভেস্ট বা হাতিয়ার লাগবে?

অনলাইনে কাজ করার জন্য আপনার মাত্র ৩০-৫০ হাজার টাকা প্রাথমিক ইনভেস্টমেন্ট হলেই হয়ে যাবে। আপনি মোটামুটি মানের ২৫-৩০ হাজার টাকা মূল্যের রিকন্ডিশন ল্যাপটপ কিনে নিন। চাইলে আপনি কমদামে সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপগুলো এই লিংক হতে দেখে নিতে পারেন। এটি কোন স্পন্সর লিংক নয়। অন্যদিকে আপনি ১৫-২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্ট ফোন কিনে নিন। ব্যাস এভাবেই শুরু করে দিন আপনার ফ্রিল্যান্সিং জার্নি। আপনি যদি মার্কেটিংয়ের ছাত্র হয়ে থাকেন তবে আমি আপনাকে বলবো যে, আপনি সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শিখা শুরু করে দিন এ খাতে বেশ সুযোগ রয়েছে।

ফ্রিল্যান্সিং খাতে আয় কেমন?

ফ্রিল্যান্সিং খাতে আয় কেমন তা জানতে আপনি আপনার সন্তানকে ইঞ্জিনিয়ার বা ডাক্তার বানানোর কথা ভুলে যাবেন। আমি শুধু এ টুকুই বলবো যে, একজন ডাক্তার সৎ ভাবে সারা জীবনে যে অর্থ আয় করবে একজন ফ্রিল্যান্সার এক বছরে সেই অর্থ উপার্জন করে থাকেন। আসুন আমরা আপওয়ার্ক এ কাজ করেন এমন একজন ফ্রিল্যান্সার প্রতিমাসে ১-১০ লক্ষ টাকা আয় করে থাকেন। অন্য দিকে এমন ব্লগার রয়েছেন যে ১২,০০০ ডলার একদিনেও আয় করে থাকেন। Freelancing । ফ্রিল্যান্সিং করতে কি প্রয়োজন

Blogging Income । ব্লগ হতে কেমন আয় আসে?

আরও জানুন: ফ্রিলান্সিং কি? টিউশানি নাকি ফ্রিল্যান্সিং

(Visited 344 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *