৩১ জানুয়ারির মধ্যে গেজেট প্রকাশের দাবি: ১১-২০ গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির জোরালো বার্তা - Technical Alamin
Latest News

৩১ জানুয়ারির মধ্যে গেজেট প্রকাশের দাবি: ১১-২০ গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির জোরালো বার্তা

সরকারি চাকুরিজীবীদের ১১-২০ গ্রেডের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করতে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে যে, অধিক বিলম্ব বা অতিরিক্ত পর্যালোচনার ফলে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এই আশঙ্কা থেকে কর্মচারীদের একটি বড় অংশ ‘বৈষম্যের যাঁতাকল’ আপাতত মেনে নিয়ে হলেও আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছেন।

বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের আভাস

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়িত হলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা আর্থিকভাবে বড় ধরনের স্বস্তি পাবেন। বিশেষ করে ২০তম গ্রেডের বেতন কাঠামোতে আমূল পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

২০তম গ্রেডের তুলনামূলক চিত্র:

  • বর্তমান মূল বেতন (গড়): ১৬,৯৫০ টাকা (ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাসহ)।

  • প্রস্তাবিত নতুন বেতন: ৪১,৯০০ টাকা।

  • নিট বৃদ্ধি: প্রায় ২৫,০০০ টাকা।

দ্রুত প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজনীয়তা কেন?

দীর্ঘদিন ধরে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীরা বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, বর্তমানে বিষয়টি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে বেশি কাটাছেঁড়া বা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে শেষ মুহূর্তে গেজেট প্রকাশ স্থগিত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কৌশলগত কারণেই এখন ‘দ্রুত গেজেট’ প্রকাশকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন কর্মচারীরা।

“আমাদের প্রধান লক্ষ্য এখন ৩১ জানুয়ারির মধ্যে গেজেট হাতে পাওয়া। অল্প কিছু বৈষম্য থাকলেও বেতন ২৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাওয়াটা এই মুহূর্তে আমাদের জন্য বড় সান্ত্বনা ও প্রাপ্তি।” — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী প্রতিনিধি।

উপসংহার

দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকা নিম্নধাপের সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে এই বেতন বৃদ্ধি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্মচারীদের এই দাবির প্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করে কি না।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৫’-এর খসড়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চতর গ্রেড (১-৯) এবং নিম্নতর গ্রেডগুলোর (১১-২০) মধ্যে বেতনের বিশাল ব্যবধান বা ‘গ্রেড বৈষম্য’ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা। আকাশ-পাতাল ব্যবধান প্রস্তাবিত স্কেল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯-এর কর্মকর্তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে চোখে পড়ার মতো। এই স্তরে এক গ্রেড থেকে অন্য গ্রেডের গড় ব্যবধান প্রায় ১৪,৩৬০ টাকা। বিপরীতে, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য এই ব্যবধান নামমাত্র। এই ১০টি গ্রেডের মধ্যে প্রতি ধাপে গড় ব্যবধান মাত্র ৫৫৫ টাকা। বিশ্লেষণে বৈষম্যের চিত্র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একজন কর্মকর্তা যখন ১ম গ্রেড থেকে ২য় গ্রেডে উন্নীত হন, তখন তার বেতন একলাফে বাড়ে ২৮,০০০ টাকা। অথচ ১২তম গ্রেড থেকে ১৩তম গ্রেডে পদোন্নতি পেলে একজন কর্মচারীর বেতন বাড়বে মাত্র ৩০০ টাকা। অর্থাৎ, উচ্চস্তরের মাত্র একটি ধাপের ব্যবধান নিম্নস্তরের প্রায় ৯৩টি ধাপের সমান। এছাড়া, ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত মোট বেতনের পার্থক্য যেখানে ১,১৪,৯০০ টাকা, সেখানে ১১তম থেকে ২০তম—এই ১০টি গ্রেড মিলিয়ে মোট ব্যবধান মাত্র ৫,০০০ টাকা। ক্ষুব্ধ নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১১-২০ গ্রেডের কয়েকজন সরকারি কর্মচারী জানান, "বর্তমান বাজারে যেখানে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, সেখানে মাত্র ৩০০ বা ৫০০ টাকা ইনক্রিমেন্ট বা গ্রেড ব্যবধান দিয়ে জীবন চালানো অসম্ভব। কর্মকর্তাদের বেতন যে হারে বাড়ানো হচ্ছে, আমাদের ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন নেই।" অর্থনীতিবিদদের মত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বেতন কাঠামোতে এই ধরনের বিশাল পার্থক্য থাকলে প্রশাসনে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। তাদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বেশি পড়ে, তাই নিচের গ্রেডগুলোতে ব্যবধান অন্তত সম্মানজনক পর্যায়ে রাখা উচিত। সামাজিক সাম্য এবং সরকারি সেবার মান বজায় রাখতে এই প্রস্তাবিত স্কেল পুনর্বিবেচনা করে বৈষম্য কমিয়ে আনার দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *