সোনালী ব্যাংক মিলিওনিয়ার স্কিম: কিস্তি মিস করলে কত টাকা জরিমানা? জেনে নিন বিস্তারিত নিয়ম
সোনালী ব্যাংকের সঞ্চয় স্কিমগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হচ্ছে ‘মিলিওনিয়ার স্কিম’। তবে নির্দিষ্ট সময়ে কিস্তি জমা দিতে ব্যর্থ হলে গ্রাহককে জরিমানা গুণতে হয়। সম্প্রতি ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী কিস্তি খেলাপি হলে জরিমানার হার ও হিসাব চালুর প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা হয়েছে।
কিস্তি খেলাপি হলে জরিমানার নিয়ম:
ছবির তথ্য অনুযায়ী, যদি কোনো গ্রাহক মাসিক কিস্তি জমা দিতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে প্রতি কিস্তির জন্য মাসিক ২.০০% (শতকরা দুই টাকা) হারে জরিমানা দিতে হবে।
আপনার উল্লিখিত ১৮,৪৫৫ টাকার মাসিক কিস্তির ক্ষেত্রে জরিমানার হিসাবটি হবে নিম্নরূপ:
এক মাসের কিস্তি মিস করলে জরিমানা: ১৮,৪৫৫ টাকার ২% = ৩৬৯.১০ টাকা।
(দ্রষ্টব্য: আপনি ১৮৫ টাকা জরিমানার কথা উল্লেখ করেছেন, যা সম্ভবত ১% হারে হিসাব করা। কিন্তু ব্যাংকের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এটি ২% হওয়ার কথা। তাই সঠিক অংকের জন্য ব্যাংকের শাখা বা সফটওয়্যার জেনারেটেড স্লিপ চেক করা জরুরি।)
দীর্ঘমেয়াদী খেলাপি ও হিসাব বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি:
১. ২ মাস পর্যন্ত: নির্ধারিত তারিখের মধ্যে কিস্তি না দিলে পরবর্তী মাসের নির্ধারিত তারিখের মধ্যে ২% জরিমানা দিয়ে হিসাবটি নিয়মিত করা যাবে। ২. ২ মাসের বেশি কিন্তু ৬ মাস পর্যন্ত: কিস্তি ২ মাসের বেশি এবং ৬ মাস পর্যন্ত বকেয়া থাকলে সরাসরি জমা দেওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে গ্রাহককে আবেদনের মাধ্যমে ২% জরিমানা এবং অতিরিক্ত ২৫০ টাকা রি-অ্যাক্টিভেশন ফি (সাথে ভ্যাট প্রযোজ্য) প্রদান করে হিসাবটি চালু করতে হবে। ৩. ৬ মাসের অধিক: যদি টানা ৬ মাসের বেশি কিস্তি বকেয়া থাকে, তবে ব্যাংক আপনার মিলিওনিয়ার স্কিম হিসাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দেবে।
মেয়াদপূর্তির আগে টাকা উত্তোলন:
হিসাব খোলার ১ বছরের মধ্যে যদি কেউ টাকা তুলে নিতে চান, তবে তিনি কোনো লভ্যাংশ পাবেন না। শুধুমাত্র তার জমা করা মূল টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
পরামর্শ: কোনো কারণে কিস্তি বকেয়া থাকলে দেরি না করে সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করুন। শাখায় গেলে ব্যাংক কর্মকর্তারা তাদের সিস্টেমে বকেয়া কিস্তি এবং তার বিপরীতে সঠিক জরিমানার পরিমাণ ও ভ্যাটসহ মোট কত টাকা জমা দিতে হবে তা জানিয়ে দেবেন।

৫০০০ টাকা প্রতি মাসে জমা দিলে মিলিওনিয়ার স্কিমে কত বছর লাগবে ১০ লক্ষ টাকা জমা হতে?
সোনালী ব্যাংকের মিলিওনিয়ার স্কিমে প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা জমা দিলে আপনি কত বছরে ১০ লক্ষ টাকা (১ মিলিয়ন) পাবেন, তার একটি সম্ভাব্য হিসাব নিচে দেওয়া হলো।
সাধারণত ব্যাংকের সুদের হার পরিবর্তনের সাথে সাথে এই কিস্তির মেয়াদ কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। সোনালী ব্যাংকের প্রচলিত চার্ট অনুযায়ী হিসাবটি অনেকটা এরকম:
৫,০০০ টাকার কিস্তিতে মিলিওনিয়ার স্কিম:
সময়কাল: প্রায় ১০ থেকে ১১ বছর (সুদের হারের ওপর ভিত্তি করে)।
আনুমানিক সময়: অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৫,০০০ টাকা কিস্তিতে ১০ বছর (১২০ মাস) মেয়াদে আপনি ১০ লক্ষ টাকার মালিক হতে পারেন।
অন্যান্য মেয়াদের একটি তুলনামূলক ধারণা (মিলিওনিয়ার স্কিম):
আপনি যদি দ্রুত ১০ লক্ষ টাকা পেতে চান, তবে কিস্তির পরিমাণ বাড়াতে হবে। নিচে একটি সাধারণ তালিকা দেওয়া হলো:
| মাসিক কিস্তি (টাকা) | সময়কাল (বছর) | মোট প্রাপ্তি (টাকা) |
| ১৮,৪৫৫ টাকা | ৪ বছর | ১০,০০,০০০ |
| ১৩,০০০ – ১৩,৫০০ টাকা | ৫ বছর | ১০,০০,০০০ |
| ৫,০০০ – ৫,২০০ টাকা | ১০ বছর | ১০,০০,০০০ |
| ৩,৫০০ – ৩,৭০০ টাকা | ১৩ বছর | ১০,০০,০০০ |
মনে রাখা জরুরি:
১. সরকারি কর ও ভ্যাট: মেয়াদ শেষে ১০ লক্ষ টাকা পাওয়ার সময় সরকার নির্ধারিত উৎস কর (Tax) এবং আবগারি শুল্ক (Excise Duty) কর্তন করা হবে। আপনার যদি টিন (TIN) সার্টিফিকেট থাকে তবে ১০% এবং না থাকলে ১৫% লাভ থেকে কর কেটে রাখা হবে।
২. হালনাগাদ তথ্য: ব্যাংকের সুদের হার সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়। তাই চূড়ান্ত কিস্তির পরিমাণ ও মেয়াদ জানার জন্য আপনার নিকটস্থ সোনালী ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করে বর্তমান ‘মিলিওনিয়ার স্কিম চার্ট’ দেখে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

