সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ: একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ, পেনশনারদের জন্য ১ কোটি টাকা - Technical Alamin
ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ

সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ: একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ, পেনশনারদের জন্য ১ কোটি টাকা

দেশের নাগরিকদের সঞ্চয় অভ্যস্ততা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ দিলেও, সুদের উচ্চ হার এবং সরকারি ঋণের বোঝা কমাতে ব্যক্তিগত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, একক নামে সব ধরনের সঞ্চয়পত্র মিলিয়ে একজন স্বাভাবিক পুরুষ বা মহিলা সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবেন।

👤 সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সীমা

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে মোট ৫০ লক্ষ টাকার সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে স্কিম ভেদে এর বন্টনে কিছু ভিন্নতা রয়েছে:

  • মহিলা/৬৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ: এই ক্যাটাগরির বিনিয়োগকারীরা শুধু পরিবার সঞ্চয়পত্রেই সর্বোচ্চ ৪৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন। অবশিষ্ট ৫ লক্ষ টাকা তারা ‘তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র’ অথবা ‘৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র’-এ বিনিয়োগ করতে পারবেন।

  • ৬৫ বছরের কম বয়সী স্বাভাবিক পুরুষ: এই পুরুষ বিনিয়োগকারীরা ‘তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র’ এবং ‘৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র’—এই দুটি স্কিম মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন।

    • উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ ‘তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র’-এ ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন, তবে অবশিষ্ট ২০ লক্ষ টাকা ‘৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র’-এ বিনিয়োগ করতে পারবেন। আবার, তিনি চাইলে এই দুটি স্কিমের মধ্যে তার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো অনুপাতে মোট ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে পারবেন (যেমন: একটিতে ২০ লক্ষ এবং অন্যটিতে ৩০ লক্ষ)।

👴🏼 পেনশনারদের জন্য বিশেষ সুবিধা

অবসরপ্রাপ্ত পেনশনারদের জন্য সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা রেখেছে সরকার। তারা সব ধরনের সঞ্চয়পত্র মিলিয়ে একক নামে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারেন। এই ১ কোটি টাকার বিনিয়োগ সীমা নিম্নলিখিতভাবে বিভক্ত:

  • পেনশন সঞ্চয়পত্র: সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা

  • বাকি তিন ধরনের সঞ্চয়পত্র (পরিবার, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক ও ৫ বছর মেয়াদি): এই তিনটি স্কিম মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা

এই কঠোর সীমা নির্ধারণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মূলত মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষকে সঞ্চয়পত্রের সুবিধা দেওয়া এবং উচ্চ আয়ের ব্যক্তিরা যাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে সরকারের ওপর সুদের বোঝা চাপাতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

বিভিন্ন সঞ্চয়পত্র ক্রয়সীমা ও প্রতি লাখে মুনাফার পরিমাণ কত?

বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের ক্রয়সীমা এবং প্রতি লাখে (১,০০,০০০ টাকা) সম্ভাব্য মুনাফার পরিমাণ জানতে চেয়েছেন। সরকারি নীতি অনুসারে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার এবং উৎসে করের (Tax) পরিমাণ নির্ভর করে মোট বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর (সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে সকল স্কিম মিলিয়ে ক্রমপুঞ্জীভূত বিনিয়োগ)

সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রধান ৪টি সঞ্চয়পত্রের ক্রয়সীমা ও প্রতি লাখে মুনাফার একটি ধারণা নিচে তুলে ধরা হলো। মনে রাখবেন, মুনাফার পরিমাণ উৎসে কর (TDS) কর্তনের পর নিট (Net) পরিমাণ হিসাবে দেখানো হয়েছে।

১. সঞ্চয়পত্রের প্রধান স্কিমগুলির ক্রয়সীমা এবং নিট মুনাফা

সঞ্চয়পত্রের নাম মেয়াদ সর্বোচ্চ ক্রয়সীমা (একক নামে) মুনাফার হার (সর্বোচ্চ, মেয়াদান্তে) প্রতি লাখে নিট মুনাফা (প্রায়) মুনাফা প্রদান পদ্ধতি
পরিবার সঞ্চয়পত্র ৫ বছর ৪৫ লক্ষ টাকা ১১.৫২% প্রতি মাসে ৮৬৪ টাকা মাসিক
পেনশনার সঞ্চয়পত্র ৫ বছর ৫০ লক্ষ টাকা (পেনশনের অর্থ দিয়ে) ১১.৭৬% প্রতি তিন মাসে ২৬৪৬ টাকা ত্রৈমাসিক
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ৩ বছর ৩০ লক্ষ টাকা ১১.০৪% প্রতি তিন মাসে ২৪৮৪ টাকা ত্রৈমাসিক
৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ৫ বছর ৩০ লক্ষ টাকা ১১.২৮% মেয়াদান্তে ৫০,৭৬০ টাকা (মোট) মেয়াদান্তে

২. গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ ও উৎসে কর সংক্রান্ত তথ্য

  • মোট বিনিয়োগের সীমা: একজন স্বাভাবিক পুরুষ/মহিলা সবধরণের সঞ্চয়পত্র মিলিয়ে একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারেন।

  • উৎসে কর (Tax Deduction at Source – TDS): মুনাফার হার নির্ধারণের পাশাপাশি, উৎসে করের হারও মুনাফার নিট পরিমাণকে প্রভাবিত করে।

    • ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সর্বমোট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তন করা হয় ৫% হারে।

    • ৫ লক্ষ টাকার বেশি সর্বমোট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তন করা হয় ১০% হারে। (পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ সাধারণত করমুক্ত থাকে, কিন্তু এর বেশি হলে ১০% হারে কর্তন হয়)।

লক্ষ্য করুন: উপরে দেখানো নিট মুনাফার হিসাবগুলো সাধারণত ১০% উৎসে কর কর্তনের পরে এবং বিনিয়োগের পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট ধাপের মধ্যে থাকলে প্রযোজ্য হয়। সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে মুনাফার হার বা উৎসে করের হার পরিবর্তিত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *