সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ গমনের নিয়ম ২০২৩ । বিদেশ ভ্রমণের জিও ইংরেজী হয় কেন?

সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ গমনের নিয়ম ২০২৩ । বিদেশ ভ্রমণের জিও ইংরেজী হয় কেন?

সরকারি কর্মচারীগণের জিও সাধারণত নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বা সর্বশেষ কর্তৃপক্ষ জারি করে থাকে- জিও জারির পর বিদেশ ভ্রমণ করা যায় – সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ গমনের নিয়ম ২০২৩

এনওসি দিয়ে কি বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে?– এনওসি মূলত জারি করা হয় পাসপোর্ট করার অনাপত্তি পত্র হিসেবে।সরকারি কর্মচারীকে ব্যক্তিগত বা সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণ করতে হলে জিও বা সরকারি আদেশ বা বহি: বাংলাদেশ ছুটির আদেশ জারি করতে হবে। সরকারি জিও বা বহি: বাংলাদেশ ছুটি ব্যতিত ব্যক্তিগত কাজে ভ্রমণ সরকারি আইনের লঙ্গন হয়। এতে বিভাগীয় মামলা রূজু হতে পারে।

জিও জারির কতদিনের মধ্যে যাত্রা শুরু করতে হবে? ছুটি হইতে প্রত্যাবর্তনের পর যোগদানপত্র দাখিলের মাধ্যমে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি রিপোর্ট করিতে হইবে। এই বিধি অনুরূপ বিধান এফ আর (এস আর) ২৪০ তে সন্নিবেশিত আছে।দুই মাসের অধিককাল ছুটি ভোগের পর গেজেটেড কর্মকর্তা তাহার পদায়নের আদেশ গ্রহণ করিবেন। অনধিক দুই মাসের ছুটি ভোগের পর অন্যকোন আদেশ না দেওয়া হইলে পূর্ব পদেই যোগদান করিবেন। বিএসআর পার্ট ১ এর বিধি-(৩৪) অন্য কোন বিশেষ আদেশ না থাকিলে ছুটি মঞ্জুরের তারিখের ৩৫ দিনের মধ্যে ছুটি আরম্ভ হইবে।

জিও কত দিন কার্যকর থাকে? বিএসআর রুলস- ৩৪ অনুযায়ী অন্যকোন বিশেষ আদেশ না থাকিলে ছুটি মঞ্জুরের তারিখের ৩৫ দিনের মধ্যে ছুটি আরম্ভ হইবে৷ জিও হওয়ার পর আবেদন করে ভিসা পেতে লাগে দু মাস সময়ও লেগে যায়। বহি: বাংলাদেশ ছুটির নিয়ম অনুযায়ী ৩৫ দিনের মধ্যে ছুটি শুরু করতে হবে তবে সার্কুলারে বা জিওতে যদি যাত্রার প্রকৃত তারিখ হতে কার্যকর কথাটি উল্লেখ থাকে তবে আপনি ভিসা হওয়ার পরও যেতে পারেন। যদিও অনেকেই মনে করেন যে, ভিসার মেয়াদ যেহেতু ৬ মাস তাই জিও’র মেয়াদও ৬ মাস কার্যকর থাকবে কিন্তু ব্যাপারটি এমন নয়।

ব্যক্তিগত কারণে সরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের আবেদনপত্র । বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত পরিপত্র

তবে অনেকেই ৩৫ দিনের অধিক এবং ৬ মাসের কম সময়ের মধ্যে একই জিও দিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করছেন এবং তাতে কোন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে না। যদি জিওতে উল্লেখ থাকে ৩৫ দিনের মধ্যে যাত্রা করতে হবে তবে কর্তৃপক্ষ আপনাকে ছুটি নাও প্রদান করতে পারেন বা বিদেশ যেতে বাধা দিতে পারে এবং পুনরায় জিও জারির প্রয়োজন হতে পারে। বিদেশীদের বোঝার স্বার্থেই মূলত জিও ইংরেজীতে জারি করা হয়।

বহিঃ বাংলাদেশ ছুটির আদেশ

Caption: Click GO Detail to Know More

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে করণীয় ২০২৩ । যে সকল বিষয় মেনে চলতে হবে

  1. সচিব/ভারপ্রাপ্ত সচিবের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আয়ােজক সংস্থা কর্তৃক Business Class-এর টিকেটের প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে;
  2. মন্ত্রণালয়ের সচিব/ডারপ্রাপ্ত সচিব এবং মন্ত্রণালয়/বিভাগের যুগ্ম-সচিব ও অধীনস্থ সংস্থা প্রধানের একত্রে বিদেশ ভ্রমণ শুধুমাত্র জাতীয় স্বার্থে অপরিহার্য ক্ষেত্র ছাড়া পরিহার করতে হবে। সেক্ষেত্রে অনুরূপ ভ্রমণ অনুমােদনের জন্য প্রেরিত প্রস্তাবে সুনির্দিষ্ট কারণ ও যৌক্তিকতা উল্লেখ করতে হবে।
  3. মন্ত্রণালয়ের সচিব/ভারপ্রাপ্ত সচিবগণ সরকারী কাজে বিদেশ ভ্রমণ বছরে সর্বোচ্চ ৪ (চার) বারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন। জাতীয় স্বার্থে, অপরিহার্য ক্ষেত্রে যেমন ৪ পদাধিকার বলে Negotiation, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, চুক্তি স্বাক্ষর, আন্তর্জাতিক চিবের জন্য বাধ্যতামূলক এমন ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অনুরূপ ভ্রমণ অনুমােদনের জন্য প্রেরিত প্রস্তাবে সুনির্দিষ্ট কারণ ও যৌক্তিকতা উল্লেখ করতে হবে;
  4. বিভিন্ন সেমিনার/ওয়ার্কশপে অংশ গ্রহণের জন্য সরকারের সচিব/ভারপ্রাপ্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব প্রেরুণকালে আমন্ত্রণকারী সংস্থা কর্তৃক কোন পর্যায়ের কর্মকর্তাকে আমন্ত্রণ জানানাে হয়েছে এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশ থেকে কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা আমন্ত্রিত হয়েছেন ও অংশগ্রহণ করবেন তা সংগ্রহ করে সংযুক্তি হিসেবে সন্নিবেশ করতে হবে;
  5. সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের সচিব/ভারপ্রাপ্ত সচিবগণ বিদেশ ভ্রমণ শেষে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর এতদসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর নিকট পেশ করবেন। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়/বিভাগকে সকল বৈদেশিক ভ্রমণ সংক্রান্ত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করতে হবে।
  6. বিদেশ ভ্রমণকালে স্বামী/স্ত্রী (স্পাউস) সহগামী/অনুগামী হলে তার ক্ষেত্রেও একই কর্তৃপক্ষের অনুমােদন প্রয়োজন হবে। এ সংক্রান্তি প্রস্তাবে ব্যয়ের উৎস বর্ণনা করতে হবে এবং কোনক্রমেই এই ভ্রমণে বাংলাদেশ সরকার/সংস্থা/ঋণের অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
  7. স্বশাসিত সংস্থাকে অর্পিত (ডেলিগেটেড) ক্ষমতা প্রেষণে নিয়ােজিত কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোভ্য হবে, তবে এপ বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি প্রদানের বিষয় মূল নিয়ােগকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

অবশিষ্ট ছুটি কি বাতিল করা যাবে?

হ্যাঁ। সরকারি ভ্রমণ বা ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণ শেষে অবশ্যই দ্রুত কাজে যোগদান করতে হবে। বহি: বাংলাদেশ ছুটি দেশে ফিরে ভোগ করা যাবে না। ভিসা হচ্ছে একটি অনুমতি পত্র মাত্র যা একটি দেশ কোন ভিন্ন দেশের নাগরিককে সংশ্লিষ্ট দেশে প্রবেশের ও অবস্থানের জন্য সরবরাহ করে থাকে। ভিসা ছাড়া যদি কোন নাগরিক অন্য কোন দেশে প্রবেশ করে বা অবস্থা বা বসবাস করে তাদের বলা হয় অবৈধ অভিবাসী। নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ার পূর্বে দেশে ফিরলে অবশিষ্ট ছুটি বাতিল করা যাবে এবং তা সার্ভিস বহিতে ছুটির হিসাবে জমা থাকবে।

BSR part 1 rules 34 appendix VIII বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস পার্ট ১ এ বহি: বাংলাদেশ ছুটি নিয়ে কি লেখা আছে?

BSR part 1 rules 34 appendix VIII

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *