এখন ঘরে বসেই মিলবে ইউনিয়ন পরিষদের সকল সনদ: ভোগান্তি কমাতে নতুন ডিজিটাল সেবা
বর্তমান সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা এখন সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয়। এখন আর নাগরিক সনদ বা ওয়ারিশ সনদের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। স্মার্টফোন ব্যবহার করে ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে প্রায় সব ধরনের সনদ। ডিজিটাল এই ব্যবস্থার ফলে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি দূর হয়েছে দালালদের দৌরাত্ম্য।
অনলাইনে যেসব সনদ পাওয়া যাচ্ছে নতুন এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একজন নাগরিক নিচের সনদগুলোর জন্য সরাসরি আবেদন করতে পারবেন:
-
নাগরিক সনদ: নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র হিসেবে।
-
ওয়ারিশ সনদ: উত্তরাধিকারী নির্ণয়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
-
চারিত্রিক সনদ: সরকারি-বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়।
-
অবিবাহিত বা বিবাহিত সনদ: ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ব্যবহার্য।
-
মৃত্যু ও প্রতিবন্ধী সনদ: মৃত ব্যক্তির তথ্য ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য।
-
ভূমিহীন সনদ ও ট্রেড লাইসেন্স: ব্যবসা পরিচালনা ও ভূমিসংক্রান্ত কাজের জন্য।
সনদ পাওয়ার সহজ ধাপসমূহ পরিষদে না গিয়ে মোবাইলের মাধ্যমে সনদ সংগ্রহ করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:
১. পছন্দের সাইটে প্রবেশ: প্রথমে আপনার মোবাইলের ব্রাউজার থেকে upsheba.com, eparishad.com অথবা unionseba.com লিংকে প্রবেশ করতে হবে।
২. আবেদন প্রক্রিয়া: সাইটে প্রবেশ করে আপনার নিজস্ব ইউনিয়ন নির্বাচন করতে হবে। এরপর যে সনদের প্রয়োজন সেটি সিলেক্ট করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে।
৩. ফি প্রদান: আবেদন শেষে নির্ধারিত সরকারি ফি অনলাইন ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট) বা কার্ডের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
৪. ডাউনলোড ও প্রিন্ট: আবেদনটি চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করার সাথে সাথেই মোবাইলে একটি মেসেজ আসবে। এরপর সাইট থেকে সনদটি PDF আকারে ডাউনলোড করে যেকোনো দোকান থেকে প্রিন্ট করে নেওয়া যাবে।
নিরাপত্তা ও যাচাইয়ের সুযোগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রাপ্ত এই সনদগুলো শতভাগ নির্ভরযোগ্য। প্রতিটি সনদে একটি QR Code থাকে। স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে এই কোডটি স্ক্যান করলেই তাৎক্ষণিকভাবে সনদের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। ফলে জাল সনদ তৈরির কোনো সুযোগ থাকছে না।
হেল্পলাইন ও সতর্কতা আবেদন প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যায় পড়লে বা তথ্যের প্রয়োজন হলে সরকারি হেল্পলাইন নম্বর ১৬২৫৬-তে যোগাযোগ করা যাবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আবেদন করার সময় অবশ্যই সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে। অনলাইনে ফি প্রদানের পর প্রাপ্ত ডিজিটাল রশিদটি ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা উচিত। এছাড়া আবেদনের জন্য সচল ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
ঘরে বসেই এই সেবা চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ইউনিয়ন পরিষদের এই ডিজিটাল বিপ্লব স্মার্ট ইউনিয়ন গঠনে এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

