সরকারি আপডেট নিউজ

১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন পে-স্কেল: সচিব কমিটির সভায় ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপ নিয়েছে। গতকাল ২৪ জুন সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে কৌশলগত ও নীতিগত ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সচিব কমিটির সভায় অনুমোদিত ৫টি প্রধান সিদ্ধান্ত নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

১. ৩ ধাপের বদলে ২ ধাপে বাস্তবায়ন

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো তিনটি পৃথক অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত আর্থিক সুবিধা দিতে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে ৩টি জটিল ধাপের পরিবর্তে মাত্র ২টি ধাপে পুরো পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে।

২. গ্রেডভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ

আর্থিক চাপ এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেশি সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম ধাপে:

  • ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে মূল বেতন ৬০% বৃদ্ধি পাবে।

  • ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে মূল বেতন ৪০% বৃদ্ধি পাবে।

৩. ১ জুলাই থেকে কার্যকর ও বকেয়া প্রাপ্য

প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও আইনি ভেটিংয়ের কারণে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন বা বর্ধিত বেতন হাতে পেতে ১ থেকে ২ মাস বিলম্ব হতে পারে। তবে প্রজ্ঞাপন যখনই জারি হোক না কেন, এই নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের টাকা পরবর্তীতে বকেয়া (Arrears) হিসেবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রদান করা হবে।

৪. বেতন বৈষম্য দূরীকরণে বিশেষ রোডম্যাপ

সরকারি চাকরিতে বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা গ্রেডভিত্তিক বেতন বৈষম্য নিরসনে সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই বৈষম্যের স্থায়ী অবসান ঘটিয়ে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে একটি বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

৫. স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়া

পে-স্কেল ঘোষণার পর যেন কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত জটিলতা বা ফিক্সেশন সংক্রান্ত ত্রুটি তৈরি না হয়, সেজন্য বিশেষ কারিগরি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ (Fixation) প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে।

প্রত্যাশিত প্রভাব: সচিব কমিটির এই ৫টি যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি চাকরিতে বিরাজমান বেতন বৈষম্য অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের সাধারণ কর্মচারীদের প্রথম ধাপেই ৬০% বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের মাঝে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে আসবে। আইনি ও প্রশাসনিক ধাপগুলো দ্রুত সম্পন্ন করে শীঘ্রই এর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *