অতিরিক্ত মূল্যে এলপিজি বিক্রি করলেই কঠোর ব্যবস্থা : সারাদেশে অভিযানের নির্দেশ
দেশে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পিএমএফসি-১ শাখা থেকে এক জরুরি পত্রে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য পরামর্শক আবু সালেহ মোহাম্মদ ইমরান স্বাক্ষরিত ওই পত্রে জানানো হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে এলপিজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
পত্রের মূল নির্দেশনাসমূহ হলো:
-
অভিযান পরিচালনা: দেশের সকল অঞ্চলে যেখানেই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হবে, সেখানেই মোবাইল কোর্ট বা প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
-
আইনানুগ ব্যবস্থা: যারা সরকারি মূল্য তালিকা অমান্য করে অতিরিক্ত মুনাফা লোটার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, খুচরা পর্যায়ে অনেক বিক্রেতা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল এবং জেলা শহরগুলোতে তদারকির অভাবে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
ভোক্তাদের প্রত্যাশা
মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর নির্দেশনার পর সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং অপরাধীদের তাৎক্ষণিক জরিমানা বা শাস্তির আওতায় আনলে এলপিজির বাজার দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নির্দেশনা কার্যকর করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

