গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক: ১ আগস্ট থেকে নতুন যুগে প্রবেশ করছে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা
দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সব ধরনের গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৪ এবং ১২৪(১)(খ)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে গণপরিবহনের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যানবাহন পরিচালনার পুরো সময় জিপিএস সচল ও কার্যকর রাখতে হবে। তৃতীয়ত, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা ও নবায়নের সময় অন্যান্য আইনগত শর্ত পূরণের পাশাপাশি জিপিএস সংযুক্তি নিশ্চিত হওয়ার পরই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ নবায়ন করবে।
কেন নেওয়া হলো এই সিদ্ধান্ত?
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দেশের সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, দুর্ঘটনা কমানো, যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই জিপিএস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে অনেক গণপরিবহন নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচল, অতিরিক্ত গতি, অনিয়মিত স্টপেজ ব্যবহার এবং সময়সূচি লঙ্ঘনের অভিযোগে সমালোচিত। জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এসব বিষয় কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিপিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো বাস বা গণপরিবহনের অবস্থান, গতি, রুট পরিবর্তন কিংবা অনিয়ম তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যাবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে।
যাত্রী ও প্রশাসনের জন্য কী সুবিধা?
নতুন এই ব্যবস্থার ফলে—
- গণপরিবহনের অবস্থান রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে;
- অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালনা শনাক্ত করা সহজ হবে;
- রুট পারমিট লঙ্ঘনের ঘটনা কমবে;
- দুর্ঘটনা তদন্তে নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে;
- যাত্রী নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা বাড়বে;
- ভবিষ্যতে স্মার্ট ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জিপিএসভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা ইতোমধ্যে সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশেও ডিজিটাল পরিবহন ব্যবস্থার দিকে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিবহন মালিকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ
তবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পরিবহন মালিকদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হবে। প্রতিটি যানবাহনে অনুমোদিত জিপিএস ডিভাইস স্থাপন এবং তা নিয়মিত সচল রাখার দায়িত্ব মালিকপক্ষের ওপর বর্তাবে। পাশাপাশি বিআরটিএকে একটি কার্যকর মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে, যাতে সংগৃহীত তথ্য বাস্তবিক অর্থে সড়ক ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগে।
কার্যকর হবে ১ আগস্ট
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে দেশের সব গণপরিবহনের জন্য জিপিএস সংযুক্তি বাধ্যতামূলক হবে। বিআরটিএ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক, অপারেটর ও প্রশাসনিক সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে জিপিএস বাধ্যতামূলক করার এই উদ্যোগ দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম কমিয়ে নিরাপদ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

